বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

টাকা না পেলে বেলকে ছাড়বে না রিয়াল মাদ্রিদ!



f8169964951693ae4ddc01cd408cb92b-5d3e8c7483d4e

স্পোটর্স ডেস্ক:

বেশ কয়েক’দিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, চীনের জিয়াংসু সুনিং ক্লাবে যোগ দিতে যাচ্ছেন রিয়ালের ওয়েলশ ফরোয়ার্ড গ্যারেথ বেল। কিন্তু গতকাল জানা গেল, বড় অঙ্কের টাকা হাতে না পেলে বেলকে ছাড়তে রাজি নয় রিয়াল মাদ্রিদ।

গ্যারেথ বেলের চীনে যাওয়ার আশা ভেঙে গেল, বলা যায়। চীনের জিয়াংসু সুনিং ক্লাবের কাছে বেলকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি তারকাকে বিনা মূল্যে চীনা ক্লাবের কাছে ছাড়তে নারাজ রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।

৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড। নেইমারের পিএসজিতে যাওয়ার আগে এই ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডকেই আকাশছোঁয়া মনে হত। এই দামেই ২০১৩ সালে টটেনহাম হটস্পার থেকে গ্যারেথ বেলকে নিয়ে আসে রিয়াল মাদ্রিদ। সে সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি দলবদল ছিল এটাই। এরপর কেটে গেছে অর্ধযুগ। যে আশায় বেলকে রিয়াল মাদ্রিদে নিয়ে আসা হয়েছিল সে আশা তিনি পূরণ করতে পেরেছেন সামান্যই। উল্টো কোচ জিনেদিন জিদানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করে নিজের রিয়াল ক্যারিয়ার নিজেই ধ্বংস করেছেন তিলে তিলে। বেলকে এখন কোনোভাবে ক্লাব ছাড়া করতে পারলেই যেন বেঁচে যান জিদান। কিন্তু সেটা আর পারছেন কোথায়?

রিয়াল মাদ্রিদে বেল প্রতি সপ্তাহে প্রায় ছয় লাখ পাউন্ড করে বেতন পান। কিছু ক্লাব ছাড়া আকাশচুম্বী এই বেতন দেওয়ার সামর্থ্য ইউরোপের আর অন্য কোনো ক্লাবের নেই। পিএসজি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, বায়ার্ন মিউনিখ, ইন্টার মিলান, টটেনহামের মতো ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো বেলের প্রতি আগ্রহী হলেও সামনেই একত্রিশে পা দিতে যাওয়া এই তারকার জন্য প্রতি সপ্তাহে ছয় লাখ পাউন্ড বেতন দিতে রাজি নয় কেউই। এদিকে বেলও চান না বেতন কমাতে। রিয়াল মাদ্রিদকে তো এক সময় বলেই দিয়েছিলেন, দরকার হলে চুক্তির বাকি সময়টা গলফ খেলে বাসায় বসে বসে কাটাবেন, তাও বেতন কমিয়ে অন্য কোনো ক্লাবে যাবেন না। ফলে দেখা গেল, বেলের এই দাবি মানতে ইউরোপের কোনো ক্লাবই রাজি নয়। বাকি ছিল চীনের ক্লাবগুলো। চোখ কপালে তোলা বেতন দিয়ে ইউরোপ থেকে খেলোয়াড় নিয়ে যেতে যারা সিদ্ধহস্ত। তিনটি ক্লাব পাওয়া গেল, যারা বেলের বেতন দ্বিগুণ করে হলেও বেলকে পেতে রাজি জিয়াংসু সুনিং, সাংহাই শেনহুয়া ও বেইজিং গুয়ান। প্রতি সপ্তাহে এক মিলিয়ন পাউন্ড করে বেতন দিতেও সমস্যা ছিল না তাদের। এগিয়ে ছিল জিয়াংসু সুনিংই। কিন্তু বেলের জন্য রিয়াল মাদ্রিদকে ট্রান্সফার ফি দিতে রাজি ছিল না তারা।

এর পেছনে কারণও আছে। অতিরিক্ত ট্রান্সফার ফি দিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে ফুটবলার নিয়ে এসে লিগ খেলানোর একটা প্রবণতা দেখা গিয়েছিল চীনের ক্লাবগুলোর মধ্যে। যে কারণে অতিরিক্ত ফি তে চাইনিজ ক্লাবে গিয়েছিলেন অস্কার, হাল্ক, নিকোলাস আনেলকা, জ্যাকসন মার্টিনেজ, গ্রাজিয়ানো পেলের মতো ইউরোপীয় তারকারা। ফলে চীনের ঘরোয়া ফুটবলাররা ক্লাবগুলোতে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। অথচ নিজের দেশের ফুটবলারদের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করার জন্য দেশীয় ফুটবলারদের নিয়মিত খেলাতেই হবে। দেশীয় ফুটবলারদের নিয়মিত খেলা নিশ্চিত করার জন্য চীনা সরকার শর্ত আরোপ করে, এরপর থেকে চীনের বাইরে থেকে যখনই কোনো খেলোয়াড় আনা হবে, তাঁর ট্রান্সফার ফি এর সমমূল্যের কর দিতে হবে সরকারকে। অর্থাৎ চীনের বাইরে থেকে কোনো খেলোয়াড়কে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কেনা হলে সরকারকে ওই বাবদ আরও ১০০ মিলিয়ন কর দিতে হবে। সরকারকে অতিরিক্ত এই কর দিতে চায়নি চীনা ক্লাবগুলো, ফলে বিদেশ থেকে খেলোয়াড় আনার প্রবণতাও একটু কমেছে চীনা ক্লাবগুলোর মধ্যে। আনলেও, তারা বেছে বেছে সেসব খেলোয়াড়দেরই নিয়ে আসে, যাদের ট্রান্সফার ফি অনেক কম, বা ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ ‘ফ্রি এজেন্ট’, এমন। হাভিয়ের মাচেরানো (হেবেই চায়না ফরচুন), হোয়াও মিরান্ডা (জিয়াংসু সুনিং) যেমন এসেছেন ফ্রি এজেন্ট হয়ে। ওদিকে সলোমোন রনডন, এডার, স্টেফান এল শারাউই, মুসা ডেম্বেলে, মার্ক আরনটোভিচের মতো খেলোয়াড়দের দামও মোটামুটি ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের কম।

এ কারণে জিয়াংসু সুনিং বেলের জন্য রিয়াল মাদ্রিদকে কোনো ট্রান্সফার ফি দিতে চায়নি। ভেবেছিল, ‘দুষ্ট গরু’ কে গোয়াল থেকে তাড়ানোর জন্য রিয়াল মাদ্রিদ কোন অর্থ চাইবে না। দিতে চাইবেই বা কেন? একে তো প্রতি সপ্তাহে বেলকে ১ মিলিয়ন পাউন্ড করে বেতন দিতে হচ্ছে, আবার যদি রিয়াল মাদ্রিদকে ট্রান্সফার ফি বাবদ অর্থ দিতে হয়, আবার সমপরিমাণ কর সরকারকেও দেওয়া লাগে, তাহলে ৩১ বছর বয়সী কারওর জন্য খরচের মাত্রাটা অতিরিক্ত হয়ে যায়।

কিন্তু যে খেলোয়াড়কে আনার জন্য এক কালে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করা হয়েছে, সে খেলোয়াড়কে রিয়ালই বা ফ্রি তে ছেড়ে দেবে কেন? রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও তাই বেঁকে বসেছেন। বেলের জন্য ট্রান্সফার ফি না পেলে বেলকে ক্লাব ছাড়তে দেওয়া হবে না, গতকাল বলেছেন তিনি। ওদিকে শোনা গেছে, বেলের পরিবারও চীনে গিয়ে থাকতে রাজি নয়। তারা চাচ্ছে, ইউরোপের কোনো ক্লাবে বেল যোগদান করুক।

চীনের দলবদল শেষ হবে আগামী ৩১ তারিখ। হাতে আছে দুই দিন মাত্র। চীনে যেতে হলে এই দুই দিনের মধ্যেই সমঝোতায় আসতে হবে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে। প্রশ্ন হলো, বেল কি আদৌ রিয়াল ছাড়তে পারবেন?