রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সুনামগঞ্জে বিতর্কিতদের ঠেকাতে বিস্তর অভিযোগ



awami-league

দলের ভেতরকার বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে নালিশ দেওয়া শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিনে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হতেই এই অভিযোগ তুলে দেওয়া হচ্ছে দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে। কারো বিরুদ্ধে লিখিত, আবার কারো বিরুদ্ধে মৌখিক নালিশ করা হচ্ছে। অবশ্য. সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনেই বলেছেন, ‘বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠন শুরু হয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। আমরা বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা এবং ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারী কাউকে কমিটিতে স্থান দেব না।’
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ৮৮ ইউনিয়নে এবং উপজেলার সমপর্যায়ের ১৩ ইউনিটে আওয়ামী লীগের সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে।
দলীয় নেতা কর্মীদের অভিযোগ অনেক ইউনিটেই জামায়াত, বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। কোথাও কোথাও নতুন সম্মেলন করে পদে আসতে চাচ্ছেন বিতর্কিতরা। এরমধ্যে স্বাধীনতাবিরোধী পরিবার বা বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছেন। এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, এমনকি কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে নালিশ করছেন তৃণমূলের নেতা কর্মীরা।
জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ সভাপতি, নতুন কমিটিতে সভাপতি হতে আগ্রহী উপজেলার শাহ্পুরের বাসিন্দা আব্দুল মুকিত’এর বাবা আব্দুল বারী জামালগঞ্জ থানা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানানো অভিযোগে বলা হয়েছে, আব্দুল মুকিত’এর পরিবার ১৯৭১’এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছেন, তার বাবাসহ তার পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ওই সময়ে হয়রানি করেছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুকিত চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার জীবনের প্রথম ভোট আমি নৌকায় দিয়েছি। ৮৮ সালে ৮ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী বরুণ রায়’এর সক্রিয় কর্মী ছিলাম। ১৯৯১ সালে নজির হোসেন ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। আমি তখনও সক্রিয় কর্মী। ১৯৯৫ সালে জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক করা হয় আমাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল হক’এর কর্মী ছিলাম। ২০০১ সালে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত’এর নির্বাচনে পুরো নির্বাচনী এলাকার আর্থিক দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০৮’এর নির্বাচন থেকে ৩ টি নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নির্বাচনী নানা দায়িত্ব পালন করেছি। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে আর্থিকভাবেসহ নানাভাবে সহায়তা করতে হয় আমাকে। অথচ নির্বাচন বা কমিটি গঠনের বিষয়টি সামনে আসলেই আমাকে নিয়ে এমন অভিযোগ কেউ কেউ করেন। আমি বলতে চাই, আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় কারো ক্ষতি করেছেন, এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। আমি আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিরও সহসভাপতি, সুতরাং আমার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পরিবারের অভিযোগ আনা হাস্যকর।
মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। কমিটি ঘোষণা হয় নি এখনো। এই উপজেলায় সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট গত ১১ নভেম্বর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি নেত্রকোণার প্রখ্যাত রাজাকার একদ্রিল মোড়লের নাতি। তার বড় ভাই মোশারফ হোসেন থানা যুবদলের সহসভাপতি। চাচাতো ভাই আব্দুল কাইয়ুম মজনু থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোবারক হোসেন বলেন,‘আমার চাচা এক সময় আওয়ামী লীগ করতেন। পরে তিনি ও তার পরিবার বিএনপিতে চলে যায়। আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেই থাকি। এখনো আছি। ১২ বছর হয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, কোথাও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করি নি। আমাকে সাধারণেরা ভালবাসেন, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা চান আমি দলের নেতৃত্বে আসি, এজন্য আমি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি। দলের যারা কাজ করে না, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে, তারা প্রতিহিংসা বশত এ ধরণের অভিযোগ করেছে।
এই দুই নেতা ছাড়াও তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খাঁ, সাধারণ সম্পাদক অমল কর, মধ্যনগরের খসরুজ্জামান বাবলু, দিরাইয়ের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের দলীয় নেতা শাহীনুর রহমান এবং জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিম’এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের কারো বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী, কারো বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পরিবারের সদস্য, আবার কাউকে বলা হয়েছে বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘তৃণমূলের দলীয় নেতা-কর্মীরা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিতর্কিতদের স্থান না দেবার জন্য অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন। আমরা এগুলো’র সত্যতা যাচাই করছি। বিতর্কিতরা কমিটিতে আসবে না, এই বিষয়েও আশস্ত করেছি আমরা।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, জামায়াত-বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী বা ১৯৭১’এর স্বাধীনতা বিরোধী কেউ কোন কমিটিতে স্থান পাবে না।

সূত্র – সুনামগঞ্জের খবর