রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

রাসায়নিক অস্ত্র মজুদ করেছে মিয়ানমার?



7458786c47ba815f044ea7d7378761a7-5ddd2c6a26ada

অনলাইন ডেস্ক:

মিয়ানমার রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধের আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোমবার জানিয়েছেন, ১৯৮০-র দশকে মিয়ানমারে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির একটি কর্মসূচি ছিল৷ এখনও সেখানে সেই অস্ত্রের মজুদ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস ডি নান্নো। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সোমবার অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব ক্যামিকেল উইপনস (ওপিসিডব্লিউ)-এর বার্ষিক সভায় এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী সামরিক অভিযানে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) যখন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, ঠিক তার পরপরই নতুন করে তাদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র মজুদের অভিযোগ আনলো যুক্তরাষ্ট্র।

রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি, মজুদ ও ব্যবহার বন্ধে ১৯৯৭ সালে কার্যকর হয় ক্যামিকেল উইপনস কনভেনশন (সিডব্লিউসি)। ২০১৫ সালে ১৯১তম দেশ হিসেবে এতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর দেয় মিয়ানমার। এ কনভেনশন সবাই মেনে চলছে কিনা তা তদারকি করে ওপিসিডব্লিউ।

সোমবার হেগে ওপিসিডব্লিউ’র বৈঠকে থমাস ডি নান্নো জানান, ওয়াশিংটনের কাছে তথ্য রয়েছে যে ১৯৮০’র দশকে মিয়ানমারের রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি ছিল। ওই কর্মসূচির আওতায় ছিল রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদনের স্থাপনা এবং একটি সালফার মাস্টার্ড গ্যাস উন্নয়ন প্রকল্প। বিষাক্ত এই গ্যাসে আক্রান্ত হলে ত্বক, চোখ ও শ্বাসযন্ত্র মারাত্মকভাবে পুড়ে যেতে পারে।

নান্নো বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হয়েছে যে মিয়ানমার চুক্তি মেনে চলছে না। নিজেদের রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির কথা গোপন করেছে তারা। ওই অস্ত্রের স্থাপনা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

অতীতেও এ ধরণের অস্ত্র মজুদ ও ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছে মিয়ানমারকে। ২০০৫ সালে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ ক্রিশ্চিয়ান সলিডারিটি ওয়ার্ল্ডওয়াইড মিয়ানমারের সাবেক সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে কারেন জনগোষ্ঠীর বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনে। ২০১৩ সালে এক পার্লামেন্টারি প্রতিবেদনে বলা হয় আগের বছর দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি তামার খনিতে বিক্ষোভে পুলিশ ফসফরাস ব্যবহার করেছে।

২০১৪ সালের জুলাইয়ে মিয়ানমারের পাঁচ সাংবাদিককে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সাংবাদিকেরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদনের অভিযোগ এনেছিল। আগের বছর মিয়ানমারের তৎকালীন আধা বেসামরিক সরকার কাচিন জনগোষ্ঠীর বিদ্রোহীদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে।

ওপিসিডব্লিউ’র সভায় মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, রাসায়নিক অস্ত্র ইস্যুতে ওয়াশিংটন মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের অস্ত্র ধ্বংসে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।