সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়ার সমস্যাকে আমরা গুরুত্ব দেইনি : গীতিআরা নাসরিন



download (1)বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হবার সমস্যাটি সম্প্রতি প্রকটভাবে সামনে এসে পড়েছে গুলশানে হামলার পর। হলি আর্টিজান বেকারি এবং তার কদিন পরে শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা যারা চালিয়েছে তাদের কয়েকজন নামিদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

এর আগেও ব্লগার, লেখক, প্রকাশক হত্যার ঘটনায় এ ধরণের তরুণদের জড়িয়ে পড়ার কথা শোনা গেছে। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা চালিয়েছে। এই চিত্র কতটা প্রকট? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক গীতিআরা নাসরিন বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে, ধর্মীয় উগ্রপন্থায় দীক্ষিত করা হয় বা শিক্ষার্থীদের ঐ সব অপকর্মে যুক্ত করা এটা যে আমরা জানি না তা কিন্তু সঠিক না। এটা আসলে আমরা যথাযথ গুরুত্ব দেইনি। কারণ, ব্লগার হত্যা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন যে হত্যাগুলো হয়েছে তা আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করেই এই সমস্যাটিকে এ পর্যন্ত আসতে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে মুক্ত চিন্তার একটি জায়গা, সেখানকার তরুণরা এই ধর্মীয় উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ছে কেনো এর কারণটা কি? জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসার আগে আমরা নানা ধরণের সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আসি। বিশ্ববিদ্যালয়তো আরও পরের সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যেটা আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে দীক্ষিত করে। আমি বলতে চাই, আসলে আমরা যে ধর্মীয় উগ্রপন্থায় বা কোনো ধরণের উগ্রচিন্তা অথবা অসহনশীলতা এই ব্যাপারগুলো তৈরি হতে পারে যখন কেউ নানা ধরণের চিন্তায় নিজেকে দীক্ষিত করেন না।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মানেই হচ্ছে উদার একটি জায়গা, যেখানে বিভিন্নভাবে মানুষ চিন্তা করবে বিভিন্ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট থাকবে এবং এই ধরণের কর্যক্রমের মধ্যদিয়ে অনেক কিছু শেখাবে আমাদের বিশ্বদ্যিালয়গুলো। কিন্তু আমরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখি তাহলে দেখা যায় যে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ বলে কিছুই নেই যেখানে তারা অংশগ্রহণ কতে পারে। দ্বিতীয়তো শিক্ষার্থীদের মটিভেট করার মত কার্যক্রম দেখা যায় না। যে ছাত্ররা দেশের জন্য চিন্তা করবে বা মানব জাতীর জন্য চিন্তা করবে। সেই জায়গাটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন আর নেই। যার ফলে এই ধরণের অপশক্তির শিকার হয়ে থাকে বলে আমি মনে করি।

ষাটের দশকে আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে এগিয়ে আসতো, জাতীয়তাবাদী বিপ্লবের দিকে আকৃষ্ট হতো। এখন কি সেসব দিকে তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে না? এবং এখন কেনো তারা ধর্মীয় দীক্ষার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে? উত্তরে তিনি বলেন, এই বয়সে মানুষ নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। কারণ, তারা যে বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় আসে এই বয়সে তাদের মনে অনেক স্বপ্ন থাকে। যার ফলে তারা নিজেদের প্রকাশ করার জন্যে কিছু করতে চায়। যে জায়গাটা বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিতে পারছে না। যার ফলে তারা বিভিন্ন অপশক্তির জালে আটকে পড়ছে। যে জায়গাটা ষাটের দশকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল। কিন্তু এইসব বিষয় বর্তমানে নেই বললেই চলে।

তিনি বলেন, এখন মানুষের চিন্তা কিভাবে দ্রুত টাকা ইনকাম করা যায়। কিভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায় ইত্যাদি চিন্তাসহ আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় নানা সমস্যা থাকায় এমন অবনতি হয়েছে বলে আমি মনে করি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা