মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

৩ মার্চ শুরু হচ্ছে চারদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব



sylhet uthsob

প্রেস রিলিজ:

‘শান্তি ও সমৃদ্ধিও জন্য সম্প্রীতির অভিযাত্রা’। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা “আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭” শীর্ষক সম্মেলন ও মিলনমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আগামী ৩ ও ৪ মার্চ ঢাকায় ও ৬ ও ৭ মার্চ সিলেট আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রিড়া কমপ্লেক্সে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে শনিবার দুপুরে সিলেট স্টেশন ক্লাবে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে জানান আয়োজকরা।

“আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭” আয়োজনে সিলেটে প্রায় তিনশত সদস্য বিশিষ্ট আয়োজক ও বাস্তবায়ন কমিটি কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান আয়োজকরা।

মরমী সাধক হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শিতালং শাহ, সৈয়দ শাহনূর, আরকুম শাহ, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের সংগীত ধারায় স্নাত শ্রীচৈতন্যের পূণ্যভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন আয়োজকরা জানান সিলেটের অনিন্দ্যসুন্দর নৈসর্গিক শ্যামলিমায় মুগ্ধ হয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম।

বাগ্মী বিপিন চন্দ্র পাল, ব্রতচারী আন্দোলনের প্রবক্তা গুরুসদয় দত্ত, সুলেখক সৈয়দ মুজতবা আলী, ইতিহাসতত্ত্ববিদ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ সিলেটের অহংকার বলেও আয়োজকরা তাদের বক্তব্যে ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, জাতীয় উন্নয়ন ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে বাংলাদেশের যে কয়েকটি সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকা তার মধ্যে অন্যতম। ব্র্রিটিশ ভারতে সিলেটের গুণীজনেরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীহট্ট সম্মিলনী। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে এই জালালাবাদ এসোসিয়েশন ও দক্ষিণ কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশন ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করেছিল ইন্দো বাংলা সিলেট উৎসব। ওই উৎসবে ভারত ও বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার সিলেটবাসী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপরে আয়োজনকবৃন্দ প্রিয়ভূমি সিলেটেই এ আয়োজন অনেক বেশী তাৎপর্যবহ ও নন্দিত হবে মনে করেন। এ অনুধাবনের প্রতিফলনই হচ্ছে আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭।

আগামী ৬ ও ৭ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় সিলেটবাসীর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও সেমিনার, গুণীজন সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, নৃত্য, নাটক, চলচ্চিত্র ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়াও উৎসবের স্মারক হিসেবে সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি-সাহিত্য, ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনীতি, পর্যটন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিলেটের নারীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও বর্ণাঢ্য স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান আয়োজকরা।

উৎসবে খ্যাতিমান শিল্পীদের গান, মরমী সাধকদের গান বই প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উদ্বোধনীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানীর বাড়ি থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হবে বলেও জানান আয়োজকরা। উৎসবে মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।

এই উৎসবের ঢাকা ও সিলেট দু’টি অংশেরই উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। এসময় আরো উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন, সিলেট বিভাগের অন্যান্য সংসদ সদস্যবৃন্দ।

সংগঠনের সভাপতি সিএম তোফায়েল সামি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জগলুল পাশার পরিচালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করেপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বহিস্কৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, গোলাম মেহেদী চৌধুরী, সিএম কয়েস সামী, মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরী, ফাহিমা চৌধুরী মনি, তাহমিনা আক্তার রুমি, প্রবাসী সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সংগঠনের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ চৌধুরী প্রমুখ।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম প্রমুখ।