বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

তিল ছাড়াই তাল !



mahmudur-rahman

মো. মাহমুদুর রহমান::

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ’তিলকে তাল করা’। সামান্য কোন ঘটনাকে রঙ চঙ লাগিয়ে বড় করে উপস্থাপনের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের অর্থে এ প্রবাদ ব্যবহৃত হয়। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ঘটনাটিও আমার কাছে প্রথমে এরকম মনে হয়েছিল।

কিন্তু গতকালকের (06.11.2016) দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার রিপোর্টটি পড়ে মনে হল ওখানে কোন তিলও ছিল না। তিলটিও অসৎ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করে তারপর তাল বানানো হয়েছে। দুষ্ট চক্রের সৃষ্ট তিলটি সরানোর চেষ্টা করেছিল রসরাজ দাস তার ফেইসবুকে ক্ষমাপ্রার্থনা ও তাঁর অবস্থান জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে। কিন্তু কে শোনে কার কথা? অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিল লিজের স্বার্থের মূলা যখন সামনে আছে!! এছাড়া সুবিধা আরও আছে পুরো ঘটনায় সাথে পাওয়ূা গেছে অতি আবেগি বেআক্কেল মুসলমানদের। যার কারণে কলঙ্ক তিলক পরবে অাসল দুষ্কৃতকারিরা নয়, ধর্মীয়ভাবে মুসলমানরা। কী মজা!! নির্যাতিত হিন্দুরা তাদের ধর্মের কারণে। আর নির্যাতক মুসলমানরা তাদের ধর্ম ইসলামের কারণে!! অার কাজ আমার হয়ে গেল দলীয় রাজনীতিতে সুবিধা আদায় এবং বিলের মাছের ভাগও আদায়!!

আরও মজার বিষয় হচ্ছে, হিন্দুরা নির্যতিত হচ্ছে এবং মুসলমানরা কলঙ্ক তিলক পরছে। তবুও সুযোগ সন্ধানীদের প্রতিহত করতে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ সৃষ্টি করছে না। ধর্মীয় নেতারা যোগাযোগের মাধ্যমে এসব হামলা ও অপবাদের হাত থেকে নিজ নিজ ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে পারতেন সহজে। হিন্দু মিশন বা ইসকনের নেতাদের সঙ্গে যদি পার্শ্ববর্তী মসজিদের ইমাম বা মাদ্রাসার প্রধানদের সুসম্পর্ক থাকতো তাহলে ক্রাইসিস মুহুর্তে পারস্পারিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা নিজেরাই উত্তেজিত জনতাকে সামলাতে পারতেন। তৃতীয় পক্ষ উত্তেজনা সৃষ্টি করে সুযোগ নিতে পারতো না। ২০১৪ সাল থেকেই আমি আন্তধর্মীয় নেতাদের যোগাযোগের উপর গুরুত্ব দিযে লিখছি সাম্প্রদায়িক হামলা ঠেকানোর জন্য। কিন্তু সাধারণ মানুষের এসব ভাবনা বা লেখাকে গুরুত্ব দেয়ার প্রযোজন মনে করে না কখনও ক্ষমতাবানরা। কারণ? উত্তর সহজ! রাস্তা বারবার নষ্ট হলেই ঠিকাদাররা প্রতিবছর একই রাস্তায় ঠিকাদারি করে টাকা কামানোর সুযোগ পায়। তাই কোন রাস্তাই টেকসই ও মজবুত করে মেরামতের দরকার নেই। একইভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরালো হলে এসব নির্যাতনের ঘটনা আর ঘটবে না। তাই হিন্দু নির্যাতনের সুবিধাভোগিরা তখন অনেক কিছুই হারাবে। কে চায় তাঁর সহজ ব্যবসা নষ্ট করতে!

মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের উচিত ছিল অন্য সুযোগ সন্ধানীদের দিকে না তাকিয়ে হিন্দুদের সঙ্গে যোগযোগ সৃষ্টি করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। কিন্তু তারা তসবীহ হাতে ঘুমিয়ে আছে মসজিদ অথবা খানকায়।

উনাদের ঘুম ভাঙছে না। আর আমি দুদিন থেকে আমার হিন্দু সহকর্মীর দিকে তাকাতে পারছি না লজ্জায়! কারণ আমি যে মুসলমান!! হয়তো আর বেশিদিন আমাকে লজ্জা পেতে হবে না। অন্যায় অবিচার সর্বগ্রাসী রূপ নিয়ে সমাজের অন্য সবজায়গায় যেভাবে সহনীয় হয়ে গেছে তেমনি হয়তো হিন্দু নির্যাতনের ক্ষেত্রেও সহনীয় হয়ে যাবে। তখন আমিও লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পাব। আমাকে আপনাকে কি ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে??

লেখক: ব্যাংকার