শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

পৈশাচিক জঙ্গি হামলা: আমরা কতটা সজাগ?



Gulshan-tragedy-100কয়েকজন জঙ্গির হামলায় সম্প্রতি যে নারকীয় এবং নির্মম হত্যাযজ্ঞ ঘটে গেল গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে তা হতবাক, স্তম্ভিত আর বেদনার্ত করে তুলেছে দেশের প্রত্যেক শান্তিপ্রিয় মানুষকে। রমজান মাস মুসলমানদের জন্য পবিত্র একটি মাস। অথচ এই মাসেই নিরীহ, নিরপরাধ নারী-পুরুষ-শিশুদের জিম্মি করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাংলাদেশিসহ আরও কয়েকটি দেশের বিশ জন নাগরিককে পৈশাচিকভাবে হত্যা করল যে জঙ্গিরা তারাও মুসলমান। অন্ধ আর যুক্তিহীন চিন্তা দ্বারা আচ্ছন্ন জঙ্গিদের বোঝার ক্ষমতা থাকে না যে, কোনো দানবীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিজেদের ধর্মের মর্যাদা কখনও বাড়ানো যায় না।

যে নির্মমতার সঙ্গে এই জিম্মিদের হত্যা করা হয়েছে তা দেখে হতভম্ব হয়ে গেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। এই জঙ্গিদের মন যে কতটা অনুভূতিহীন আর ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন জীবনধারার মানুষের প্রতি তারা কতটা নির্দয় আর নিষ্ঠুর হতে পারে তা দেখল সারা বিশ্ব। এই জঙ্গিরা তাদের ধর্মের মর্যাদা নষ্ট করল, ক্ষতিগ্রস্ত করল তাদের দেশের ভাবমূর্তি। আবার এমনও হতে পারে তা করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস বা আইসিস গুলশানে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই ইসলামি উগ্রপন্থী সংগঠনটির বার্তা সংস্থা আমাকের মাধ্যমে ঘটনার দিন রাতেই সেই রেস্টুরেন্টে জঙ্গিদের হাতে নিহত কয়েকজন জিম্মির রক্তাক্ত মৃতদেহের ছবি টুইটারে প্রকাশ করা হয়েছিল। কী করে তারা সেই রাতেই এই ছবি পেয়ে গেল তা-ও প্রশ্ন তৈরি করে।

পরদিন সকালে রেস্টুরেন্টটিতে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে মারা যায় ছয় জঙ্গি, জীবিত উদ্ধার করা হয় তের জন জিম্মিকে। সেই সঙ্গে পাওয়া যায় বিভিন্ন দেশের বিশ জন জিম্মির মৃতদেহ। এরপর আমাক থেকে প্রাপ্ত পাঁচজন তরুণের ছবি প্রকাশ করে সাইট ইন্টেলিজেন্স নামক একটি ওয়েবসাইট। সেখানে বলা হয়, এই পাঁচজনই গুলশানের রেস্টুরেন্টে হামলা করেছিল। কালো পোশাক পরা এই পাঁচ তরুণের প্রত্যেকেরই আলাদা ছবিতে দেখা যায়, আইসিসের একটি ব্যানারের সামনে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে তারা হাসিমুখে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছে।

বাংলাদেশের পুলিশ নিহত পাঁচ জঙ্গির লাশের ছবি প্রকাশ করেছে। সেই জঙ্গিদের সঙ্গে আমাক থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখতে পাওয়া তরুণদের অন্তত চারজনের চেহারার সাদৃশ্য চোখে পড়ে। পুলিশ নিহত জঙ্গিদের পূর্ণ পরিচয় এখনও জানায়নি। তবে আমাকের ছবিগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর সেই জঙ্গিদের স্কুল-কলেজ সূত্রে পরিচিতরা কয়েকজনের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। সেই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সংবাদপত্রেও।

ধারণা করা যেতে পারে এই জঙ্গিরা আইএস বা বাংলাদেশের কোনো উগ্রপন্থী ইসলামি সংগঠনের অনুসারী। পুলিশের মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, কমান্ডো অভিযানে নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নিশ্চিত জঙ্গি এবং দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এদের খোঁজ করছিল। আশা করি এই জঙ্গিদের প্রকৃত পরিচয় জনগণের কাছে প্রকাশ করা হবে এবং কাদের সমর্থনে ও সহযোগিতায় তারা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে গুলশানে এমন ভয়াবহ হামলা ঘটাতে পারল আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ সেই তথ্য জানতে পারবে।

বাংলাদেশে গত এক বছরের বেশি সময় ধরেই লেখক, শিক্ষক, বিদেশি নাগরিক, মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষু বিভিন্ন ধরনের মানুষ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন নৃশংস হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। এই হামলার সঙ্গে যুক্ত অপরাধী যারা ধরা পড়েছে তাদের অনেকেরই বয়স কম।

কিছুদিন আগে মাদারীপুরে একজন কলেজ শিক্ষককে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে পালাবার সময় জনতার হাতে ধরা পড়েছিল ফাহিম নামে এক যুবক। কদিন পর সে মারা যায় এক বন্দুকযুদ্ধে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী ফাহিমের সহযোগীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ফাহিমের মৃত্যু ঘটে যদিও তার এমন মৃত্যু অনেক প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।

গুলশানের রেস্টুরেন্টে হামলাকারী জঙ্গিরাও ফাহিমের মতো কমবয়সী। এতদিন দেশে আমরা দেখেছি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর হামলা। কিন্তু এবারই প্রথম কোনো রেস্টুরেন্টে নানা ধরনের অস্ত্র নিয়ে একদল জঙ্গি প্রবেশ করে সবাইকে জিম্মি করে বিশ জন মানুষকে জবাই করে হত্যা করল। তাদের নিক্ষেপ করা শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে আর গুলিতে প্রাণ হারালেন দুজন পুলিশ অফিসার, আহত হলেন অনেকে।

অর্থাৎ দিন দিন এই দেশে জঙ্গি আক্রমণের ভয়াবহতা বেড়ে চলেছে। যে প্রশ্নটি আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের তা হল, কী করে এই দেশের কমবয়সী অনেক ছেলে আজ দয়ামায়াহীন, নির্মম হত্যাকারীতে পরিণত হচ্ছে? কোন্ সামাজিক পরিবেশ এই মুহূর্তে বিরাজ করছে দেশে যা কমবয়সীদের মনে সৃষ্টি করছে ধর্মীয় অন্ধচিন্তা, উগ্রতা আর যুক্তিহীনতা? ধর্মীয় অন্ধত্বের জন্য এমন কমবয়সীরা আইএসের মতো একটি ত্রাস সৃষ্টিকারী উগ্র সংগঠনের কায়দায় ধর্মের নামে পৈশাচিকভাবে নিরীহ মানুষদের হত্যা করতেও কোনো দ্বিধা করে না।

আমাদের ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের দেশের তরুণরা তাদের পরিবারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কী শিক্ষা অর্জন করছে। বিভিন্ন পরিবারে মা-বাবা কি খেয়াল করছেন তাদের সন্তানদের মানসিকতা আর দৃষ্টিভঙ্গি কেমন? শিক্ষকরা কি মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করছেন যে, তাদের ছাত্রদের মন যুক্তি আর মানবিকতার আলোয় পূর্ণ হচ্ছে কি না?

কমবয়সীরা যদি পরিবারের সদস্যদের কাছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দেশের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতি সঠিকভাবে জানতে পারে, তাহলে তো তারা জানবে কীভাবে যুগের পর যুগ এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেছে– যখন কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে এই দেশে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করা হয়েছে তখন কীভাবে আবার বহু মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে– কীভাবে এই দেশের সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে অর্জন করেছে দেশের স্বাধীনতা।

এই দেশের সাহিত্যে, সঙ্গীতে, নাটকে তো ঘৃণা আর অন্ধত্বের কথা নেই। আছে যুক্তির কথা, সম্প্রীতির কথা– যে যুক্তিবোধ আর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা মনের জানালা খুলে দিয়ে মন আলোকিত করে তোলে।

আজ আমাদের ভেবে দেখা দরকার এই দেশের বিভিন্ন পরিবার আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমবয়সীদের মানবিকতা আর যৌক্তিক মূল্যবোধ শেখাতে পারছে কি না। আমাদের লক্ষ্য করা দরকার সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কমবয়সীদের চিন্তা কতটা বুদ্ধিদীপ্ত আর রুচি কতটা পরিশীলিত করে তুলতে পারছে।

যে তরুণ পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শেখে মানবিকতা এবং মুক্তচিন্তা এবং গণমাধ্যমের বিভিন্ন অনুষ্ঠান যার মন করে তোলে আরও আলোকিত, সেই তরুণ কি কখনও উগ্র এবং অন্ধচিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে? সেই তরুণ কি বোধহীন এক খুনিতে পরিণত হতে পারে যার কিছুটা হলেও যুক্তিনির্ভর চিন্তা করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে?

আমাদের বুঝতে হবে, যে তরুণরা এই দেশে আজ দয়ামায়াহীন খুনিতে পরিণত হচ্ছে, আর অন্য ধর্মের এবং অন্য মতের মানুষদের নির্মমভাবে খুন করা পূণ্যের কাজ বলে বিশ্বাস করছে তাদের শিক্ষাদীক্ষায় অনেক গলদ ছিল। মানবিকতা আর যুক্তির আলোর পরিবর্তে তাদের মন আচ্ছন্ন করে রেখেছে অজ্ঞানতা আর যুক্তিহীনতার অন্ধকার। তারা পরিণত হয়েছে হিংস্র খুনিতে। আর এই পরিণতির জন্য এমন তরুণদের আলোকিত এবং মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ করে তোলার ব্যাপারে তাদের পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা অবশ্যই দায়ী।

প্রতিটি পরিবারের আজ খেয়াল করা উচিৎ তাদের সন্তানরা বিখ্যাত লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো পড়ছে কি না, যে সব বই তাদের তরুণ মনকে হিংসা-বিদ্বেষ-অন্ধত্ব শেখাবে না বরং করে তুলবে চিন্তাশীল। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবশ্যই যত্নের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের পাঠদান কেবল দায়সারা পুঁথিগত আলোচনায় আটকে না থাকে।

শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের বলবেন মানবিকতা আর যুক্তির কথা; শেখাবেন কীভাবে সব ধরনের সংকীর্ণতা, অন্ধত্ব আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আলোকিত মানুষ হতে হয়; কীভাবে অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আমাদের দেশের প্রকৃত ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তরুণরা অনুধাবন করে। আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে কখনও সাম্প্রদায়িক চিন্তা প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। আর এই কারণেই এই দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করছে।

সাহিত্যিক, সঙ্গীতশিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ভেবে দেখতে হবে তাদের কাজ কোন্ ধরনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে এই সময়ের তরুণদের কাছে। বর্তমান সময়ে যে সাহিত্য, সঙ্গীত, নাটক আর চলচ্চিত্র রচিত হচ্ছে তা তরুণদের অগভীর, বোধহীন আর স্থূলতাসর্বস্ব করে তুলছে কি না। তরুণদের চিন্তায় গভীরতা না থাকলে তারা কখনও প্রকৃত সচেতনতা অর্জন করবে না। আর মানুষের মন অসচেতন হলেই বেড়ে যায় অন্ধ, যুক্তিহীন চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার বিপদ।

যে সচেতন নয় তার মনে শুভত্ব থাকে না। সে তখন যে কোনো মন্দ কাজ এবং অন্যায় করতে পারে; কারণ আলো আর অন্ধকারের পার্থক্য বোঝার সক্ষমতা তার মধ্যে তৈরি হয়নি।

সেনা কমান্ডোরা গুলশানের রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে বিপদ থেকে অনেক জিম্মিকে উদ্ধার করেছেন। কিন্তু এই জঙ্গি হামলার ভয়াবহতা ক্রমশ বাড়তে থাকবে আর বার বার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান করা হবে, এমন অবস্থা কাম্য নয়। প্রয়োজন মানুষের মনে শুভবোধ আর যৌক্তিক চিন্তা সৃষ্টি করা যাতে ধর্মীয় অন্ধত্ব আর উগ্রতা এই সমাজের কমবয়সীদের মন আচ্ছন্ন করতে না পারে।

পাশাপাশি সরকারকেও নিশ্চিত করতে হবে জঙ্গি দমনে তাদের সদিচ্ছার কথা যেন কেবল বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, জনগণ যেন এই ব্যাপারে সরকারের প্রকৃত আন্তরিকতা দেখতে পায়।

কদিন আগেই দেশজুড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পরই গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁয় যেভাবে জঙ্গি হামলা হল তা এই শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাই নির্দেশ করেছে। জানা গেছে, সেই হামলায় জঙ্গিরা ব্যবহার করেছে অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা, একে-২২ রাইফেল, পিস্তলের মতো মারণাস্ত্র। বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশের চেকপোস্ট অতিক্রম করে গুলশানের এই রাস্তাটিতে আসতে হয়। পুলিশের চেকপোস্ট থাকা সত্বেও কী করে জঙ্গিরা এত অস্ত্র নিয়ে এই এলাকায় প্রবেশ করতে পারল?

গত এক বছরে একের পর এক নিরীহ মানুষদের কুপিয়ে হত্যা করার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অনেক অপরাধীকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। জঙ্গিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা কি জঙ্গিদের সাহসী করে তোলে না? অনেক বিদেশি নাগরিক নিয়মিত গুলশানের যে রেস্তোরাঁয় যান সেখানে যে জঙ্গি হামলা হতে পারে সেই ব্যাপারেও কোনো আগাম তথ্য বা ধারণা গোয়েন্দারা পাননি। রেস্তোরাঁর ভেতরে জঙ্গিরা কতটা শক্তিশালী অস্ত্র আর বোমা নিয়ে অবস্থান নিয়েছে তা বুঝতে না পারার জন্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শুরুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হন।

গুলশানের রেস্টুরেন্টে সংঘটিত নারকীয়তা দেশের প্রত্যেক শান্তিপ্রিয় মানুষকেই হতবিহ্বল আর শোকগ্রস্ত করে তুলেছে। এই ঘটনায় যারা প্রাণ হারালেন, পুলিশের এসি রবিউল ইসলাম, ওসি সালাউদ্দিন খান, বাংলাদেশের ইশরাত আখন্দ, অবিন্তা কবীর, ফারাজ হোসেন, ভারতের তারুশি জৈন আর ইতালি আর জাপানের সেই নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের কতটা কষ্ট হচ্ছে তা আমরা অনুভবও করতে পারব না। কারণ এই কষ্ট যারা এমনভাবে স্বজন হারিয়েছেন তারাই কেবল বুঝবেন।

কিন্তু আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন শুভবুদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়ে এই ধরনের ধর্মীয় অন্ধত্ব আর উগ্রতার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। সরকারকে যেমন এই জঙ্গিদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, তেমনি দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের এবং সব সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন তাদের কাজ আর বক্তব্য এই দেশের নতুন প্রজন্মের মানুষদের অন্ধচিন্তা আর উগ্রতা প্রত্যাখ্যান করতে শেখায়।

এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা আর উদাসীনতা আমাদের সমাজকে যে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে সেই বিপদ স্পর্শ করবে আমাদেরই। আমরা কেউ নিরাপদ থাকব না।

নাদির জুনাইদঅধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়