সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সমসা হাওরের বাঁধ হুমকির মুখে; রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন কৃষকরা



tahirpur somsar haor

এমএ রাজ্জাক,তাহিরপুর:
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সমসার হাওর রক্ষা বাঁধে সরকারী কোন বরাদ্ধ না থাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে সমসার হাওরের বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন হাজারো কৃষক। শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য সুধাংশু দাস উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের জামালপুর, নবাবপুর, ভোরাঘাট, দুধের আউটা, সমসার পাড়সহ সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো কৃষক নিয়ে সমসার বাধ ও বৈঠাখালী বাধঁ রক্ষা করার জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন।

শুক্রবার সকাল থেকে পাটলাই নদীতে পানি বাড়তে থাকায় সমসার হাওর রক্ষা বাধটি এখন হুমকির মুখে রয়েছে। মসজিদের মাইক দিয়ে বার বার কোদাল, টুকরি নিয়ে লোকজনকে বাধে যাওয়ার জন্য আহবান করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এক ফসলী সমসার হাওরে এ বছর ১৩শ একর বোরো ধানের চাষ হয়েছে। বেসরকারী হিসাব মতে এ হাওরে আর বোর ফসল বেশী।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, পানিতে মাটিয়ান হাওর তলিয়ে যাওয়ার পর হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বোর ফসল গোলায় তোলার একমাত্র ভরসা এখন শনি হাওর ও সমসার হাওর। এই দুই হাওরের বোর ফসল তলিয়ে গেলে গবাধি পুশু পালন করায় বড় দায় হয়ে দাড়াবে। হাওরবাসীর শেষ সম্বল এখন এই দুই হাওর রক্ষা করা।

tahirpur (3)

ইতিমধ্যে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি তলিয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক হাওর। উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কৃষক মতি মিয়া বলেন, সমসার হাওরটি রক্ষা হলে ধানের পাশাপাশি সীমান্তবর্তীসহ আশপাশের গ্রামগুলোর গরুর খাবারও সংগ্রহ করা যাবে।

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ ওয়ার্ড সদস্য শুধাংশু দাস বলেন, সরকারী কোন বরাদ্ধ না থাকায় গত একমাস ধরে নিজ উদ্যোগে এলাকার কৃষকদের নিয়ে সমসার বাধ ও বৈঠাখালী বাধে শ্রেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

আমরা হাওরবাসী সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী রুহুল আমিন বলেন, দায়িত্বশীলদের গাফিলতি আর লুটপাঠ চিন্তার কারণে এ বছর এতোগুলো হাওর বাধ ভেঙ্গে ডুবেছে। আর এখন সারা বছর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এক ফসলী বোরো ধান হারিয়ে আহাজারি করছেন কৃষকরা। আমরা চাই সমসা হাওরসহ প্রতিটি হাওরে সরকার বরাদ্ধ দিয়ে স্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হোক।

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, সংসার হাওরে কোন বরাদ্ধ না থাকায় আমরা ইউনিয়ন পরিষদ ও তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক সমিতির পক্ষ থেকে এবং এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে হাওরের বাধটি এখনও টিকিয়ে রেখেছি। তবে, যে হারে পানি বাড়ছে সরকারী কোন বরাদ্ধ না পেলে যে কোন সময় হাওরের বাধ ভেঙ্গে বোর ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন, সরকারী বরাদ্ধ না থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে সংসার ও বৈঠাখালী বাধে শত শত কৃষক বাধ রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সংসার বাধটি রক্ষা করার জন্য জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসী চেষ্টা করে যাচ্ছ। এই বাধে সরকারী বরাদ্ধ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।