সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

জেলা পরিষদ নির্বাচন- বিএনপি’র অংশগ্রহণ অনিশ্চিত



rtyজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব এ কথাই জানিয়েছেন। বিএনপি’র স্থানীয় নেতারা বলেছেন,‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধি প্রণীত না হলে বিএনপি’র অংশ গ্রহণ অনিশ্চিত থাকবে। তবে দলীয় চেয়ারপার্সন দেশে না আসা পর্যন্ত এবং তাঁর সিদ্ধান্ত না জানা পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না’। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও জাপার প্রার্থীদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১৬’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংশোধিত আইন অনুযায়ী পরিষদ গঠিত হবে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে। আর তাদের নির্বাচন করবে একটি ইলেক্টোরাল কলেজ। জেলার বিভিন্ন স্থানীয় সরকার কাঠামোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত হবে।

২৯ আগস্ট মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সংশোধন আইনের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে বৈঠকের বিষয়বস্তু সাংবাদিকেদের সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম শফিউল আলম।

তিনি বলেন, আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অধ্যাদেশ জারি করে আইন কার্যকর করা হবে। একজন  চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য এবং ৫ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নিয়ে পরিষদ গঠিত হবে। তারা ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে নির্বাচিত হবেন। চার স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের (সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ) নিয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত হবে। যেসব জেলায় সিটি কর্পোরেশন নেই, সেসব জেলায় তিন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত হবে।

জেলা পরিষদ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা সরকারের বিষয়। সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ১৫ জন সদস্য কিভাবে দায়িত্ব পালন করবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা পরিষদকে ১৫টি ভাগ করা হবে। প্রত্যেককে একটি করে এলাকার দায়িত্ব দেয়া হবে। তবে নারী সদস্যরা একেকজন তিনটি এলাকার দায়িত্ব পাবেন। আইন পাসে অধ্যাদেশ জারি করা হবে কেন- এই প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখন সংসদ অধিবেশন নেই তাই অধ্যাদেশ জারি করা হবে’।

প্রসঙ্গত, দেশে বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইন ২০০০ সালে প্রণীত হলেও এখনও নির্বাচন হয়নি। এই প্রথমবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার আইন সংশোধন করল। দ্রুত নির্বাচন করার লক্ষ্যেই আইন সংশোধন। এর আগে ২৭ জুলাই স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করে নির্বচান করব।
অবশ্য. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ আগস্ট সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও সকলেই বলছেন-‘নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী দেবে কী না এটিই দেখার বিষয়। অনেকেই বলছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে না আসলে এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলে প্রচার জমবে না, নির্বাচন বিষয়ে মানুষের আগ্রহও কম থাকবে’।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ফারুক আহমদ বলেন,‘জেলা পরিষদ নিবাচনের পদ্ধতিই অগ্রহণযোগ্য, এই নির্বাচন নিয়ে কারো আগ্রহ থাকবে না’।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এ প্রসঙ্গে বলেন,‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধি প্রণীত না হলে বিএনপি’র অংশগ্রহণ অনিশ্চিত থাকবে। জেলা পরিষদের জন্য বর্তমানে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া করা হয়েছে, এটি আয়ুব খানে’র বেসিক ডেমোক্রেসি অনুকরণ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি’র সংশোধন আনা জরুরি, না হয় মানুষের স্বতস্ফুর্ততা থাকবে না। জাতীয়ভাবে আমরা পার্লামেন্টারী ডেমোক্রেসি’র চর্চা করছি। জেলা পরিষদের মতো একটি বড় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পার্লামেন্টারী ডেমোক্রেসির চর্চা হওয়া প্রয়োজন। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় চেয়ারপার্সনই নেবেন। দলীয় চেয়ারপার্সন দেশে না আসলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। দলীয় হাই কমা- থেকে এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তও জানা যায়নি’।
বিএনপির কেন্দ্রীয় মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার রাত সোয়া ৮ টায় এ প্রতিবেদককে বলেন,‘ জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দলীয় ফোরামে কোন আলোচনা হয়নি, এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তও হয়নি’।