বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

“বীর্যপাতে ১০টি গরু নিহত”



maruf

মারুফ হাসান:

আমার এক সহকর্মী সাংবাদিক আমায় ফোন দিয়ে বললেন, একজন টিভি সাংবাদিক অনলাইন মিডিয়াকে “দোকান” হিসেবে অভিহিত করেছেন। অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী হয়ে আমি কেন তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করলাম না।

টিভি সাংবাদিক লিখেছেন :
{সাবধান…”অনলাইন” সাংবাদিক নামধারী দস্যুদের অপতৎপরতা বেড়েই চলেছে। নামসর্বস্ব ভূঁয়া অনলাইন “দোকান”থেকে দুরে থাকবেন সবাই।}

উনার এই শতর্কবাণী অমুলক নয়। আমরা নিজেরা এর ধারা বেশী আক্রান্ত। সেটা আপনি নিজেও ভালো বুঝেন। নামসর্বস্ব ভূঁয়া অনলাইন আপনার-আমার আশা-পাশে গিজ গিজ করছে এই সত্য স্বীকার করতে অসুবিধা কোথায়? আপনার আমার ইজ্জতের ১২টা এরাই বাজাচ্ছে। আমি এমন একজন সিনিয়র সাংবাদিককে জানি… যিনি পকেটে উনার পত্রিকার আইডি কার্ডের ফটো কপি (রঙিন) নিয়ে ঘুরেন। (৩শ-৫শ-হাজার টাকা) যার কাছ থেকে যা পারেন তা নিয়ে সাংবাদিকতার কার্ড দিয়ে দেন।

আমি এমন সাংবাদিকও দেখেছি যিনি ‌” সাংবাদিক’ শব্দটি উচ্চরণ করতে পারেন না … বলেন ‘সাম্বাদিক’। ”পত্রিকা” কে বলেন ”পরতিকা”। এই সমাজে এমনও সাংবাদিক আছেন যিনি “আটক” আর “গ্রেপ্তার” শব্দের ব্যবহার বুঝেন না, বুঝেন না “বীর্য” , “বর্জ্য” , “বজ্র”। তাইতো অনলাইন পত্রিকায় শিরোনাম হয় “বীর্য পাতে ১০টি গরু নিহত” কিংবা “বর্জ্যপাতে ১জন নিহত”।

সিলেটের সাংবাদিকতার সবচেয়ে খারাপ দিক হলো একজন আরেকজনকে হজম করতে পারেন না। একটি গ্রুপ অন্য একটি গ্রুপকে অপসাংবাদিক বলে। যারা বলাবলি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা কাজ করেন কম। আর যারা কাজ করেন তারা বলা-বলির সময় পান না।

একটা গল্প দিয়ে শেষ করি…
একটি পত্রিকা অফিস। খুব ধুম-ধাম করে উদ্বোধন হলো। বিখ্যাত সব সাংবাদিক পত্রিকায় যোগদান করলেন। নিউজ করছেন। ভাল ভাল সংবাদের কারণে পত্রিকার কাটতি বেড়ে গেলো। চারিদিকে পত্রিকার নাম ছড়িয়ে পড়লো…। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সাংবাদিকরা বেতন-ভাতা সংকটে পড়লেন। কর্তৃপক্ষ কাজ ঠিক ঠাক চায় কিন্তু বেতন ভাতার বিষয়ে উদাসিন। একে একে ভাল সাংবাদিকরা চলে গেলেন, বিনা পয়সা আর কতদিন কাজ করা যায়। রয়ে গেলেন সেই সকল সাংবাদিক যারা বেতন চান না … চান ছাপার অক্ষরে পত্রিকার পাতায় নিজের নাম।

সাম্পাদক পড়লেন সমস্যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দাওয়াত আসে তিনি সাংবাদিক পাঠাতে পারেন না। একদিন অফিসের পিয়নকে ডেকে বললেন অমুক এলাকায় তমুকের একটি অনুষ্ঠান হচ্ছে তুই ক্যামেরা নিয়ে যা … ক’টা ছবি তুলে নিয়ে আসিস। আর শোন পারলে কে কে বক্তব্য রেখেছে কাগজে লিখে দিতে বলবি।

হুকুম পালন করতে অফিস পিয়ন ছুটে গেলো অনুষ্ঠানে… নিয়ে এলো ছবি, আর নোট। সম্পাদক সাহেব রয়ে যাওয়া সাংবাদিকের মধ্যে একজন দিয়ে বললেন নিউজটা তৈরী করো। তৈরী হলো নিউজ… সম্পাদক সাহেব বললেন, পিয়নটা এতো কষ্ট করে ছবি তুলে নোট নিয়ে এসেছে তার নামটা দিয়ে দাও ….. বাহহহহহহহহহহ! আর কি….. সেই থেকে প্রায় জায়গায় প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে পিয়নের ক্যামেরা ঝলসে উঠে সংবাদ হয় … নামে প্রকাশ হয়… এক সময় অফিসের পিয়নটি হয়ে যায় সাংবাদিক ত্থুক্কু ”সাম্বাদিক”।

পুনশ্চ : গল্পটি নিতান্ত গল্প। কারো ব্যক্তিগত জীবনের সাথে মিলে গেলে তা অনভিপ্রেত ঘটনা মাত্র। বিতর্ক এড়িয়ে যাবার অনুরোধ রইল।

(লেখাটি মারুফ হাসানের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া-সম্পাদক)