বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

‘যুদ্ধকে পাকিস্তান ভয় পায় না’, ভারতের দূতকে বহিষ্কার করে পাকিস্তানের বার্তা



120728_bangladesh_pratidin_fawad-chaudhry

অনলাইন ডেস্ক:

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল। মোদি সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকেই হাতিয়ার করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইস্যু করতে চাইছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক মহলের দাবি, এই হাতিয়ারে বাড়াতে চাইছে দিল্লির উপর চাপ। কৌশল হিসেবে প্রাথমিক ভাবে, ইসলামাবাদ ছাড়তে বলা হল ভারতীয় হাই কমিশনারকে। আপাতত স্থগিত করা হল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য।

কাশ্মীর থেকে বিশেষ মর্যাদা বাতিল হতেই পাকিস্তানের সংসদে দাঁড়িয়ে গত মঙ্গলবার এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন দেশ্তীড় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিকে ডেকে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারে দিল্লির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করল পাকিস্তান সরকার।

কূটনৈতিক মহলের দাবি, উপত্যকায় কেন্দ্রীয় শাসনে স্বাভাবিক ভাবেই চাপে ইসলামাবাদ। এই চাপ কাটাতে পালটা কৌশল হিসেবে মোদি সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকেই এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু করতে মরিয়া ইসলামাবাদ। তার প্রাথমিক কৌশল হিসেবে দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের।

অবিলম্বে ভারতে পাঠানো হবে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার অজয় বিশারিয়াকে। পাল্টা হিসেবে দিল্লি থেকে ফেরানো হচ্ছে পাকিস্তানের দূতকেও। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আর কোনো কূটনৈতিক অফিসারকে পাঠানো হবে না দিল্লিতে। কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কাশ্মীরের প্রতিবাদে আপাতত ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদের। একসঙ্গে কমানো হবে কূটনৈতিক সম্পর্ক। জাতিসংঘে প্রতিবাদ হিসেবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলবে পাকিস্তান।

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে সীমান্তে তৈরি হবে যুদ্ধ পরিস্থিতি। মঙ্গলবার এই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন ইমরান খান। তাই নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সেনাকে আরও বেশি করে টহল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, কাশ্মীর প্রসঙ্গে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তে স্পষ্টত চাপে ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ জাতিসংঘের।

জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা খারিজের পরেই ভারতকে ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে পাকিস্তান। গতকাল বুধবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরি বলেন, ‘‘যখন কূটনীতিই হচ্ছে না তখন কূটনীতির জন্য অর্থ খরচ করে লাভ কি? ভারতীয় হাইকমিশনার এখানে কী করছেন? পাকিস্তানের হাইকমিশনারও বা দিল্লিতে কী করছেন? ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। যুদ্ধকে পাকিস্তান ভয় পায় না। অসম্মান ও যুদ্ধের মধ্যে বাছতে হলে যুদ্ধকেই বেছে নেওয়া উচিত।’’