মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

রাগীব আলীর পালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পিপি সিরাজ



30b906b6c7f990e6ce9e65b2c99ba860-Ragib-aliভূমি আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগের দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর রাগীব আলীর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সিলেটের জকিগঞ্জের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও স্থানীয় পুলিশ। তাঁদের মতে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরপরই কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও তিনি কীভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন।

পিপি মিসবাহউদ্দিন সিরাজ বলেন, রাগীব আলী দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন এবং সম্ভাব্য পথ যে জকিগঞ্জ হতে পারে, তা আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির দেড় ঘণ্টার মধ্যে তিনি জকিগঞ্জ কাস্টমসের ইমিগ্রেশন শাখাকে ফোন করে সতর্ক করেছিলেন। এরপরও তাঁর নিরাপদে পালিয়ে যাওয়া ঘটনায় কারও যোগসাজশ থাকতে পারে। মামলার পরবর্তী তারিখ ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে এ বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।

গত বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাগীব আলী তাঁর ছেলেমেয়েসহ ছেলের বউ সাদিকা জান্নাত চৌধুরীকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

আদালত সূত্র জানায়, রাগীব আলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বুধবার বেলা পৌনে একটার দিকে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বেলা আড়াইটার দিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের কাছে তা পাঠানো হয়। একই সময়ে অনুলিপি পাঠানো হয় পিপির কার্যালয়ে। ছয় আসামির ঠিকানা অনুযায়ী সিলেটের বিশ্বনাথ, বিমানবন্দর থানা ও মৌলভীবাজারের রাজনগর থানায় বিকেল পৌনে চারটার দিকে পৌঁছানো হয় পরোয়ানা।

তবে জকিগঞ্জ কাস্টমসের ইমিগ্রেশন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, তাঁরা জানতেন না যে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পিপির কার্যালয় থেকে টেলিফোনে অবহিত করার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি শুধু জানি উনি এপার-ওপারে সমানে সম্মান পান। প্রতি মাসে দু-চারবার আসা-যাওয়া করেন। ওনার ছেলের বউ ভারতীয় নাগরিক। ওই দিন জরুরি কাজে যাচ্ছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে তাগাদা দেওয়ায় দ্রুত ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করে দিয়েছি। পরোয়ানার বিষয়টি অজানা ছিল।’

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না দাবি করে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জানামতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বুধবার রাতে পুলিশের কাছে পৌঁছায়। ওই রাতেই রাগীব আলীর বাড়ি বিশ্বনাথের তালিবপুরে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ অভিযান চালায়। তবে তিনি এর আগেই পালিয়ে যান।’

দেবোত্তর সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত তারাপুর চা-বাগান জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ ও প্রতারণার পৃথক দুটি মামলায় রাগীব আলী, তাঁর ছেলেমেয়েসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন সিলেটের মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো। পরোয়ানাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাই, মেয়ে রুজিনা কাদির, জামাতা আবদুল কাদির, রাগীবের আত্মীয় মৌলভীবাজারের দেওয়ান মোস্তাক মজিদ এবং তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত।