সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

মেসগুলোতে কড়া নজরদারি, আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা



saswata-2-300x165গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর পুলিশের নজরদারি বহুগুণ বেড়েছে। পুলিশের অযাচিত হয়রানির ভয়ে অনেকেই আতঙ্কে রয়েছে।বৃহস্পতিবার রাতেও নগরের দক্ষিণ সুরমা এলাকার বিভিন্ন মেসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কিন্তু কেউ আটক হয়নি।
নগরের টিলাগড়, শাপলাবাগ, সেনপাড়া, বালুচর, মেজরটিলা ও বটেশ্বর এলাকায় দুই শতাধিক মেস রয়েছে। এসব এলাকার পাশেই সিলেট এমসি কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবস্থান। মেসগুলোতে বসবাসকারী অনেক শিক্ষার্থী জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির কারণে নিরাপত্তা বাড়লেও ছাত্রদের মন থেকে অযাচিত হয়রানির ভয় দূর হচ্ছে না।

টিলাগড় ও মেজরটিলা এলাকার তিনটি মেসে গিয়ে দেখা যায়, এসব মেসে ১০ থেকে ১৫ জন ছাত্রের বসবাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় প্রায় অর্ধেক ছাত্রই ভয়ে মেস ছেড়ে চলে গেছেন। আবার অনেকে দিনের বেলা মেসে থাকলেও রাতে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তিদের বাসায় চলে যান।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধানত আখালিয়া, মদিনা মার্কেট, নয়াবাজার, সুরমা, তপোবন, নেহারিপাড়া, পাঠানটোলা ও কুমারগাঁও এলাকার মেসগুলোতে থাকেন। তাঁরাও পুলিশি হয়রানির ভয়ে আতঙ্কিত। সুরমা এলাকায় বসবাসকারী এক ছাত্র বলেন, ‘আমরা যারা নিরীহ, তাদের পুলিশি তৎপরতায় ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তারপরও রাতবিরাতে পুলিশি অভিযানের ভয়ে অজানা কারণেই উদ্বিগ্ন থাকি।’
নয়াবাজার ও নেহারিপাড়ার বেশ কয়েকটি মেসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছাত্ররা থাকেন বলে কয়েকজন জানান। সেসব মেসের ছাত্ররা এখন মেস ছেড়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিচ্ছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ ছাত্রদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পুলিশ কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করবে না। কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই পুলিশ মেসগুলোতে কড়া নজরদারি রাখছে এবং বিভিন্ন স্থানে ব্লক রেইড দিচ্ছে।