শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সুনামগঞ্জের ১৮ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ



সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই তালিকায় সুনামগঞ্জের ১৮ জনের নাম রয়েছে।
সুনামগঞ্জের তালিকায় যাদের নামোল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন- ধর্মপাশা উপজেলার মিসবাহ উদ্দিন আহমদ। যিনি স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে পাকিস্তান মুসলিম লীগের আহবায়ক ছিলেন। সুখদেবপুর গ্রামের জামাত-ই ইসলামের মৌলভী সিরাজুল ইসলাম। দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের ফয়জুয়নুর চৌধুরী, শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল খালেক, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মাসননগর (হাছননগর) ফারুক চৌধুরী, জগন্নাথপুর উপজেলার তাজপুর গ্রামের আজিজুর রহমান চৌধুরী, সুনামগঞ্জের মধ্য শহরের মনসুর আলী, আব্দুস সালাম, পশ্চিম বাজার ও উত্তর আরপিননগরের তাজিমুল্লাহ হোসাইন চৌধুরী, জানিগাঁওয়ের কামরুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলার জহিরপুর গ্রামের এবিএম মনির উদ্দিন চৌধুরী, ছাতক উপজেলার কারিদিঘীরচরের আব্দুল মতিন, মাদমাবপুরের আব্দুল হাই, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ষোলঘরের আবু হানিফ আহমদ ও পৌর শহরের মি. মাহমুদ আলী। প্রকাশিত তালিকায় উল্লেখ রয়েছে, ১৯৭২ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের পুলিশ বাদি হয়ে তারা মিয়া, মেমবুদ্দিন, নাজির বখত’র বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা নং ৩৮। সে সময় মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে, তা নামঞ্জুর করা হয়।
প্রকাশিত তালিকায় নাম ঠিকানা যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেভাবে হুবুহু এখানে তুলে ধরা হলো।
এই তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (যঃঃঢ়ং://সড়ষধি.মড়া.নফ/) পাওয়া যাবে। যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ ৭ম পৃষ্ঠায় দেখুন
করা হবে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ২৬ মার্চ। রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এসব কথা বলেন।
আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘যাঁরা ৭১ সালে রাজাকার, আলবদর, আলশামস বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পুরোনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল, সেটুকু প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া যেসব দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যাবে, শুধু সেটুকু প্রকাশ করা হবে। কোনো তালিকা শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে প্রকাশ করা হবে না। অন্যায়ভাবে কেউ তালিকাভুক্ত হবে না।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে রেকর্ডরুমের পুরোনো নথি চাওয়া হয়েছে। তাঁদের কোনো তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়নি। শুধু রেকডরুমে থাকা নথি পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে, এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।’ আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে যেসব রেকর্ড পাওয়া যাবে, সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী।
আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘৭১ সালে যত গেজেট হয়েছিল, সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ১৯৭১ সালে একটি তথাকথিত উপনির্বাচন হয়েছিল। সে নির্বাচনে কারা বিজয়ী হয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে সে তালিকা চাওয়া হয়েছে। কমিশন এখনো সেটি সরবরাহ করতে পারেনি।’
এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জাতি যদি প্রত্যাশা করে এবং সরকার যদি মনে করে, তবে এ তালিকা গেজেট করা হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সঙ্গে এই তালিকার সম্পর্ক নেই। ট্রাইব্যুনাল আছেন। যদি কেউ বাদী হয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন, তবে মামলা হবে। এই তালিকা করা হয়েছে, এজন্য যে ৭১ সালে কার কী ভূমিকা ছিল, জাতির তা জানা প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ১০-১২ হাজারের বেশি হবে না।
আগামী ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

…সুনামগঞ্জের খবর