বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত : কালনী পাড়ের চন্দন বৃক্ষ



suronjit
হাসান শাহরিয়ার ::
একটি উপন্যাস পড়েছিলাম। নাম ‘আশায় বাঁধে ঘর’। বইটির উপপাদ্য ছিল জীবনে যদি আশাই না থাকে, তাহলে প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ে করে ঘর বাঁধবে কীভাবে! ঘর বাঁধাটি ছিল আশার একটি রূপমাত্র। আশা মানে আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া হয়েছে এমন, কিছু পাওয়ার অপেক্ষা, ভবিষ্যৎ মঙ্গলজনক কিছু, ভরসা, ইচ্ছা, কামনা ইত্যাদি। শুধু ঘর বাঁধার জন্যই আশা নয়; ভালোভাবে বেঁচে থাকা, সমাজে মাথা উঁচু করে থাকা, রাজনীতিক হিসেবে জনসেবার জন্যও চাই আশা। আশাই জীবন। এই আশা ভঙ্গ হলে মানুষ নিরাশ হয়ে যায়, হতাশায় ভুগতে থাকে। হারিয়ে যায় সব উদ্যম ও প্রচেষ্টা। হয়ে ওঠে অভিমানী। সদ্য প্রয়াত জননেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করে তিনি কী পেয়েছিলেন? তার ভাষায়, একটি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন তিনি। ঘুষের ৭০ লাখ টাকার ঘটনাটি তিনি কোনোদিনই মেনে নেননি। ‘আমি অপরাধী হলে আমাকে গ্র্রেফতার করেনি কেন’- প্রায়ই এ প্রশ্নটি করে কোনো প্রকার ব্যাখ্যা না দিয়েই তিনি বলতেন, ‘এটি ছিল একটি নীলনকশা।’ মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার পর শুষ্ক হাসি হেসে তিনি বলতেন, ‘আমার একটা নতুন উপাধি হয়েছে :প্রাক্তন মন্ত্রী।’ রেলমন্ত্রী হয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার ভাটি এলাকা দিরাই-শাল্লায় তো রেল নিতে পারব না, তবে ছাতক-সুনামগঞ্জ রেললাইনটি করবই।’ কয়েক মাসের মাথায় মন্ত্রিত্ব চলে গেলে অনেকটা হতাশ হয়ে তিনি সুনামগঞ্জবাসীকে বলেছিলেন, “ওয়াদাটি রাখতে পারলাম না, তবে ঢাকা-সিলেট ‘কালনী’ ট্রেনটি চালু করেছি।” স্রোতস্বিনী কালনী নদীর পাশেই তার গ্রাম। তার স্বপ্ন ছিল, আগামী নির্বাচনের আগেই তিনি দিরাই-শাল্লা আঞ্চলিক সড়কটি উদ্বোধন করবেন। বছরের পর বছর ধরে এ রাস্তাটি নির্মাণে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও আমলাদের নাস্তানাবুদ করে রেখেছিলেন। শেষ অবধি ফল ছিল শূন্য। তার মতো একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন দিরাইয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রাণপুরুষ। তার চেষ্টাতেই সুনামগঞ্জ-দিরাই রাস্তা নির্মিত হয়। দিরাইর উন্নয়নে তিনি সচেষ্ট রয়েছেন।
জীবনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনেক আশাই অপূর্ণ থেকেছে। তবে শেষ আশাটি পূর্ণ হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে চন্দন গাছের কাঠ দিয়ে দাহ করো।’ তার নিজের হাতে লাগানো গাছ থেকে নেওয়া ও ঢাকা থেকে আনা কাঠ দিয়ে ভাটি-শার্দূলকে দাহ করা হয় দিরাইয়ের আনোয়ারপুরে নিজ গ্রামের পাশে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তার দিরাইয়ের নিজ বাড়ির আঙিনায় দুটি চন্দন কাঠের গাছ লাগিয়েছিলেন। তিনি কি জানতেন- এই গাছ দুটিই হবে তার মরণসাথী?
বাউল সম্রাট শাহ আবদুুল করিমের ভাটির জনপদ দিরাইয়ে ১৯৩৯ সালে সুরঞ্জিতের জন্ম। বংশপরম্পরায় আদি বাসিন্দা না হলেও জন্মসূত্রে তিনি দিরাইর বাসিন্দা। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রতিবেশী জামিল চৌধুরী বলেছেন, তার বাবা দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মী হিসেবে দিরাই যান ১৯৩৬ সালে এবং পরে দিরাই সদরে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তার দুই স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রী তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কলকাতা থাকতেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি দিরাইয়ে বসবাস করতেন। তার গর্র্ভেই জন্ম হয় সুরঞ্জিতের। মাতৃগর্ভে থাকাবস্থায় সুরঞ্জিতের বাবা মারা যান। আর সুরঞ্জিত যখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, তখন তার মা মারা যান। তার বাল্যকাল খুব দুঃখ-কষ্টে কেটেছে। তাই লোকে তাকে দুখী সেন বলে ডাকত। কেউ কেউ বলেন, ওটা ছিল তার ডাক নাম। ‘ছাত্রজীবনে হাস্যরসে ভরপুর ছিলেন সুরঞ্জিত’_ জানালেন তার বাল্যবন্ধু আবু জাফর খালেদ। ‘দিরাই স্কুলে পড়তাম ১৯৫৮ সালে। আমরা একসঙ্গে কালনী নদীতে ডিঙি বেয়ে স্কুলে যেতাম। তিনি স্কুলের একটি নাটকে ‘শকুনি মামা’র চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।’ আরেকজন বললেন, ১৯৫৮ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দিরাই বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন। একবার সেখানে সিরাজউদ্দৌলা নাটকে ঢাকার প্রখ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের অভিনয় করার কথা। কিন্তু কোনো কারণে তিনি দিরাই যেতে না পারায় তাৎক্ষণিক সিরাজউদ্দৌলা চরিত্রে অভিনয় করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি গ্রাম্য সালিশেও অংশ নিতেন।

স্কুলজীবনেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তার গুরু ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য গুলজার আহমদ। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এমএ পাস করেন ১৯৬৫ সালে। এর পর আইনের ডিগ্রি গ্রহণ করেন সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে। তবে আইন পেশার চেয়ে রাজনীতির দিকেই তার ঝোঁক ছিল বেশি। ছাত্রজীবনে নাটকে অভিনয় করতে করতেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭০-এর নির্বাচনের জোয়ারে যখন আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’র গতি অপ্রতিহত, তখন মস্কোপন্থি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) ‘কুঁড়েঘর’ প্রতীকে দিরাই-শাল্লা থেকে প্রাদেশিক পরিষদে জিতে এলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি ছিলেন বিরোধী দলের সবেধন নীলমণি সদস্য। তিনি সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে সংসদে তার প্রাঞ্জল ও জ্বালাময়ী বক্তৃতা সবাইকে মুগ্ধ করে। শেষমেশ সংবিধান প্রণীত হলো; কিন্তু অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক না করায় তিনি সংবিধানের মূল দলিলে স্বাক্ষর করেননি। এর পর তিনি গড়লেন একতা পার্টি এবং ওই পার্টির টিকিটেই নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ১০টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৭টিতেই তিনি জয়লাভ করেন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

ওই সময়কার একটি ঘটনা আমার মনে পড়ছে। আমি তখন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি। প্রেস ক্লাবে আমরা একটি স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও সেমিনারের আয়োজন করি। কলকাতার বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শুভ দত্ত এতে যোগদান করেন এবং বিনামূল্যে রোগী দেখেন। শেখ হাসিনা তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী। তিনি সিলেট সার্কিট হাউজ থেকে আমাকে ফোন করে জানতে চাইলেন- ডা. দত্ত আছেন, না চলে গেছেন? বললাম, ‘আছেন।’ তিনি বললেন, ‘শুভ দত্ত আমার সঙ্গে দেখা না করে তো যেতে পারেন না। কাল বিকেলে তাকে নিয়ে ঢাকায় আমার বাসায় চলে আসুন।’ তিনি তার মিন্টো রোডের বাসভবনে অনেক মিষ্টান্ন খাওয়ালেন ডা. দত্তকে। হঠাৎ সেখানে হাজির হলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। শেখ হাসিনা অত্যন্ত খুশিমনে ঘোষণা করলেন, ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তার মতো একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান আমাদের দলে যোগ দেওয়ায় আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।’ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে জাতি হারাল একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ; বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হারাল একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, আর আমরা হারালাম সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রসেনানীকে।’ প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন যথার্থ।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রবীণ সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী তার সঙ্গে একত্রে যুদ্ধ করেছেন। ‘তামাবিল, ভোলাগঞ্জ, বাঁশতলা, বালাট ও টেকেরঘাট নিয়ে ছিল ৫ নম্বর সেক্টর। এর পেছনে অবদান ছিল সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও প্রয়াত নাজিম কায়েস চৌধুরীর’_ স্মৃতিচারণ করে সালেহ চৌধুরী বলেন, দিরাই ও শাল্লা টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের অধীনে ছিল। মেজর মীর শওকত আলী (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল) সেক্টর কমান্ডার, সুরঞ্জিত সাব-সেক্টর কমান্ডার ও মেজর জগজিৎ সিং ভাট উপদেষ্টা। সেপ্টেম্বরে মেজর মোসলেমউদ্দিন এসে সাব-সেক্টরের দায়িত্বভার গ্রহণ করলে সুরঞ্জিত কলকাতা চলে যান। আরেক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ খসরু বলেছেন, ১০১ জোনের প্রধান মেজর জেনারেল গুরবাক সিং গিল সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা দিতেন। তাকে তিনি স্যার বলে সম্বোধন করতেন।

অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ছিলেন সুরঞ্জিত। তার চেয়ে জুনিয়র এমপিরা মন্ত্রী হন, আর তিনি হন সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। ‘রেলের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে আমি জড়িত ছিলাম- এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি’; এ উক্তি করে অভিমানের সঙ্গে বলতেন, ‘আমাকে আবার মন্ত্রী করলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত?’ তিনি অনুযোগের সঙ্গে বলতেন, আশা করেছিলাম, হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপনির্বাচনে জয়লাভ করার পর মন্ত্রী হবো। কিন্তু সে আশায় ছিল গুড়ে বালি। একবার আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন। আরও দুয়েকজন মন্ত্রীও ছিলেন। ‘মন্ত্রীরা যেখানে আছেন সেখানে আমাকে ডাকলে কেন?’ এরপর তিনি ঠাট্টা করে বললেন, ‘নেত্রীকে বল না আমাকে মন্ত্রী করতে।’ আমি অধম তো নেত্রীর কাছের লোক নই। দেখা করতে চাইলেই শুরু হবে গবেষণা- কেন দেখা করতে চাই, কী উদ্দেশ্য; চাকরি, তদবির না ব্যবসার দালালি? এ পরিস্থিতিতে নেত্রীকে কি এ কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল? ঠিক এমনিভাবে আবদুুস সামাদ আজাদ জাতীয় সংসদের লবিতে বলেছিলেন, ‘নেত্রীকে বল না আমাকে প্রেসিডেন্ট করে দিতে; আল্লাহ-বিল্লাহ করে বাকি জীবন কাটিয়ে দেব।’ কিন্তু এর আগেই বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নাম পাকা হয়ে গেছে। সামাদ আজাদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মুখের কথা আমি বুকেই চেপে রেখেছি।

গত বেশ কিছুদিন ধরে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত খুব ভেঙে পড়েছিলেন। রোগের চেয়ে মানসিক চিন্তাটাই বোধ করি বেশি ছিল। কেউ দেখা করতে গেলে তিনি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের একটি কবিতার কয়েকটি চরণ আওড়াতেন :’চির সুখীজন ভ্রমে কি কখন/ ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে? /কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে/কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।’ তার বন্ধুরা অনেকেই তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু তাদের কথা না শুনে ছোট সময়ে যাত্রাগানের পালায় যেভাবে অভিনয় করতেন, ঠিক সেভাবেই কবি মহাদেব সাহার কবিতা আবৃত্তি করতেন :’বিষাদ ছুঁয়েছে আজ,/মন ভালো নেই,/মন ভালো নেই;/ ফাঁকা রাস্তা, শূন্য বারান্দা/ সারাদিন ডাকি সাড়া নেই,/ একবার ফিরেও চায় না কেউ/পথ ভুল করে চলে যায়,/এদিকে আসে না/আমি কি সহস্র সহস্র বর্ষ এভাবে/তাকিয়ে থাকবো শূন্যতার দিকে?’

মানুষকে আপন করার এক জাদুকরী ক্ষমতা ছিল তার। শুধু ভাটি বাংলায় কেন; সব জায়গায়ই দেখা গেছে তার বক্তৃতা শোনার জন্য সব শ্রেণির লোক ভিড় জমাত। তিনি যখন সংবিধান কিংবা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কোনো ল পয়েন্ট নিয়ে সংসদে কথা বলতেন, তখন সব সদস্য তা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতেন। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘দেশ ও দেশের মানুষের অধিকারের পক্ষে সব সময় সোচ্চার থেকেছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।’ তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র ও প্রতিনিধিত্বশীল সরকারে বিশ্বাস করতেন। সংসদীয় পদ্ধতি চালু রাখার প্রশ্নে তিনি কখনও আপস করেননি। তিনি মনে করতেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদই হলো সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। সাংবাদিক প্রণব সাহার সঙ্গে আমি একমত যে, কাউলের উদাহরণ টেনে কোনো বিতর্কে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মতো আর কেউ সংসদ কাঁপাবে না। এ রকম একজন পার্লামেন্টারিয়ান পাওয়া জাতির জন্য এক বিরাট সৌভাগ্য। তার অনুপস্থিতি পদে পদে উপলব্ধি করবে জাতীয় সংসদ। আমাদের জীবদ্দশায় আরেকজন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মতো পার্লামেন্টারিয়ান দেখব- এমন আশা করি না। জাতীয় সংসদে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিতর্কে অংশগ্রহণ করে তিনি নিজেই বিতর্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি ছিলেন সংসদীয় গণতন্ত্রের পূজারি, তবে নন্দিত ও নিন্দিত। দোষ-গুণ যাই থাক না কেন, তিনি ছিলেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র। একবার যে তার সাহচর্যে গেছে, সে-ই তার মুরিদ হয়ে গেছে। রাজনীতিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নাম লেখা থাকবে সোনার অক্ষরে। জীবিতাবস্থায় যিনি ছিলেন অনেকটা অবহেলিত, মৃত্যুর পর তিনিই হয়ে গেছেন হাজারো গুণের অধিকারী। যেন ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক ও বিশ্লেষক কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস