শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

খুনা জাল দিয়ে অবাধে মাছের পোনা নিধন



IMG_3972হাওর আর মাছের রাজধানী নামে খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলা। অথচ মাছের রাজধানীতে দেখা দিয়েছে মাছের আকাল। অসময়ে মা মাছসহ  পোনা ধরার  কারণে  দেখা দিয়েছে দেশীয় মাছের এমন সংকট। পোনা মাছ নিধনের অন্যতম কারণ হচ্ছে খুনা/টোনা বা বেড় জাল নামক এক ধরনের বৃহৎ আকার প্লাস্টিকের তৈরি সুতার জাল। বেড় জালের ছোবলে দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ।

জালটিতে ধরা পরছে পুঁটি, টেংড়া, চিংড়ি, খাইক্কা, রানী, চাপিলা, খলিশা, কাংলা, রুই, শৌল, বোয়াল, লাছসহ অসংখ্য প্রজাতির মা ও পোনা মাছ।
গ্রামীণ হাওর এলাকায় জালটির প্রচলন বেশি দেখা যায়। বেড় জাল দিয়ে মাছ ধরা   নিষিদ্ধ হলেও দিনের পর দিন প্রকাশ্যে পোনা মাছ ধরে যাচ্ছে হাওর অঞ্চলের জেলেরা। কিন্তু পোনা মাছ খেকো ঐ সকল জেলেদের বিরুদ্ধে  প্রশাসনের ভুমিকা নেই বললেই চলে।

দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের দত্ত গ্রামের বাসিন্দা মনোরঞ্জন দে জানান, আমাদের এলাকায় এই জালের প্রবণতা বেশি। প্রতিদিনই হাওরে এই জাল দিয়ে জেলেরা ছোট মাছ ধরছে। যার কারণে শুকনা মৌসুমে বিলগুলোতে মাছ পাওয়া যায় না।
তিনি  বলেন, ‘এব্যাপারে প্রশাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। না হয় এক সময় আমরা দেশী মাছ ঔষধের জন্যেও পাব না।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আজমল আহমদ জানান, পাখি মারা হাওর, দক্ষিণ হাওর , খইয়া খালিসহ প্রত্যাক হাওরে এই  ফুরুন জাল (বেড় জাল) দিয়ে জেলেরা মাছ ধরে। সব জাতের মাছের পোনা এই জাল দিয়ে শিকার করে জেলেরা। বর্ষা মাসে যাতে মাছের পোনা না ধরা হয়। এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন জোরালো ভুমিকা রাখলে দেশী মাছের পোনা রক্ষা পাবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান আহমদ এসব জাল দিয়ে পোনা শিকারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ জেলার বিভিন্ন হাওরে টোনা জাল দিয়ে জেলেরা অবৈধ ভাবে মাছ ধরছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে জেলাব্যাপি অভিযান পরিচালনা করছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মৎস্য কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিদিনই কোন না কোন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।