সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বখাটের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রী খুন



image-38872

ডেস্ক রিপোর্ট:

দিরাই পৌর শহরে বখাটের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রী খুন হয়েছে। ঘরে ঢুকে ওই স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় বখাটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়। শনিবার রাত আটটার দিকে দিরাই উপজেলার দিরাই পৌর শহরের মাদানী মহল্লায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত স্কুল ছাত্রীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ও মাদানী মহল্লা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মুন্নীর মৃতদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বিকাল ৫ টায় দিরাই উপজেলার নগদীপুরের গ্রামের বাড়ীতে পৌঁছায় মুন্নীর মৃতদেহ। এসময় স্বজনদের কান্নায় পুরো গ্রামেই হৃদয় বিদারক পরিবেশের অবতারণা হয়। সন্ধ্যায় গ্রামের কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। শনিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামের জামাল সর্দারের ছেলে ইয়াহিয়া সর্দার (২২) মুন্নীদের ঘরে ঢুকে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয়।
এদিকে রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন লস্কর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামালসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াহিয়ার খুঁজে অভিযান চালায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, সুমাইয়া আক্তার মুন্নী (১৯) নামের ঐ শিক্ষার্থী দিরাই উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার বাবা হিফজুর রহমান ইতালিতে থাকেন। তাদের বাড়ী দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের নগদীপুর গ্রামে। দিরাই পৌর শহরের আনোয়ারপুর নয়া হাটির মাদানী মহল্লা এলাকায় নানার বাসার ২য়’তলায় থাকেন হিফজুর রহমানের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা। কিছুদিন পূর্বে মুন্নীর মা ছেলেটির বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ র‌্যাব অফিসে একটি অভিযোগ করেছিলেন। র‌্যাব কার্যালয়ে ছেলেটিকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুুুচলেখা নিয়ে তা সমাধান করে দেয়া হয়েছিলো।
রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দিরাই সার্কেল বেলায়েত হোসেন লস্কর ও সিনিয় সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ।
নিহত মুন্নীর মা রাহেলা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘সামনের বছর এসএসসি পরীক্ষা ভালো করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল আমার মেয়ে মুন্নী। তাই ভালোভাবে লেখাপড়া করানোর জন্য গ্রামের বাড়ি ছেড়ে মেয়েকে নিয়ে আমি দিরাইয়ে আমার বাবার বাড়ীতে থাকছি, কিন্তু  বখাটে ইয়াহিয়া বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে এমনকি বাসার সামনে এসে আমার মেয়েকে উত্যক্ত করছিল। আমি ইতোপূর্বে আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকটও বিষয়টি লিখিত ভাবে জানিয়েছি, কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলনা।’
রাহেলা বেগম জানালেন, ২ মাস আগে র‌্যাব-৯’এর সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়কের কাছেও এসে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন দুই পক্ষকেই ডাকা হয়। ঐ সময় ইয়াহিয়া আসেনি। কেবল বখাটের বাবা জামাল সর্দার এসেছিল। র‌্যাব-৯’এর সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক তখন ছেলের বাবাকে শাসিয়ে দেন এবং তার ছেলেকে ভালো পথে নিয়ে আসার দায়িত্বও দেন।
দিরাই উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল বলেন, ‘মুন্নীর মৃত্যর খবর শুনে আমি মর্মাহত। মেয়েটার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে, সে খুব মেধাবী ছাত্রী ছিল, এসএসসিতে সে ভাল রেজাল্ট করবে বলে আমরা আশা করছিলাম।’
দিরাই থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে রাতেই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের করেননি পরিবারের লোকজন, তবে মরদেহ দাফনের পর তাঁরা থানায় আসবেন জানিয়েছেন। ঘাতক ইয়াহিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশী চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
র‌্যাব-৯’এর সুনামগঞ্জ ক্যাম্প’এর অধিনায়ক লে. কমান্ডার ফয়সল আহমদ মুঠোফোনে জানান, ঐ ছেলেটির বিরুদ্ধে স্কুল ছাত্রী মুন্নীকে নানাভাবে উত্যক্ত করার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগ পেয়ে দুইপক্ষকেই সুনামগঞ্জে ডাকা হয়। ছেলের বাবা এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন ছেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। পরবর্তীতে উত্যক্ত করলে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরে আর মুন্নীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন কিছুই জানানো হয়নি।
পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ্ খান বললেন,‘মুন্নীর পেটে ও বুকের বামপাশে আঘাত রয়েছে। আইজিপি ও ডিআইজি সাহেব নির্দেশ দিয়েছেন যত দ্রুত সম্ভব খুনীকে গ্রেপ্তার করার জন্য। আমরা জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দিরাইয়ে অবস্থান করছি এবং খুনীকে গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’ তিনি জানান, মুন্নীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম মুন্নীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জানান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঘটনা শুনে উদ্বেগ ও নিহত মুন্নীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।