সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

নুর হোসেনের সাম্রাজ্য খাঁখাঁ



49619_f6

সিলেট২৪ ডেস্ক:

নুর হোসেনের সাম্রাজ্যে সুনসান নীরবতা। কোথাও কোনো হাঁক ডাক নেই। কর্মী, সমর্থক আর সহযোগীদের তৎপরতা চোখে পড়ছে না। সব ফাঁকা। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়ায় তার দ্বিতল বাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়ছে। কিন্তু কেন একটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়ানো হচ্ছে এর উত্তর জানতে বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির প্রধান গেট খোলা। ভেতরে প্রবেশের সময় কেউ কারও পরিচয়ও জানতে চায় না। অথচ নুর হোসেন এ বাড়িতে থাকতে অনুমতি ছাড়া কারও প্রবেশের সুযোগ ছিল না। গেইট পেরুতেই দেখা যায় তিনটি প্রাইভেট কার পার্কিং করা। নুর হোসেন ছাড়াও তার আরো তিনভাই থাকেন এই বাড়িতে। বেশ খানিকটা সময় বাড়ির ভেতর ঘোরাঘুরি করলেও কথা বলার মত কাউকে পাওয়া যায়নি। দুপুর সোয়া একটার দিকে বেরিয়ে আসার পথে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, নুর হোসেন থাকতে এই বাড়িটি অনেক জমজমাট ছিল। কত নামী দামি লোকজন আসতো। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকজনও ছিল সেই তালিকায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গাড়ির লাইন লেগে থাকতো বাড়ির ভেতরে বাইরে। বিনা অনুমতিতে কেউ ভেতরে ঢুকতে পারতো না। ২৪ ঘণ্টা গার্ড থাকতো। সাতখুনের পর নুর হোসেন পালিয়ে গেলে একাধিক পুলিশি অভিযানের পর এই বাড়িটিতে কবরের নীরবতা নেমে আসে। তবে ইন্ডিয়া থেকে তাকে দেশে আনার পর তার স্ত্রীর পদচারণায় দু’চারজন লোকের আনাগোনা শুরু হয় বাড়িতে। কিন্তু গতকাল (সোমবার) নুর হোসেনের ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর কেমন জানি সব এলোমেলো হয়ে গেছে। বাড়ির লোকজনের চলাফেরাও কমে গেছে।
এই ভাঙ্গিস না, ফাঁসি এখনো হয় নাই
ঘড়ির কাঁটা দুপুর ১টা ৪৩ মিনিট। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে নুর হোসেনের অফিসের সামনে কয়েকজন শ্রমিক খোশগল্পে মত্ত। গল্পের মূল বিষয় নুর হোসেনের ফাঁসির আদেশ। কেউ বলেন গতকাল (সোমবার) মিছিল করলে ফায়ার করে দিত। একসঙ্গে ৪/৫ জনতে দাঁড়াতে দেয়নি। আবার মিছিল! কেউ বলেন উচ্চ আদালতে গেলে ফাঁসি টিকবে না। কেউ বলেন হইলেও অনেক দেরি আছে। আবার কেউ বলেন এটা তার পাপের সাজা। এরই মধ্যে একজন বলে উঠেন ‘এই ভাঙ্গিস না, ফাঁসি এখনো হয় নাই’। নুর হোসেনের পরিত্যক্ত অফিসের সামনে একটি ট্রাক (খুলনা মেট্টো-ট-১১-০০১২) পার্কিং করার সময় অফিসের সামনে অংশের টিনে লাগলে এমন কথা বলে উঠেন এক ট্রাক শ্রমিক। এই প্রতিবেদকের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কথা বলা থামিয়ে দেন ওই শ্রমিক। নাম জানতে চাইলে চুপ করে থাকেন। শেষ পর্যন্ত নাম বলতে রাজি না হলেও কথা বলেন। তিনি বলেন, আগে এই টার্মিনাল থেকে চেয়ারম্যান (নুর হোসেন) চাঁদা নিতো। ৩ শতাধিক ট্রাক থেকে দৈনিক ট্রিপ প্রতি ২১০ টাকা (লোকাল) ও ৩২০ টাকা (আন্তঃজেলা) করে আদায় করা হতো। এই টাকা উঠাতো তার নিয়োজিত লোকজনই। সাতখুনের পর থেকে চাঁদা নিচ্ছেন শ্রমিক লীগ নেতা সালাউদ্দিন। ট্রাকের ট্রিপ প্রতি ৫০ টাকা হারে চাঁদা নিয়ে সিটি করপোরেশনের রশিদ ধরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। তিনি নাকি ট্রাক টার্মিনালের ইজারাদার।
নুর হোসেনের পতনের কারণ দুই ব্যবসা
২০১৪ সালের ২রা মে শুক্রবার সাতখুনের শিকার নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের জানাজার পর নুর হোসেনের অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের পর বিক্ষুদ্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই অফিসটি পরিত্যক্ত জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ট্রাক শ্রমিক। তিনি বলেন, এই অফিসে বসেই নুর হোসেন তার সাম্রাজ্য পরিচালনা করতো। তিনি ছিলেন আন্তঃজেলা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের রেজি: ১৬৬৫) শিমরাইল শাখার সভাপতি। ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের নির্বাচনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নুর হোসেনের সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রন চলে যায় শিমরাইলের মনির, নজরুল, কাইল্ল্যা হাসান, আইয়ুব আলী গংদের কাছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর দেশে ফিরে রাজত্ব দখল করেন নুর হোসেন। ট্রাক টার্মিনাল ছাড়াও শিমরাইল এলাকার বিভিন্ন মিল- ফ্যাক্টরিতে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালের ৩০শে অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তার আরেক চেহারা ভেসে উঠে শিমরাইলবাসীর মাঝে। শিমরাইল মোড়ে পরিবহন সেক্টর ও ট্রাক টার্মিনালে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কাঁচপুর ব্রিজের নিচে পাথর-বালুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, জবরদখলসহ নানা কর্মকাণ্ডের বাইরে ন্যক্কারজনক আরো দু’ট ব্যবসা শুরু করেন নুর হোসেন। ওই ব্যবসা দু’টই তার পতনের মূল কারণ বলে জানিয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী আরেক পরিবহন চালক। তিনি বলেন, শিমরাইল আন্তঃজেলা ট্রক টার্মিনালকে মাদক পরিবহনের নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত করেন নুর হোসেন। সেখানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য পাওয়া যেত। কাউন্সিলর অফিসের পিছনে (নুর হোসেনের অফিস) টোকেন দিয়ে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হতো মাদক। মাদকের সহজলভ্যতায় এলাকার যুবসমাজ মাদকের নেশায় আসক্ত হতে থাকে দিন দিন। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয় অভিভাবকদের মাঝে। কিন্তু তারা নিরুপায়। এখানেই শেষ নয়। ট্রাক স্ট্যান্ড ও নিরালয় সিএনজি পাম্পের পাশের একটি দোতলা ভবনে শুরু করেন হাউজি, জুয়া ও যাত্রার নামে মাইকিং করে লটারি ব্যবসা। নগ্ন নিত্য দেখতে হাজারো মানুষের ভিড় লেগে থাকতো যাত্রার প্যান্ডেলের ভেতর। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লেনদেন হতো এই অপকর্মের রাজ্যে।
লুঙ্গি পরে যাত্রার প্যান্ডেলে আসতেন তারেক সাঈদ
যাত্রার প্যান্ডেল চারভাগে বিভিক্ত ছিল। তিনভাগে প্রশাসনের বিভিন্নস্তরের লোকদের জন্য নির্ধারিত। অপরভাগে পাবলিক বসতো ২০০ টাকা টিকিট কেটে। তবে একেবারে স্টেজের সামনে বসলে গুনতে হতো ৫০০ টাকা। জানালেন অপর শ্রমিক। তিনি বলেন, র‌্যাব-এর সিও তারেক (র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক সাঈদ মোহাম্মদ) রাতে সিভিলে লুঙ্গি পরে যাত্রায় আসতেন। বাহন হিসেবে ব্যবহার করতে কখনো রিকশা, কখনো সিএনজি। লোকজন তাকে না চিনলেও নির্ধারিত লোকেরা ঠিকই চিনতেন। তখন তাড়াতাড়ি তাকে তার জন্য নির্ধারিত রুমে নিয়ে যেত যাত্রার দায়িত্বে থাকা নুর হোসেনের সহযোগী রহম আলী। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের খাতির যত্ন করার দায়িত্বও ছিল রহম আলীর। সুন্দরী নারী নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত ফুর্তি করতো তারেক সাঈদ। শুধু তারেক সাঈদই নন র‌্যাব ও পুলিশের অন্য কর্মকর্তাও নিয়মিত আসতেন ওই যাত্রা দেখতে। তাদের জন্য আলাদা আয়োজন থাকতো নুর হোসেনের নির্দেশে। সুন্দরীদের দেখে মানুষ যাত্রার প্যান্ডেলে হুমড়ি খেয়ে পড়তো যাত্রা দেখতে আসা লোকজন। কিন্তু পরে দেখা যায় যাত্রার নারীরা আলাদা। আসল রূপসীদের আনা হতো ‘তাদের’ মনোরঞ্জনের জন্য। অসংখ্য সুন্দরী ললনার পদচারণা ছিল ওই রঙ্গলীলায়। ফুর্তি শেষে ভোরে গাড়ি দিয়ে তারেক সাঈদকে পৌঁছে দেয়া হতো তার গন্তব্যে। যাত্রার নামে নগ্ন নৃত্য ক্ষুব্ধ করে তোলে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে। কিন্তু প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিশ্চুপ থাকতে বাধ্য করে বিক্ষুব্ধদের। দৈনিক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় নুর হোসেন বাহিনী। ২০১৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি আরিফ হোসেন র‌্যাব-১১তে যোগদান করেন। পরে নুর হোসেনের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে তার। বিভিন্ন সময় আরিফ হোসেন নুর হোসেনের আস্তানায় গিয়েছেন। নুর হোসেনও আরিফের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে র‌্যাব অফিসে যান। একই বছরের ৩রা নভেম্বর র‌্যাব-১১তে সিও হিসেবে যোগদান করে লে. কর্নেল (অব) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ। একসময় নুর হোসেনের সঙ্গে তারেক সাঈদকে পরিচয় করিয়ে দেন আরিফ হোসেন।
নুর হোসেনের মুক্তির দাবিতে মিছিলে যায়নি কেউ
এদিকে সোমবার সাতখুন মামলার রায় ঘোষণার আগে নুর হোসেনের পরিবার ও সহযোগীদের পক্ষ থেকে ট্রাক টার্মিনালের শ্রমিকদের নির্দেশনা দেয়া হয় নুর হোসেনের মুক্তি দাবি করে মিছিল করার। ডিব্বা শহীদ আগেরদিন বলে যায় সবাইকে মিছিলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু লোকজন সাড়া দেয়নি। একথা জানালেন আরেক শ্রমিক। তিনি বলেন, অনেকেই বুঝতে পেরেছে নুর হোসেনের ফাঁসি হবে। আর মুক্তির দাবিতে মিছিল করলে পরে সমস্যা হতে পারে।
নানা অপকর্মের সরগরম অফিসটি এখন পরিত্যক্ত
ট্রাক টার্মিনালের একাধিক শ্রমিক জানান, ট্রাক টার্মিনালে নির্মিত অফিস থেকেই নুর হোসেন তার অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতো। অফিসের একটি অংশ নুর হোসেন তার ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ব্যবহার করে। প্রথমে অফিসের পূর্বপাশের রুমে বসতেন তিনি। পরে পশ্চিম দিকে বর্ধিত করা হয়। পূর্বদিকের দু’টি রুম ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির জন্য ছেড়ে দিয়ে পশ্চিম পাশের রুমগুলো তিনি ব্যবহার করেন। এরমধ্যে প্রথম রুমে বসতেন তিনি। পরের ছোট রুমে রক্ষিত থাকতো অস্ত্র। এর পরের রুমটি ছিল ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত। দামি খাট, আলমারি, সোফাসেট, ড্রেসিং টেবিল দিয়ে পরিপাটি রুমটিতে বসে আগতদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করতেন নুর হোসেন। অনেক রথী-মহারথীর আসা যাওয়া ছিল ওই রুমে। র‌্যাব’র তারেক সাঈদ, আরিফ সিভিল পোশাকে আসতেন। তবে তারেকের গাড়িতে র‌্যাব লেখা থাকতো। আরিফের চেয়ে তারেক সাঈদ বেশি যেতেন নুর হোসেনের ওই রুমে। দামি সোফায় বসে নুর হোসেনের সঙ্গে খোশগল্প করতেন তারেক সাঈদ। র‌্যাবের প্রধান দুই কর্মকর্তার সঙ্গে গভীর সখ্যতার কারণে নুর হোসেন হয়ে উঠে আরো বেপরোয়া। তবে নুর হোসেনের বান্ধবী নীলা ওই রুমে গেলে আর কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল ওই রুমে। প্রতিটি রুমই দাবি আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো ছিল। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের আনা গোনার বাইরে পুলিশের একটি টিম পালা করে ২৪ ঘণ্টা অফিসের সামনে পাহারায় থাকতো। প্রতিদিন নুর হোসেন তার অফিসে বসে লাখ লাখ টাকা লেনদেন করতেন। গভীর রাত পর্যন্ত সরগরম থাকা পুরো অফিসটি সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। অনুমতি ছাড়া সে যে-ই হোক ভেতরে প্রবেশ করতে পারতেন না। এই অফিসে অনেককে ধরে এনে নির্যাতন করা হতো। ব্যবসা ছাড়িয়ে নিতে, টাকা আদায়, জমি দখলসহ নানা কাজের জন্য ওই নির্যাতন চালানো হতো। নির্যাতনের দায়িত্ব পালন করতো নুর হোসেনের বডিগার্ড মোর্তুজা জামান চার্চিল। এই অফিসে অবাদ বিচরণ ছিল নুর হোসেনের অন্যতম সহযোগী শাজাহান, সেলিম, আলী মোহাম্মদ, সানা উল্লাহ সানা,  মোর্তুজা জামান চার্চিল, আবুল বাশার, জামাল উদ্দিনের। তারা সব সময় নুর হোসেনের গাড়ির আগে পিছে অন্য গাড়িতে অস্ত্র নিয়ে থাকতো। আবার এই অফিসের নির্বারিত রুমে অস্ত্রগুলো রক্ষিত রাখা হতো। নুর হোসেন তাদের নিয়মিত বেতন দিতেন। এরমধ্যে শাজাহান ৫০ হাজার টাকা, সানা উল্লাহ সানা ৪০ হাজার টাকা, আলী মোহাম্মদ ৪০ হাজার টাকা, মোর্তুজা জামান চার্চিল ৩০ হাজার টাকা, আবুল বাশার ২০ হাজার টাকা, জামাল উদ্দিন ২০ হাজার টাকা। তবে ১০ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত বেতন পেত ২০ জন। এছাড়া প্রতিদিন হাজিরার ভিত্তিতে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করে দেয়া হতো আরো ২০ জনকে। নানা ঘটনার সাক্ষী ওই অফিসটি এখন পরিত্যক্ত। গতকাল সরজমিন তালা দেয়া অফিসটির জানালা দিয়ে দেখা যায়, সব রুম লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে। ধুলার আস্তর পড়েছে আসবাবপত্রে। বিশেষ রুমটির আলমারি, সোফা, খাট, ড্রেসিং টেবিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। কোনটা ভাঙা। নুর হোসেনের রুমটির একই অবস্থা। রুমগুলো এখন নানা অপকর্মের শুধুই স্মৃতি। শ্রমিকদের টার্মিনালের অনেক শ্রমিকের অভিযোগ, প্রমাণ নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে নিহত নজরুল ইসলামের জানাজার পর অফিসটিতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে অনেক মূল্যবান নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অফিসের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার হলে অনেক কিছু জানা সম্ভব হতো। মুখোশ উন্মোচিত হওয়ার ভয়ে অফিসে ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার নেপথ্যে ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করেছে ওই প্রভাবশালী মহলটি।

সূত্র: মানবজমিন