বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

কাজের সন্ধানে শহরে হাওরের শিক্ষার্থীরা



 

tahirpur-p

এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর:
চলতি বছর তাহিরপুরে বোরো ফসল নষ্ট হওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার। ফলে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া ছেড়ে পরিবারের ভরন পোষন যোগাতে কাজ ও ভাতের সন্ধানে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে অনেকেই বিভিন্ন শহরে।

ফসল ডুবে যাওয়ায় অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খরচ বহন করতে না পারায় শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় লেখাপড়া ছেড়ে কেউ শহরের দিকে যাচ্ছে, আবার কেউ এলাকাতেই বিভিন্ন কাজকর্মে লেগে পড়েছে। এই দুর্যোগকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষা পুনর্বাসন করা না হলে চলে যাওয়া শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে ফিরবে কি না তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খাঁন জানান, উপজেলার মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন বোরো ফসলহানি এবং তাহিরপুর সীমান্তবর্তী তিনটি কয়লা শুল্কষ্টেশন (বড়ছড়া, ছাড়াগাও- বাগলী) এবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার অনেক পরিবারে নানা সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী কাজের জন্য অন্যত্র চলে যাচ্ছে।’

উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম জানান, ‘পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এলাকার শত শত শিক্ষার্থী কাজের সন্ধানে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে চলে গেছে। এসব শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আগামী বোরো ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত পুনর্বাসন করা না হলে কাজে যাওয়া শিক্ষার্থীদের হয়ত শিক্ষা জীবনে আর ফেরা হবে না।’

উপজেলার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম সবুল ও সহকরী শিক্ষক বাদল চন্দ্র তালুকদার জানান, ‘এ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র আফছারুল, ৯ম শ্রেণির ছাত্র শহানশাহ, সঞ্চিত পাল ও বিপ্লব পালসহ বেশ কিছু শিক্ষার্থী কাজের জন্য শহরে চলে গেছে। এসব শিক্ষার্থীদের পরিবার এ বছর ফসল হারিয়ে অর্থিক দুর্দশায় পড়লেও তাদের কোনো কর্মসংস্থান কিংবা সরকারি সাহায্য-সহায়তা পায়নি। এজন্য কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।’

জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র শাহানশাহ জানায়, পরিবারের অভাব দেখে সহ্য করতে না পেরে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে একটি গার্মেন্স কোম্পানীতে কাজ নিয়েছে। ঢাকা থেকে কাজ কর্ম করে  মা-বাবা, ভাই-বোনদের দুইমুঠো ভাত খাওয়ার চেষ্টা করছে। লেখাপড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায় লেখাপড়া আর কপালে জোটবে কি না এখনও বলতে পারছি না।

তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রমা কান্ত দেকনাথ জানান, উপজেলায় উচ্চ মাধ্যমিক, দাখিল মাদ্রাসায় মিলিয়ে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কাগজে-কলমে ১৪ হাজার ১২১ জন থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি শতকরা ৪০ ভাগেরও কম রয়েছে। অভাবে পড়ে বিদ্যালয় ছেড়ে কাজের সন্ধানে চলে যাওয়ায় শিক্ষার সুযোগ থেকে তারা এখন বঞ্চিত হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাবিরুর ইসলাম বলেন,‘ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো।’ তিনি আরো বলেন, ‘হাওর এলাকার শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে প্রয়োজনে শিক্ষার্থীর পরিবারকে পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তা দিয়ে তাদের লেখা পড়ার বিদ্যালয়ের খরচ ফ্রি করে দেয়ার চেষ্টা করব আমরা।’