সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

না বলা কথা



shakir pr-3

মোহাম্মদ শাকির হোসাইন:

তখন এনটিভির সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হয়ে কাজ করি। ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ ফোন দিয়ে বললেন, আপনার ভাবি কল দিবে উনার একটা কাজ আছে করে দিয়েন। কথাটা আমাকে বড় ধাক্কা দিল। আমার ভাবি-ই নাই অথচ অফিসে গিয়ে বসে আছে!

বেশিক্ষন ভাবতে হলো না। মোবাইলের স্ক্রিনে এনটিভির নম্বর থেকে কল এসেছে। আমি ধরলাম।
ওপ্রান্ত থেকে মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে এলো।
ভাইয়া আমি রিতু বলছি।
জ্বী বলেন।

ভাইয়া আমি নিউজ প্রেজেন্টার। আপনি কি আমার স্বামীকে চেনেন। বললাম না।
মন্ত্রী সামাদ আজাদ সাহেবের ছেলে ডন আমার স্বামী।
আমার শশুড়ের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল হবে আপনি কষ্ট করে একটু কভার করে দেননা প্লিজ।

শুকুর ভাইয়ের বাসায় মিলাদ হলো ৩০-৪০ জন নিয়ে। সেই দিন প্রথম ডন ভাইয়ের সাথে পরিচয়। আমার কলিগের স্বামী বলে কথা। সেই ছবি নিয়ে পাঠালাম। বেশ কয়েকটি বুলেটিনে উভ হিসেবে প্রচার হলো।

এরপর সুনামগঞ্জে আসার আগে ফোন করে বিরক্ত করে ফেলতেন স্বামী স্ত্রী।

সাজু ভাই, রাজু ভাই ও পঙ্কজদা যৌথভাবে একটি অফিস চালাতেন। আমি বিনা পয়সায় ব্যবহার করতাম। একদিন সেই অফিসে ডন এলেন, পঙ্কজদার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। রাজু ভাইর সাথে তার পুর্ব পরিচয় ছিল।

এর কয়েকদিন পর দাদা বললেন, ডন এখানে আসেন এইটা দাদা শুনেছেন। উনি খুব রাগ করেছেন। তুমি এরে আর পাত্তা দিওনা।

আমি বললাম আমার কলিগের হাজবেন্ড। আমি তাকে সহযোগিতা করবই। দাদা বেজার হলে কিচ্ছু করার নাই।

উপনির্বাচনের পর বন্যায় নলুয়ার হাওড় তলিয়ে গেলে ডন ভাই নিজের গাড়ি নিয়ে জগন্নাথপুর এলেন। অফিস আদেশে আমিও গেলাম। ফিরলাম উনার গাড়িতে করে। উনি ড্রাইভিং সিটে আমি তার পাশে। সেদিন
আমার কিছু কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল তার।

উপনির্বাচনে আপনার দল কেন আপনাকে মনোনয়ন দেয়নি? নেতা মারা গেলে নেতার বউ, ছেলে কিংবা মেয়েকে নমিনেশন দেয়া হয় কিন্তু আপনাকে কেন দেয়া হয়নি। দলের কোনো পদে নেই কেন? সুনামগঞ্জের নেতারা কেউ আপনাকে পছন্দ করে না কেন?

ডন বললেন শেখ হাসিনা জীবিত থাকাকালে আমি কোনোদিন কিছুই পাবনা। আমার বাবা উনাকে এতটাই জালাইছেন ( নেত্রীরর ভাষায়) যে উনি আমাকেও সহ্য করতে পারেন না।

একথা আপনাকে কে বলল? তোফায়েল চাচা।
আপনার কি মনে হয়? আমিও এটাই মনে করি, তা না হলে আমি মনোনয়ন পেতাম।

আফসোস করে বলছিলেন আমি যা ভুল করেছি। আর কিইবা করার ছিল তা বুঝতেও পারিনি। বললেন জানাজা নিয়ে।

বাবা মারা যাওয়ার পর তার লাশ সংসদ ভবনে নেয়ার জন্য বিএনপির মন্ত্রীরা এসে আমাকে বলেছেন এর বিনিময়ে আমি যা চাই তাই তারা দিতে প্রস্তুত। ওই সময় দল সংসদ বর্জন করছিল। তোফায়েল চাচা আমু চাচারা বলেছেন নেত্রী না করেছেন লাশ যেন দক্ষিন প্লাজায় না যায়। আমি বিএনপির কথা শুনিনি। এইতো নির্বাচনের আগেও এরশাদ সাহেব বলেছেন লাঙল নিয়া যাও। তাও করিনি। কেমনে করব বলো আমার বাবা এই দলের জন্য কি-না করেছেন? সামাদ আজাদের ছেলে অন্যদল করবে এটা কেমন দেখায় তুমিই বলো?

শত ধকল পেরিয়ে গত নির্বাচনেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অংশ নেন। কথিত আছে এবার তাকে হারানো হয়েছে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে।

আজ এতবছর পর ডন ভাইয়ের সেই কথাগুলো মনে পড়ছে। সত্যিই কি ডন এখনো কিছু পাননি। মহসিন মামু আর সেনবাবুদের বউ যদি এমপি হয় তবে ডন কেন এত অপাঙতেয় জানতে ইচ্ছা করে।

মা তুমি এসব বুঝবা না, এটা আমি দেখছি কি করা যায়, সামাদ আজাদ সাহেবের এই উক্তিই কি তবে ডনের জন্য কাল হয়ে থাকবে?

February 17, 2018 ফেসবুকে প্রকাশিত