সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

ভারতের স্বাধীনতা দিবসে কাশ্মীরে নিহত ৯



kashmir_22279_1471305315ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ বছরের এক বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ কমান্ডারও রয়েছেন বলে জানায় এএফপি।

সোমবার সন্ধ্যায় শ্রীনগরের বাতমালো এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে ওই কিশোর নিহত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ওই স্থানের কয়েক মাইল দূরে বন্দুকযুদ্ধে দু’জন বিদ্রোহী নিহত হন। ওই কিশোরের মাথায় গুলি লাগে বলে জানান শ্রীনগরের প্রধান হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। এর আগে সোমবারই আরেক তরুণ বিক্ষোভকারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যায়। এছাড়া সোমবার কাশ্মীরে ভারত ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখার উরি সেক্টরে বন্দুকযুদ্ধে পাঁচ বিদ্রোহী নিহত হন।

এ নিয়ে চলমান সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫৮ জনে দাঁড়াল। ভারতের ৭০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কাশ্মীরে কারফিউ বজাল থাকলেও কাশ্মীর উপত্যকাজুড়েই সোমবার ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ওই অঞ্চলে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং স্বাধীনতা দিবসে সহিংসতা এড়াতে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।

কাশ্মীর ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য। গত ৮ জুলাই কাশ্মীরে তরুণ বিদ্রোহী নেতা বুরহান ওয়ানির হত্যাকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে ওঠে এ উপত্যকা। এসময় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫৮ জন নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি লোক আহত হয়েছে। আরও মারা গেছেন দু’জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

কাশ্মীরের বিভিন্ন সংগঠন ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে ধর্মঘট পালন করে থাকে। কাশ্মীরের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি তার রাজ্যে সংকটের জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন এবং তরুণ আন্দোলন না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতা দিবসের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আসামের তিনসুকিয়া ও শিবসাগর এলাকা। জঙ্গিরা মাটির তলায় বিস্ফোরক পুঁতে রাখে। এসব স্থানে মোট পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পরপর চারটা বোমা বিস্ফোরিত হয় তিনসুকিয়া এলাকায়। আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে শিবসাগর এলাকায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পেছনে আলফা জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত রয়েছে। তবে কাশ্মীরে এরকম উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেয়া ভাষণে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

দিল্লির লাল কেল্লায় দেয়া ভাষণে মোদি বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে বালুচিস্তান, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ আমাকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোর যে বার্তা আমরা দিয়েছি, তার জন্য বালুচিস্তান, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যে মানুষদের সঙ্গে আমার কোনোদিন আলাপ হয়নি, যারা অনেক দূরে থাকেন, তারা যেভাবে পাকিস্তানের মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে ভারতের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাতে ওই অঞ্চলের মানুষের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’

মোদির অভিযোগ, ওই অঞ্চলে পাকিস্তান অমানবিক অত্যাচার এবং মানবাধিকারের চূড়ান্ত লংঘন করছে। এজন্য পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তার জবাবদিহি করতে হবে বলেও মোদি মন্তব্য করেন। তবে লালকেল্লার বক্তৃতায় এবারও বুলেটপ্রুফ নিরাপত্তা নিলেন না মোদি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জোরাজুরি সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল রইলেন তিনি। ইন্দিরা গান্ধী হত্যার পর থেকেই এ নিয়ম চলে আসছিল।

১৯৮৫ সালে প্রথম বুলেটপ্রুফ ঘেরাটোপে বক্তৃতা দেন রাজীব গান্ধী। ১৯৯০ সালে তিন দিক ঘেরা বুলেটপ্রুফ খাঁচা সামনে আসে। পিভি নরসিমা রাওয়ের আমলে পূর্ণ ঘেরাটোপ তৈরি হয়। তারপর থেকে সব প্রধানমন্ত্রীই এ ঘেরাটোপের শাসন মানেন। ২০১৪ সালে নিজের প্রথম ভাষণেই বিধি ভেঙে দেন মোদি।

কাশ্মীর পরিদর্শনে জাতিসংঘ টিমকে ভারতের বাধা : এদিকে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু কাশ্মীরের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিদর্শনে একটি টিম পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ইউনাইটেড ন্যাশনস হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি)। তবে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থাটির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর দিয়েছে।

ইউএনএইচআরসির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার প্যানেল জম্মু কাশ্মীরে কাজ শুরু করেছে। পার্লামেন্ট এবং সুপ্রিমকোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। বরং পাকিস্তানই জিহাদি গ্র“পগুলোকে সহায়তার মাধ্যমে অবস্থার অবনতি ঘটিয়ে চলছে।