সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বিপাকে ৯ কলেজ



edu_building_20266সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নানা কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা সদরের ন্যায় এবার উপজেলা পর্যায়ে অনেকগুলো কলেজকে সরকারিকরণ করা হচ্ছে। তবে এখনও সুনামগঞ্জ জেলার ৯টি কলেজ এমপিওভুক্ত হয়নি।

এমপিওভুত্ত না হওয়ায় জেলার এসব বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কলেজের ভবিষ্যত নিয়েও অনেকেই চিন্তিত। কলেজের অধ্যক্ষরা জানিয়েছেন শুধু স্বেচ্ছাশ্রমেই তারা পাঠদান দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা যাতে উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়তে পারে এবং কোন এক সময় এমপিও হতে এই আশায় পাঠদান করছেন তারা।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১ উপজেলার সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট কলেজ রয়েছে ৩০টি। এর মধ্যে বর্তমানে সরকারি কলেজ দুইটি, এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৩০টি কলেজের মধ্যে ডিগ্রি কলেজ ১৮টি। ওই ১৮টির মধ্যে সরকারি কলেজ দু’টি, একটি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ও সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ। অন্য ১৬টির ডিগ্রি কলেজের মধ্যে ডিগ্রি এমপিওভুক্ত ৭ টি, শুধু ডিগ্রি অনুমোদিত কলেজ ৯টি। ওই ৩০টি কলেজের মধ্যে ৫টি কলেজের শুধুমাত্র স্বীকৃত রয়েছে। ৪টির রয়েছে অনুমতিপ্রাপ্ত।

ডিগ্রি এমপিওভুক্ত কলেজগুলো হল, জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, ছাতক ডিগ্রি কলেজ, গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ, দিরাই ডিগ্রি কলেজ,ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ, বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজ। ডিগ্রি অনুমোদিত, তবে উচ্চ মাধ্যমিক এমপিভুক্ত এমন কলেজগুলো হল সুনামগঞ্জ পৌর কলেজ, গৌরারং ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, জাউয়াবাজার ডিগ্রি কলেজ, জনতা ডিগ্রি কলেজ, জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ, দিরাইয়ের বিবিয়ানা মডেল ডিগ্রি কলেজ, তাহিরপুরের বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ, দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজ ও শাল্লা ডিগ্রি কলেজে। শুধুমাত্র স্বীকৃতপ্রাপ্ত কলেজগুলো হল, সদর উপজেলার জয়নগর এলাকার মঈনুল হক কলেজ, মঙ্গলকাটা এলাকার আলহাজ্ব মতিউর রহমান কলেজ, জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর আদর্শ কলেজ ও রানীগঞ্জ কলেজ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ এলাকার আব্দুল মজিদ কলেজ।  অনুমতিপ্রাপ্ত কলেজগুলো হল, সুনামগঞ্জ শহরের নর্থ ইস্ট আইডিয়াল কলেজ, জগন্নাথপুরের চন্দন মিয়া সৈয়দুননেছা কলেজ, দিরাইয়ের আটগাঁও মহাবিদ্যালয় ও মধ্যনগরের বংশিকুন্ডা কলেজ।

আলহাজ্ব মতিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ অনীশ তালুকদার পাপ্পু বলেন,‘ আমাদের কলেজ এমপিও না হওয়ায় আমরা অনেক অসুবিধায় আছি। এলাকার অভিভাবকরা মনে করেন আমাদের কলেজের ছেয়ে এমপিভুক্ত অন্যান্য কলেজগুলোর মান ভাল। সেসব কলেজে আমাদের চেয়ে তদারকি বেশী হয়। কিন্তু আমরাও সাধ্যমত পাঠদানসহ সবকিছুই করে যাচ্ছি। তবে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় আমরা ভাল শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছি না। ভাল শিক্ষক আমাদের কলেজে আসতে চান না। সব মিলিয়ে আমরা কলেজের উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমেই পাঠদান দিয়ে যাচ্ছি। এমপিও থাকলে আমাদের এসব সমস্যা থাকত না। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন থেকে দিতে হয়। এছাড়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মতিউর রহমান সাহেব প্রতি মাসেই টাকা দেন।’

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আব্দুল মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. রবিউল ইসলাম বলেন,‘অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় সারা দেশেই এমপিওভুক্তি বন্ধ হয়ে আছে। এমপিওভুত্ত না হওয়ায় আমরা কি ধরনের সমস্যায় আছি তা ভাষায় বলা যাবে না। মানুষের হাতে টাকা পয়সা না থাকলে যা হয় কলেজ নিয়ে আমাদেরও একই অবস্থা। এলাকার মানুষের দায়বদ্ধতা ও ছাত্র-ছাত্রীর কথা চিন্তা করে আমরা পাঠদান দিচ্ছি। এমপিওভুত্ত কলেজে যেভাবে পাঠদান দেয়া আমরাও একইভাবেই পাঠদান দিচ্ছি। তারা সরকারি সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন আর আমরা কিছুই পাচ্ছি না। সরকার কোন সময় আমাদের প্রতি সদয় হবেন এই আশায় দীর্ঘদিন ধরেই আছি। আমাদের পক্ষ থেকে দাবি উঠছে শত শত শিক্ষক পরিবারের প্রতি সরকার

নজর দিবেন এবং দ্রুত আমাদের কলেজগুলোকে এমপিওভুক্ত করা হোক আর না হয় এসব কলেজ বন্ধ করে দেয়া হোক। ’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন,‘গত দুই বছর ধরেই স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত করার কার্যক্রম সরকারিভাবেই বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকার কারণে সরকার নতুন করে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করছেন না। সারা দেশের ন্যায় সুনমাগঞ্জের বেশ কয়েকটি কলেজ এমপিওভুক্ত হয়নি। যেসব কলেজ এমপিওভুক্ত হয়নি সেসব কলেজগুলো নানা সমস্যার সাথেই চলছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতাসহ সবকিছুই ছাত্র-ছাত্রীর বেতন থেকে দিতে হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রমে নন এমপিওভুক্ত কলেজগুলো এমপিওভুক্ত সরকারি বেসরকারি কলেজগুলোর মতই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সরকারের সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত থাকছে নন এমপিওভুক্ত কলেজগুলো।’