শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

নভেম্বর মাসেই পরামর্শক নিয়োগ হবে



DSpic-27-9-19-024

সিলেট-ছাতক-সুনামগঞ্জ রেললাইনের ডিজাইন, ভূমি অধিগ্রহণ, ব্যয় নির্ধারণসহ প্রাথমিক কাজের জন্য নভেম্বর মাসেই পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার এই দরপত্র ওপেন (খোলা) করা হবে। রেলওয়ে’র প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম পূর্ব) মো. সুবক্তিকিন শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন।
হাওর-বাওরের জেলা সুনামগঞ্জের উপজেলা শহর ছাতক রেল যোগাযোগের আওতায় এসেছে অনেক আগে থেকেই। ওখানকার সিমেন্ট ফ্যাক্টরীসহ অন্যান্য ফ্যাক্টরী’র মালামাল ওই সময় থেকেই রেলে বহন করা হয়। কিন্তু জেলা শহর সুনামগঞ্জের ২৫ লাখ মানুষের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ কেবল সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক দিয়েই হয়ে আসছে। সুনামগঞ্জবাসী বহুদিন থেকে জেলা শহরকে রেল লাইনের আওতায় নেবার দাবি জানিয়ে আসছেন।
২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে রেল মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জ জেলা সদর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য সরকারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করে।
সুনামগঞ্জ জেলার সামাজিক, প্রাকৃতিক, ভৌগোলিক বিস্তৃত ইতিহাস ও বিবরণ জানিয়ে এখানে রেললাইন সম্প্রসারণ অর্থনীতি ও জনসেবার আলোকে প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে রেল মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনায় সুপারিশ করা হয়েছিল।
এর আগে ২০১৬ সালের প্রথম দিকে ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)’এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ডিজিকে আধাসরকারি পত্র দিয়েছিলেন।
ড. মোহাম্মদ সাদিক তাঁর দেয়া আধাসরকারি পত্রে উল্লেখ করেছিলেন, ‘সুনামগঞ্জের একটি উপজেলা শহরে রেল যোগাযোগ চালু রয়েছে। অথচ জেলা শহরকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার দাবি আমলে নেওয়াই হচ্ছে না’। তিনি ছাতক থেকে আমবাড়ী হয়ে আসা সড়কের পাশ দিয়েই রেললাইন বর্ধিত করা যায় উল্লেখ করে গণমানুষের এই দাবিকে গুরুত্ব দেবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
এর আগে দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য, আইন-বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তখনকার চেয়ারম্যান প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রেলমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর সিলেট সার্কিট হাউসে বৃহত্তর সিলেটের সংসদ সদস্য, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, ‘সুনামগঞ্জে রেললাইন সম্প্রসারিত হবে। ছাতক-সুনামগঞ্জ এবং মোহনগঞ্জ-ধরমপাশা রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটা হলে হাওরের মানুষের যোগাযোগ বিড়ম্বনা অনেকটাই কমে যাবে।’
ঐ সভায় রেলপথের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি এবং মুহিবুর রহমান মানিক এমপি।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা শহরকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার দাবি উঠেছিল ১৯৬১ সালে। সুনামগঞ্জের সবজী, পাথর ও মাছ কম খরচে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছানো এবং একমাত্র সড়কের বিকল্প হিসাবে রেলওয়ে লাইন চালু করণের দাবি ওঠেছিল। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগরের বাসিন্দা তৎকালীন সিলেট ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সদস্য রাবেয়া লেইছ ১৯৬১ সালে প্রথম ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সভায় এই দাবি তুলেছিলেন।
২০১১ সালে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি অ্যাড. রবিউল লেইস রোকেস জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।
সুনামগঞ্জে রেললাইন স্থাপন নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ও। পরে তিনি এই বিষয়ে রেলমন্ত্রীকে ডিও লেটারও দেন।
শুক্রবার বিকালে ফোনে যোগযোগ করলে অবসরে যাওয়া রেলওয়ে বিভাগের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, দুই বছর আগে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক রেলওয়ে সচিব এবং আমাকে ডিও লেটার দিয়ে সিলেট-ছাতক রেললাইনকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করার অনুরোধপত্র দেন। এরপর বারবারই তিনি যোগাযোগ করেছেন। তাগিদ দিয়েছেন। পরে ছাতক-সুনামগঞ্জ রেললাইনের প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে প্লানিং কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ড. সাদিক ওখানেও পরে তাগাদা দিয়েছিলেন।
তিনি জানান, তিনি অবসরে যাবার আগে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ একদিন এসেছিলেন, তাঁকে ওই প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে তাগিদ দেবার জন্য বলে দেওয়া হয়েছিল। ড. সাদিক এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন এটিও তাকে বলে দিয়েছিলাম আমরা।
রেলওয়ে’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তানভিরুল ইসলাম শুক্রবার এ প্রতিবেদককে জানান, পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পর পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানই আবেদন করে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়।
আগামী রোববার (৬ অক্টোবর) রেলভবনে পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র ওপেন করা হবে। এরপর কৌশলগত, কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন শেষে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ হবে।
রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম-পূর্ব) মো. সুবক্তিকিন বলেন, আমি কয়েকমাস হয় এখানে যোগদান করেছি। মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান মহোদয় কয়েকবার এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত করার তাগিদ দিয়েছেন। আমরা এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসাবে নিয়েছি। আগামী রোববার রেলভবনে পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র খোলা হবে। এরপর কারিগরি উপ কমিটি পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবের জন্য একটি অনুরোধ (আরএফপি) পত্র পাঠাবে। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ হবে। এরপর ডিজাইন, ভূমি অধিগ্রহণ এবং আর্থিক ব্যয় নির্ধারণ করে দরপত্র প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হবে।