সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড



maulana+sakhawat+hossain_229674

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত যশোরের সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এ রায় পড়া শুরু হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন গ্রেফতার হওয়া দুই আসামী সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন।

গত ১৪ জুলাই উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের দিন ধার্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সাখাওয়াত হোসেনসহ নয় জনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধর্ষণের একটি, অপহরণ করে হত্যার দুটি, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের দুটি অভিযোগ।

নয় আসামির মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস। পলাতক ছয় আসামি হলেন- ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ, আবদুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম ও আবদুল খালেক। অন্য এক আসামি লুৎফর মোড়ল কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা

গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে ১৭ সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী ছিল না। গত বছর ২৩ ডিসেম্বর এই নয়জনের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মোট ১২ আসামির মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে ‘অভিযোগের উপাদান’ না পাওয়ায় ৮ সেপ্টেম্বর তাদের অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর উলি্লখিত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৯ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরখান থেকে সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কেশবপুরের সারুটিয়া গ্রামের কাবিল হোসেনকে হত্যার অভিযোগে তার মেয়ে হামিদা খাতুন বাদী হয়ে যশোর আমলি আদালতে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

যত অভিযোগ: এক. যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও ধর্ষণ; দুই. একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা; তিন. কেশবপুরের চিংড়া গ্রামের নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন; চার. কেশবপুরের হিজলডাঙ্গার মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুন; পাঁচ. কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিনসংযোগ ও লুণ্ঠন।

বর্তমানে জাতীয় পার্টিতে থাকা সাখাওয়াত হোসেন একসময় জামায়াতের নেতা ছিলেন। ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হন; কিন্তু মেয়াদপূর্তির আগেই জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। গত সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে নির্বাচন করে পরাজিত হন।