শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আগ্রাসন; একটি বিশ্লেষণঃ



Shakir Hossain

মোহাম্মদ শাকির হোসাইনঃঃ

কয়েকদিন ধরে ইরানকে ধ্বংস করতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরাশক্তি, সবচেয়ে শ্রেষ্ট জাতির দাবীদার ‘মহান আমেরিকা’। এমন এক সময়ে তারা আরেকটি দেশকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে চাইছেন যে সময়ে সিরিয়া ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়ে গেছে, ইরাক বিরানভূমি হয়ে গেছে, লিবিয়ার অস্তিত্ব নেই, আফগানিস্তানের কথা বাদই দিলাম।

অন্যদিকে, ইয়ামেনের শিশুদের দিকে তাকানো যায়না কিংবা ফিলিস্তিনের মানুষের কাঁধে লাশ নিয়ে মিছিল এখনো থামেনি।

প্রশ্নটা সেখানে না৷ আমার প্রশ্নটা হলো, আমেরিকার এই যুদ্ধে কার লাভ কার ক্ষতি সেটির একটা বিশ্লেষণ।

ইতিমধ্যে আমেরিকার যুদ্ধে আক্রান্তদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

তারা কোথায় যান? নিশ্চয় আমেরিকায় যেতে পারেন না। কারণ আমেরিকানরা  এতদুরে থাকেন যে কোনো ভাবেই তাদের দেশে কোনো শরনার্থী যেতে পারবেননা।

তাহলে তারা কোথায় যাবেন? আমি যতদুর দেখছি শরনার্থীরা  ইউরোপের দেশগুলোতেই যাচ্ছেন। তার মানে দাঁড়ালো আপনারা (আমেরিকা)  দেশগুলো ধ্বংস করবেন, ধনী মানুষদের পথে নামাবেন, তাদের ধন সম্পদ লুট করবেন আর পথের ভিখারী বানিয়ে দেশছাড়া করছেন, করবেন। সেই মানুষগুলোকে আশ্রয় দিবে ইউরোপের দেশগুলি!আপনার ষোলআনাই লাভ।

এতে ইউরোপের কি লাভ হলো?

বরং আমি মনে করি এতে ইউরোপ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে? কারণ স্বজনহারা, সম্পদহারা, দেশত্যাগী মানুষগুলোতো আর ফেরেস্তা হবে না নিশ্চয়। সবকিছুর পর নিজ দেশের, নিজ পরিবারের ধ্বংসের ক্ষতটুকু কোনো মানুষ, তার আগত জেনারেশন কি সহজে ভুলে যাবে? আমার কাছে বিষয়টি খটকা লাগে।  আজ না হোক কাল, কিংবা বিশ বছর পরের ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র আমার কাছে ভাল ঠেকছে না। যদি তারা হিংসাত্মক কিছু করে ফেলে তাহলে যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের ওপর এই আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায়না।  সম্প্রতি জার্মানীতে আল সালাম ৩১৩ নামের এক জঙ্গি সংগঠনের খোঁজ পেয়েছে সেদেশের পুলিশ।

সুতরাং আমেরিকার ফাঁদে পা দিয়ে ইউরোপের উচিত হবেনা মধ্যপ্রাচ্যের নিষ্ঠুরতম যুদ্ধে নিজেদের জড়ানো। এতে ক্ষতি ছাড়া লাভের সম্ভাবনা নেই বলে মনে হচ্ছে।