রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

ক্রিকেট ম্যাচে বাড়তে চলছে আরও এক আম্পায়ারের সংখ্যা



115605_bangladesh_pratidin_england-day-australia

স্পোর্টস ডেস্ক:

সারা বিশ্ব যখন ‘নো-বল’ বিতর্কে মগ্ন, তখন এ নিয়ে কাজ শুরু করে দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। যে নতুন টেকনোলজি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে, তাতে ফিল্ড আম্পায়াররা ভুল করে গেলেও ধরা পড়ে যাবে বোলার ‘নো-বল’ করেছেন কি না। ইডেনে ভারত-বাংলাদেশ গোলাপি টেস্টে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে পরীক্ষামূলক ভাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও তা একই ভাবে প্রয়োগ করা হবে, যাতে এ নিয়ে সকল ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়া যায়।

‘নো-বল’ প্রযুক্তি ব্যবহারের অর্থই হল, তৃতীয় আম্পায়ারের পাশাপাশি ক্রিকেট ম্যাচে আরও এক আম্পায়ারের জন্ম হবে। যার কাজই হবে, ‘নো-বল’ খতিয়ে দেখা। গতবার আইপিএলে আম্পায়ারদের ‘নো-বল’ সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমস্যা দেখা গিয়েছিল। অনেক ম্যাচেই প্রাপ্য ‘নো-বল’ থেকে বঞ্চিত হয়েছে কোনও না কোনও দল। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। যার পর থেকে এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছিল বোর্ডের।

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে, এমনকি চলতি অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচেও একই ভুল বারবার দেখা গেছে। ওই টেস্টের দ্বিতীয় দিন প্রথম দু’টো সেশনে প্রায় ২১টা ‘নো-বল’ কল দিতে পারেননি দুই ফিল্ড আম্পায়ার। বোর্ডের যুগ্মসচিব জয়েস জর্জ বলেছেন, ‘এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আইপিএল সব সময়ই একটা নতুন জিনিস উদ্ভাবনের জায়গা। আমাদের একটাই লক্ষ্য, আগামী আইপিএলেও নতুন কোনও প্রযুক্তি জন্ম নিক। যা আসলে ক্রিকেটেরই উন্নতির কাজে লাগবে। আসলে যখন টেকনোলজি রয়েইছে, তখন এক জন খেলোয়াড় কেন বঞ্চিত হবে।’

নো-বলের ক্ষেত্রে কী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে? রান আউটের ক্ষেত্রে যে টেকনলজি সাধারণত ব্যবহার হয়ে থাকে, তাই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে পাশাপাশি এই প্রযুক্তিকে আরও নিখুঁত করার চেষ্টা করছেন বোর্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত কমিটির কর্তারা। জর্জের কথায়, ‘অতীতে দেখেছি, বোলারদের ফ্রন্টফুট জায়গাটা ধূসর হয়। যে কারণে নো-বল বুঝে উঠতে কিছুটা হলেও সমস্যা দেখা যায়। যে প্রযুক্তি নিয়ে আমরা কাজ করছি, তাতে কিন্তু নো-বল বোঝা নিয়ে আর কোনও সমস্যা দেখা দেবে না। তবে এ নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। আরও গভীরে ঢুকতে হবে ব্যাপারটা নিয়ে। যে কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

একই সঙ্গে জর্জ আরও বলেন, বেশ কয়েক দফা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এই প্রযুক্তিকে নিখুঁত করার চেষ্টা যেমন করা হবে, তেমনই এই প্রযুক্তি কী ভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করবেন বোর্ড কর্তারা। জর্জ জানান, ‘সকল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর যা ডেটা আমরা পাব, তা খতিয়ে দেখা যেমন, তেমনই এ নিয়ে আমরা দ্বিতীয় একটা পদ্ধতিও দেখার চেষ্টা করব। যাতে প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়ে গেলে কোথাও কোনও রকম সমস্যা না দেখা দেয়।’

রান আউট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ক্যামেরা এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে প্রতি সেকেন্ডে ৩০০ ফ্রেম ওঠে। রান আউট কি না, দেখার জন্য তৃতীয় আম্পায়ার সেই ফ্রেম বিভিন্ন অ্যাঙ্গল থেকে খুঁটিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত দেন। গভর্নিং কাউন্সিলের এক সদস্য বলেছেন, ‘যদি সব কিছু ঠিকভাবে এগোয়, তা হলে আগামী আইপিএলে আরও এক আম্পায়ারের সংখ্যা বেড়ে যাবে। যার কাজই হবে নো-বল খতিয়ে দেখা। ব্যাপারটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও আইপিএলে গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে।’