সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২৮ মাদ্রাসা বিপাকে



129605_1সুনামগঞ্জ জেলার ১১ উপজেলায় ২৮ টি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়নি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসব মাদ্রাসা বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। এসব মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক দৈনদশায় ভোগছেন। কবে এসব মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হবে তা জানেন না জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার শিক্ষকগণ।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১ উপজেলায় কামিল, ফাজিল, আলিম ও দাখিলসহ মোট মাদ্রাসা রয়েছে ৯১টি। এর মধ্যে কামিল মাদ্রাসা মাত্র ১টি, ফাজিল ৩টি, আলিম ১১ টি ও দাখিল মাদ্রাসা ৭৬টি। ৭৬টি দাখিল মাদ্রাসার মধ্যে ননএমপিওভুক্ত মাদ্রাসা হলো ২৮ টি। এই ২৮টি মাদ্রাসার মধ্যে শুধুমাত্র স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদ্রাসা ১২ টি এবং অনুমোদনপ্রাপ্ত মাদ্রাসা হলো ১৬ টি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে আলিমের স্বীকৃতি নিয়ে চলছে আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা এবং শুধুমাত্র অনুমোদন নিয়েই চলছে দারুল হুদা দাখিল মাদ্রাসা। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৭টি মাদ্রাসা রয়েছে। শুধুমাত্র অনুমোদন নিয়ে চলছে উপজেলার বীরগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও উমেদনগর হযরত শাহজালাল (রঃ) দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা। দোয়ারাবাজার উপজেলার ফাজিল, আলিম ও দাখিল মাদ্রাসাসহ মোট মাদ্রাসা ১১ টি। এর মধ্যে ফাজিল এমপিওভুক্ত কলাউড়া দারুছুন্নাৎ কাঝিমিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, দাখিল এমপিওভুক্ত তবে আলিম স্বীকৃতপ্রাপ্ত মাদ্রাসা হলো বরইউরি দারুসসুন্নাত বহুমমুখি আলিম মাদ্রাসা ও দ্বীনেরটুক দারুল কোরআন আলিম মাদ্রাসা। শুধুমাত্র  স্বীকৃতপ্রাপ্তি নিয়ে চলছে নরসিংহপুর আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা এবং অনুমতি নিয়ে চলছে হাজী মিয়াধন আলী দাখিল মাদ্রাসা ও সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা। দিরাই উপজেলার মাদ্রাসা ৬টি, তবে শুধুমাত্র স্বীকৃতি নিয়ে চলছে হাতিয়া পীল আকিল শাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা। জামালগঞ্জ উপজেলার মাদ্রাসা ৬টি। এর মধ্যে স্বীকৃতি নিয়ে কার্যক্রম চলছে হাজী জুলেখা তায়েব ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। তাহিরপুর উপজেলার মোট মাদ্রাসা ৫টি, এর মধ্যে কলাগাঁও জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা স্বীকৃতি নিয়ে ও শাহজালাল (রঃ) জামেয়া আরিবিয়া দাখিল মাদ্রাসা অনুমোদন নিয়ে চলছে। বিশ্বম্ভরপুরে মোট মাদ্রাসা ৬টি এর মধ্যে মাছিমপুর দাখিল মাদ্রাসা, ভাদেরটেক ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও গাজীরগাঁও অষ্টগ্রাম মাদ্রাসা তিনটিই চলছে শুধুমাত্র অনুমতি নিয়ে। জগন্নাথপুর উপজেলায় কামিল, আলিম ও দাখিল মাদ্রাসাসহ মোট মাদ্রাসা ১৭টি, এর মধ্যে দুইটি মাদ্রাসা দাখিল হলেও আলিমের অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনটি চলছে স্বীকৃতি নিয়ে এবং দুইটি চলছে শুধুমাত্র অনুমোদন নিয়ে। স্বীকৃতি নিয়ে চলছে বালিকান্দি আটপাড়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা,  পীরেরগাঁও সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও রসুলপুর জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। এবং অনুমতি নিয়ে চলছে শাহজালাল জামেয়া দ্বীনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও পূর্ব বুধরাইল আটঘর আউদত ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। জেলার ছাতক উপজেলার সবচেয়ে বেশী মাদ্রাসা রয়েছে। এই উপজেলার মোট মাদ্রাসা ২৪টি, এর মধ্যে কামিল এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ১টি, আলিম এমপিভুক্ত মাদ্রাসা ৩টি, ২টি দাখিল মাদ্রাসা আলিমের স্বীকৃতি নিয়ে কার্যক্রম চালাছে। দাখিল এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৮টি, ৫ টি দাখিল মাদ্রাসা চলছে স্বীকৃতি নিয়ে এবং ৫টি চলছে শুধুমাত্র অনুমোদন নিয়ে। স্বীকৃতি নিয়ে চলছে গাবুরগাঁও দারুল কোরআন  দাখিল মাদ্রাসা, জামেয়া ইসলামিয়া বনগাঁও দাখিল মাদ্রাসা, দিঘলী রহমানিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, কালারুকা লতিফিয়া  ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও রাধারনগর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা। অনুমোদন নিয়ে চলছে আল-ইখওয়ান বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, বন্দরগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা,  জামেয়া মুহা. মুক্তিরগাঁও দাখিল মাদ্রাসা, শাহ সুফী মোজাম্মিল আলী দাখিল মাদ্রাসা ও মুহাম্মদিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা।
সম্প্রতি বন্ধ হওয়ায় দোয়ারাবাজার উপজেলার হাজী মিয়াধন আলী দাখিল মাদ্রাসার সুপার কাজী মাহমুদুর রহমান আজাদ বলেন,‘আমাদের মাদ্রাসাটি প্রায় ১২ বছর আমরা বেসরকারি উদ্যোগেই চালিয়েছিলাম। আমাদের মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিতসহ অনেক সমস্যায় ছিলাম আমরা। এমপিওভুক্ত হলে সবার জন্যই ভাল, না হলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী সবাই অর্থকষ্টে ভোগে। নদী ভাংগনের কবলে পরে আমাদের মাদ্রাসার ভূমি বিলীন হয়ে গেছে। আশপাশে কোন ভূমি না পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দয়েছি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন,‘গত দুই বছর ধরেই স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার কার্যক্রম সরকারিভাবেই বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকার কারণে সরকার নতুন করে কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করছেন না। সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জের অনেকগুলো মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত হয়নি। যেসব মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়নি সেসব মাদ্রাসাগুলো নানা সমস্যার সাথেই চলছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতাসহ সবকিছুই ছাত্র-ছাত্রীর বেতন থেকে দিতে হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রমে নন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাগুলো এমপিওভুক্ত সরকারি বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর মতই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সরকারের সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত থাকছে নন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাগুলো।’