সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

ড্রেনে বিড়ম্বনা পৌরবাসীর



sunamgonj-pic-2-dreen-24.04-800x445

ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে ড্রেন। পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না একেবারেই। আবার কোথাও কোথাও ড্রেন না থাকায় সুনামগঞ্জ শহরবাসীর পানি নিষ্কাশনের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
শহরের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে এবং কাদার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো স্থানে পানি উপচে ওঠছে যাতায়াত সড়কের উপর। বাতাসের সাথে ছড়িয়ে পড়ছে পঁচা দুর্গন্ধ। এতে বংশ বিস্তার ঘটছে মশা ও মাছির। ড্রেন পরিচ্ছন্ন করাসহ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে সুস্থ্য পরিবেশ তৈরির দাবি শহরবাসীর।
শহরের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জানান, মধ্যশহরের আবাসিক এলাকায় প্রায় ১০ বছর আগে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকে কোনো কোনো স্থানের ড্রেন ২/১ বার পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রতি বর্ষা মওসুমে পরিস্কার হয়নি। এ কারণে পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক স্থানের ড্রেন আশপাশের অংশের ভূমির উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।
পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের যে ছিদ্র বা পথ দেওয়া হয়েছে তা মেইন সড়ক থেকে অনেকটা উঁচু স্থানে। শহরের পৌর মার্কেটের সামনের ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। ড্রেনের উপরের স্লোপগুলো গাড়ির ধাক্কায় ভেঙে গেছে। বৃষ্টির সময় পৌর মার্কেটের চত্ত্বরের সামনের অংশ নিচু থাকায় হাঁটু পানি জমে থাকে। অনেকক্ষণ পর এই পানি নিষ্কাশিত হয়।
শহরের জগন্নাথবাড়ি এলাকায় গুড়ের বাজার ও পান বাজার এলাকার, পুরাতন কারাগারের পিছনের, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনের, মডেল থানার সামনে, পৌর মার্কেটের সামনের, মিউনিসিপাল মার্কেটের, চাঁদনীঘাট এলাকায়, সরকারী জুবিলীর মাঠের সামনের, কাজীর পয়েন্ট এলাকায়, মধ্যবাজার, পশ্চিম বাজার, কালীবাড়ি পয়েন্ট, পবন সেন্টার থেকে কলোনী মসজিদ পর্যন্ত ড্রেন, ওয়েজখালি বাজারের ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানের ড্রেনে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এই কারণে বৃষ্টির পানি মেইন সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকে।
সোমবার দুপুরে বিভিন্ন স্থানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঘুরে দেখার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ময়লা বা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার কথা থাকলে অনেকেই সেই ময়লা বা আবর্জনা ফেলে দেন ড্রেনের ভেতরে। বিশেষ করে হোটেলের বর্জ্য, দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেওয়া কারো কারো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ড্রেন সুরক্ষার দায়িত্ব সকলের। নিজেদের স্বার্থেই ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিৎ। ড্রেন পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও রয়েছে নাগরিকদের।
বাজারের ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন পলাশ বলেন, ‘ড্রেনের ভেতর যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে দেন অনেকেই। এই ময়লা যথাসময়ে পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে।’
মো. নুরুল হাসান আতাহের বলেন,‘উকিলপাড়ায় আমার বাসার আশপাশে কয়েক বার ড্রেন পরিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশন হয় না। একদিনের বৃষ্টির পানি ৩ দিন জমে থাকে সড়কে। ১০ বছর আগে ড্রেন উঁচু স্থানে নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ড্রেনে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি আমাদের।’
শহরের শহীদ আবুল হোসেন রোডের বাসিন্দা নিলয় দাস বলেন,‘এই এলাকার প্রধান সমস্যা পানি নিষ্কাশন, সড়কের ডানদিকে যাদের বাড়ি-ঘর তাদের পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। একজনের বাড়ি’র পানি আরেকজনের বাড়ি দিয়ে, না হয় মূল সড়ক দিয়েই কেউ কেউ ময়লা পানি ছেড়ে দিচ্ছেন। ’
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন বলেন,‘সুনামগঞ্জ পৌর শহর ও আবাসিক এলাকাসহ প্রায় ৩০ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। ড্রেন পরিচ্ছন্ন না করার কারণে কোনো কোনো স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে, তা অনেকটা সত্য। পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করতে আমরা কিছুদিনের মধ্যেই ড্রেন পরিস্কার করার ব্যবস্থা করবো।’

…সুনামগঞ্জের খবর