শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

নতুন ভ্যাট/মূসক আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি ২০ হাজার কোটি টাকা



Nojibur_Rahman

ডেস্ক রিপোর্ট:

২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট/মূসক) আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল। তবে ওই ঘাটতি পূরণে নতুন কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করার পাশাপাশি সম্মিলিত প্রয়াসকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সংস্থার চেয়ারম্যান ও অভ‌্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. নজিবুর রহমান নতুন কর্ম পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাইজিংবিডিকে বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনায়াসে নয় প্রয়াসে (পরিশ্রমের সহিত) কাজ করতে হবে। সকল কমিশনারের এলাকায় ভ‌্যাট নিবন্ধিত যত প্রতিষ্ঠান আছে, তা উদ্বুদ্ধ করে নিয়মিতভাবে ভ‌্যাট রিটার্নের আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছি। একই সঙ্গে কমিশনারদের নতুন নতুন সম্ভাবনা খুঁজতে হবে। ব‌্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে টিম ওয়ার্ক ও ভ‌্যাট কর্তন মনিটরিং জোরদার করতে হবে। রাজস্ব পর্যালোচনা সভায় আমরা এগুলোর ওপর জোর দিচ্ছি।

এর পাশাপাশি ওই ঘাটতি পূরণে নতুন একটি কর্মপরিকল্পনা অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। যেখানে বকেয়া রাজস্ব আদায়সহ সম্মিলিত প্রয়াসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে অর্থ বিভাগ একমত পোষণ করেছে। অর্থবিভাগ বকেয়া নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব এ বিষয়ে অত‌্যন্ত সৃজনশীল ভূমিকা রাখছেন।

এনবিআরের নতুন কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে জানা যায়, নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত করায় যে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হওয়ার কথা, তা সংস্থানের একটি পরিকল্পনা সংসদীয় কমিটিতে তুলে ধরে রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠানটি। অর্থায়নের নতুন পরিকল্পনায় দেখা যায়, ঘাটতি পূরণে সিগারেট ও বিড়ি খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক হিসাব ও বিমানের টিকিটে আবগারি শুল্ক থেকে ৫০০ কোটি টাকা, ফাস্ট ফুডের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক থেকে ১০০ কোটি টাকাসহ মোট ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের সম্ভব হবে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায় মনিটরিং জোরদারসহ এডিআর ব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে বকেয়া রাজস্ব আহরণ ও কর প্রতিপালন বাড়ানোর মাধ্যমে আরও প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির কারণে ৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ প্রাক্কলন করা হয়েছে। সবমিলে ঘাটতি দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ২০ কোটি টাকা। আর ঘাটতি পূরণে এনবিআরের অধীন বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনারেটের বড় মামলাগুলো নিষ্পত্তি এবং নিরঙ্কুশ বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন কর্মপরিকল্পনায়।

এছাড়া এনবিআরের মনে করে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা এবং পেট্রোবাংলার কাছ থেকে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আছে। এই বকেয়া পরিশোধে অর্থ বিভাগ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

গত ১৩ জুলাই সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, ভ্যাট আইন স্থগিত করায় রাজস্ব আদায়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ নতুন ভ্যাট স্থগিত করায় ২০ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হবে। আর ওই ঘাটতি পূরণে হয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে নয়তো উন্নয়ন বাজেট কাঁটছাট করতে হবে।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ চলতি অর্থবছর থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের আপত্তি ও জনগণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তা দুই বছরের জন্য স্থগিতের প্রস্তাব করেন। পরে তা স্থগিত করেই অর্থবিল পাস হয়। নতুন ভ্যাট আইনে এক হাজার ৪৩টি পণ্য বাদে সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার কার্যকর করা, দেশি শিল্পের সুরক্ষা হিসেবে কার্যকর ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা তুলে দেওয়া ও বেশির ভাগ পণ্যের সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তাতে ভ্যাট খাত থেকে বাড়তি ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবেন বলে বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।