শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

অবৈধভাবে টোল আদায়, প্রতিবাদে বালু তোলা বন্ধ



38d5de1b09cff036e5850ecb9314d3b5-7সুনামগঞ্জের ধোপাজান বালুমহালে একটি পক্ষ অবৈধভাবে টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবাদে গত সোমবার থেকে মহালের ব্যবসায়ী ও নৌকার মালিকেরা বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন।
প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চলতি নদের সীমান্তবর্তী ডলুরা এলাকায় ৩৭১ একর জমি নিয়ে  ধোপাজান বালুমহালের অবস্থান। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ নৌকায় করে চার-পাঁচ লাখ ফুট বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতি ফুট বালুর জন্য ইজারাদারকে টোল হিসেবে ৭০ পয়সা দিতে হয়। মহাল থেকে সুরমা নদীতে নিয়ে আসার পর বাল্কহেড অথবা জাহাজে করে এসব বালু বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সূত্র আরও জানায়, ১৪২২ বাংলা সনে বালুমহালটির ইজারাদার ছিলেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা তফাজ্জুল হোসেন। কিন্তু ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি বালু ব্যবসায়ী ও নৌকার মালিকদের কাছ থেকে টোল আদায় করে আসছেন। তাঁর লোকজন সুনামগঞ্জ পৌর  শহরের সুরমা নদীর ওয়েজখালী এলাকা থেকে টোল আদায় করেন। গত ৩০ জুন থেকে চলতি নদের অক্ষয়নগর এলাকায় আরেকটি পক্ষ টোল আদায় শুরু করে। তাদের দেওয়া রসিদে ইজারাদার হিসেবে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা শংকর চন্দ্র দাসের নাম রয়েছে।

শংকর চন্দ্র দাস বলেন, ‘তাঁরা ছয়জন মিলে ৭৬ লাখ টাকায় চলতি ১৪২৩ বাংলা সনের জন্য ওই মহাল ইজারা নিয়েছেন। তাঁরা বৈধভাবে টোল আদায় করছেন। কিন্তু আগের ইজারাদারের লোকজন সুরমা নদী থেকে নৌকা ও কার্গো আটকে অবৈধভাবে টোলের নামে চাঁদা আদায় করছে। বুঝতে পারছি না কোন অদৃশ্য শক্তির বলে আগের ইজারাদার এখনো চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, তেমনি হাজার হাজার ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তফাজ্জুল হোসেনের মুঠোফোনে গত সোমবার বেলা দুইটার দিকে কল করা হলে তিনি ব্যস্ততার কারণে পরে কথা বলবেন বলে জানান। ওই দিন বিকেল চারটার দিকে আবার কল করা হলে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

ব্যবসায়ী ও নৌকার মালিকেরা বলেন, জেলার বৃহৎ এই মহাল সব সময়ই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন নিয়ন্ত্রণ করেন। টোল আদায়ের বাইরেও এখানে ব্যাপক চাঁদাবাজি হয়। চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। তারপরও তা বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি দুই পক্ষ এখানে  টোল আদায় শুরু করেছে। এ কারণে তাঁরা সোমবার থেকে বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি তাঁরা ওই দিনই জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন। এ সময় মহাল এলাকার সব কটি সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সুরমা-ধোপাজান বালু পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুনেল আহমদ বলেন, ‘আমরা বৈধ ইজারাদারকে টোল দেব। কিন্তু দুই পক্ষ তো বৈধ হতে পারে না। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, মহালে আগের ইজারাদারের (তফাজ্জুল হোসেন) বৈধতা নেই। নতুন ইজারাদারদের লিখিতভাবে দখল বুঝে দেওয়া হয়েছে। এখানে অবৈধভাবে যাতে কেউ টাকা আদায় না করতে পারে, সে জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা আছে। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো  হয়েছে।