রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

ঈদের ছুটিতে বিছানাকান্দি ও পান্থমাই



ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নাজাত পুরকায়স্থ:

বিছানাকান্দি ও পান্থমাই, পর্যটন সম্প্রসারণের এ সময়ে আলোচিত নামগুলোর অন্যতম সিলেটের এ দুটি স্থান। বিছানাকান্দি ভারত এবং বাংলাদেশের বর্ডার এলাকায় অবস্থিত। ঈদে ছুটিতে বিছানাকান্দি ও পান্থমাই এই দুটি জায়গা ঘুরে আসাটা মন্দ হয়না। সিলেট শহর হতে ৬০ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে বিছানাকান্দি গ্রাম। জাফলং এর মত বিছানাকান্দিও একটি খনি এলাকা।

বিছানাকান্দির এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পাথর আর পাথর। দেখলে মনে হয়, কেউ হয়তো বিছিয়ে রেখেছে পাথরের বিছানা। এর সাথে যোগ হয়েছে মেঘালয় পাহাড় থেকে আসে ঠাণ্ডা পানি। পাথরের গা ছুঁয়ে জলরাশি ছুটে চলেছে পিয়াইন নদীতে। পাশেই পাহাড়ি সবুজের সমারোহ। ছোট বড় পাথরের ওপর দিয়ে ছুটে আসা স্বচ্ছ পানির স্রোতধারা বিছানাকান্দিতে সৃষ্টি করেছে এক মনোরম পরিবেশের।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিছানাকান্দি যাওয়ার আগেই আপনি যাবেন পান্থমাই ঝর্রনায়। পান্থমাই ঝরনা ভারতে হলেও এর সৌন্দর্য পুরোটাই বাংলাদেশ থেকে দেখা যায়। পান্থমাই জলপ্রপাত সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। আমাদের দেশের ঝর্ণাগুলো মূলত ওপর থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত হলেও এ ঝরনার বিশেষ বৈশিষ্ট্য এটা পাহাড়ি ঢল বেয়ে পাথরের মধ্য দিয়ে সজোরে প্রবাহিত হয়, যা আপনার চোখকে দিবে প্রশান্তি। পান্থমাই গ্রামের চারপাশটা খুব চমৎকার প্রকৃতি দিয়ে ঘেরা। রয়েছে বড় একটি খেলার মাঠ। বলা হয়ে থাকে, পান্থমাই বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামগুলোর একটা।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পান্থমাই ভ্রমণ শেষে আপনার পরবর্তী গন্তব্য বিছানাকান্দি। প্রকৃতির রাজকন্যা বিছানাকান্দির দিকে নৌকা যতই এগোতে থাকবে, ততই চারপাশের সৌন্দর্যটা যেন উপচে পড়বে আপনার ওপর। মুগ্ধতা ততটাই বেড়ে যাবে। একটু দূরের দুই পাশে মেঘে ঢাকা মেঘালয় পাহাড় যেন স্বাগত জানাবে আপনাকে।

বিছানাকান্দিতে রয়েছে ছোট-বড় অগণিত পাথরের সমারোহ। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অজস্র পাথর, দেখে যেন মনে হয় পুরো এলাকাটাই পাথরের বিছানা। পিয়াইন নদীর অগণিত পাথরের মাঝে আপনাকে হাঁটতে হবে সাবধানে পা ফেলে। একটু অসাবধানতার ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। পানির গভীরতা কম হলেও পাথরের মাঝে আপনার ভ্রমণকে করবে আরো রোমাঞ্চিত। স্বচ্ছ ঠান্ডা পানি, ছোট-বড় অগণিত পাথরের সমারোহ, মেঘালয়ের উঁচু পাহাড় আর চারপাশের সবুজেঘেরা প্রকৃতি আপনাকে নিরাশ করবে না।

15664770115_bd5463336f_b

বিছনাকান্দি যেতে হলে সর্বপ্রথম আপনাকে সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট যেতে হবে। সেখানে বিমানবন্দর রোডের দিকে সিএনজি স্টেশন আছে। সিএনজি রিজার্ভ করে হাদারপার নামক জায়গা পর্যন্ত গেলে ভাল হয়। পাঁচজন মিলে ১০০০টাকায় সাধারণত ভাড়া নেওয়া হয়। তবে মানুষ কম থাকলে ৮০-২০০ টাকা জনপ্রতিও যাওয়া যায়।  হাদারপার বাজারেই বিছনাকান্দি-পান্থুমাই যাওয়ার নৌকা পাওয়া যায়। সুন্দর বেশভুষা দেখে মাঝিরা একটি নৌকা ২০০০-৩০০০টাকা চেয়ে বসতে পারে। ভুলেও রাজি হবেন না। দরাদাম করে এর চেয়ে কমে পাবেন।

এখানে থাকা-খাওয়ার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। যাওয়া সময় সিলেট থেকে খাওয়া নিয়ে যেতে পারেন। ওখানে একটা বাজার থাকলেও দুপুরে খাওয়ার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। টুকটাক নাশতা সারতে পারেন।