বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সুনামগঞ্জে হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট স্টেডিয়াম



images-2

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর কলোনীর সামনের মাঠে পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদের দুইজন প্রকৌশলী জমি পরিদর্শন করেছেন। প্রায় ১০.১৫ একর ভূমির ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরী হবে এটি। স্টেডিয়ামের দক্ষিণে প্যাভেলিয়ান ভবন নির্মিত হবে। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে থাকবে গ্যালারি। স্টেডিয়ামে একসঙ্গে ৫-৬ হাজার দর্শক খেলা উপভোগ করতে পারবেন। স্টেডিয়ামটির দৈর্ঘ বেশী এবং প্রস্ত কম হওয়ার কারণে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে খোলা থাকবে। খোলায়াড়দের সুবিধার জন্য একটি জিমনেসিয়াম এবং অন্যদিকে লন টেনিস মাঠ ও নির্মাণ করা হবে। স্টেডিয়ামটি মাটি ভরাট করে মূল সড়ক থেকে প্রায় দুই ফুট উঁচু করা হবে।
জানা যায়, ১৯৭৭ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য ষোলঘর কলনির সামনের মাঠের ভূমি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাঠটি খেলাধুলার উপযোগী হয়ে উঠেনি। জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের কাছে ষোালঘরে একটি পূর্নাঙ্গ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দেয়। এরপর পরই বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদের দুইজন প্রকৌশলী প্রায় দুই মাস আগে জমি পরিমাপ করে গেছেন। এই স্টেডিয়ামে জাতীয় পর্যায়ের খেলাগুলোও যেনো আয়োজন করা যায় সেভাবেই নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রাম এলাকায় একসময় খেলার মাঠ থাকলেও নগর
উন্নয়নের কারণে এখন তা হারাতে বসেছে। বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মাঠের পরিবর্তে বেছে নিয়েছে কম্পিউটার ও ভিডিও গেমস। সেই সাথে পা বাড়াচ্ছে মরণফাঁদ মাদক সেবনে। এসব স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলে যুব সমাজ মাদকের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার সাথে সাথে বের হয়ে আসবে প্রতিভাবান খেলোয়াড়, এমনটাই মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। খেলোয়াড়রাও দ্রুত স্টেডিয়ামটি নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সুনামগঞ্জ জেলা কোচ পাভেল চৌধুরী বলেন, একই স্টেডিয়ামে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা টাফ ব্যাপার। খেলোয়াড়রা যদি অনুশীলন ও ম্যাচ খেলতে না পারে তাহলে তাদের ভুলত্রুটি বের হয়ে আসবে না। ফুটবলের মাঠে ক্রিকেট খেলা কষ্টকর তার পরও চালিয়ে নিতে হয়। বৃষ্টি দিলে পানি জমে থাকে মাঠে তাই সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যলয়ের মাঠে পিচ করে ক্রিকেট চর্চা করা হয়। এখন আবার জুবিলীর মাঠে মেলা শুরু করতে যাচ্ছে, তাই আবার স্টেডিয়ামে চলে আসতে হচ্ছে। ক্রিকেট স্টেডিয়াম যদি দ্রুত হয়ে যেত, তাহলে সারা বছর ক্রিকেট চর্চার পাশাপাশি ক্রিকেট ম্যাচ খেলার আয়োজন করা যেত। অনুশীলননের জন্য আমাদের একটি প্যাভিলিয়ন ও ইনডোর জরুরী। সব ধরণের সুযোগ সুবিধা থাকলে সুনামগঞ্জ থেকে জাতীয় মানের খেলোয়ার তৈরী হবে।
ক্রিকেট খেলোয়ার মো. ফাহিমুজ্জামান মুন্না বলেন, এই বছর ফর্টিন থেকে তিন জন ক্রিকেট খেলোয়াড় ন্যাশনাল ফিফটিনে চান্স পেয়েছে। অন্য জেলার খেলোয়াড়রা সারা বছর অনুশীলন করে কিন্তু সুনামগঞ্জের খেলোয়াররা সব সময় চর্চা করতে পাড়ছে না শুধু মাঠের কারণে। ষোলঘর কলোনীর সামনের মাঠে খেলার উপযোগী এখনও হয় নাই। মাঠে বড় বড় গর্ত। পানি জমে থাকে, খেলা যায় না । আমার দাবি দ্রুত গতিতে যেন ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মিত হয় ।
জেলা ক্রীড়া পরিষদের ক্রিকেট সম্পাদক রাজা বলেন, ষোলঘর ক্রিকেট মাঠ দ্রুত যদি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পরিণত হয়ে যায়, তাহলে আমাদের খেলোয়ারদের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আসা করি ডিজাইন চলে আসলে দুই বছরের মধ্যে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ সম্পন্ন হবে। একটি স্টেডিয়াম আছে। শুধু ক্রিকেট খেললে তো হবে না, ফুটবল খেলোয়ারাও আছেন। তাদেরও সমান অধিকার আছে সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে। তাই মাঠে বেশী চাপ পরে যায়।
তিনি বলেন, আমাদের কালচার হয়ে গেছে বৃষ্টির দিনে ফুটবল, আর শীতের দিনে ক্রিকেট। এরকম হলে হবে না। বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটের দিকে অনেক এগিয়ে আছে। ক্রিকেট চর্চা সাড়া বছর করা জরুরী, সারা বছর ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে গেলে আমাদের ক্রিকেট স্টেডিয়ামও জরুরী।
জেলা ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান এমদাদ রেজা বলেন, সুনামগঞ্জ একটা ছোট স্টেডিয়াম আছে । আরও একটি বড় মাঠ আমাদের ক্রীড়া পারিষদের আছে। আমরা মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর কাছে ষোলঘর কলোনীর সামেনের মাঠ পূর্নাঙ্গ ক্রিকেট স্টেডিয়াম করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। তিনি এতে সম্মতি দিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদ থেকে দুইজন ইঞ্জিনিয়ার মাঠ পরিদর্শন ও জমি পরিমাপ করে গিয়েছেন। আসাকরি শীঘ্রই ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ডিজাইন চলে আসবে।

সূত্র – সুনামগঞ্জের খবর