সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা সড়কের কাজে ধীরগতি



t-lwzসুনামগঞ্জ- ধর্মপাশা- নেত্রকোনা সড়ক নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই সড়কের ১২ কিলোমিটার অংশের কাজ না হওয়ায় জেলার ধর্মপাশা উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের ভোগান্তি দূর হচ্ছে না। একইভাবে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা বা সুনামগঞ্জ-ময়মনসিংহ প্রতিবেশি জেলা হলেও যোগাযোগ গড়ে ওঠছে না। এই সড়ক নির্মিত হলে হাওরাঞ্চলের ৩ উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের রাজধানীর সঙ্গে দূরত্ব কমে যাবে। সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার বিকল্প আরেকটি সড়ক যোগাযোগও তৈরি হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী দুইবার এই সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু গত ৬ বছরেও সড়কটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা রয়েছে হাওরবাসীর। অবশ্য. এলজিইডি’র গুরত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক বিপুল বণিক বলেছেন,‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে’।

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাতকরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে হাওরাঞ্চলের প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সুনামগঞ্জের সঙ্গে নেত্রকোনার যোগাযোগ স্থাপন এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জের বিকল্প সড়ক এবং দূরত্ব কমানোর জন্যই সুনামগঞ্জ- নেত্রকোনা সড়কের দাবি সুনামগঞ্জবাসীর বহুদিনের। স্বাধীনতাত্তোর সকল সরকার প্রধানের কাছেই এই দাবি জানিয়েছেন হাওরাঞ্চলের মানুষ। সরকার প্রধানরাও এই সড়কের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার বার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ধর্মপাশা ও ছাতকের জনসভায় দুইবার এই সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ ২০১০ সালে তাহিরপুরের জনসভায় এই সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে ২০ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে আরেকবার সুনামগঞ্জের জনসভায় এই সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর   প্রতিশ্রুত এই প্রকল্পটির কাজ হচ্ছে ধীরগতিতে। এলজিইডি এই সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ২০১১ সাল থেকেই। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের দিরাই রাস্তার মোড় থেকে জামালগঞ্জ পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে এই সময়ে ২২ কিলোমিটারের কাজ হয়েছে। জামালগঞ্জ থেকে সেলিমগঞ্জ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে মাটির সড়ক, সেতু ও ইটসলিংয়ের কাজ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন,‘জামালগঞ্জ- সেলিমগঞ্জের ১৩ কিলোমিটার অংশে জুনের পরেই বিটুমিনের সড়ক করার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে’। তিনি জানান, গত মার্চ মাসে এলজিইডি’র গুরত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক খুর্শেদ আহমদ সরেজমিনে সেলিমগঞ্জ-ধর্মপাশা ঘুরে গেছেন, স্থানীয় লোকজন এসময় বলেছেন সড়কটি সকল মৌসুমে ব্যবহার উপযোগী করে করা না হলে তাদের দুর্ভোগ কমবে না, কাঙ্খিত যোগাযোগ উন্নয়নও হবে না।

ইকবাল আহমদ বলেন, ‘আমি মনে করছি সেলিমগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা অংশ গভীর হাওর এলাকা, এই অংশে পর্যাপ্ত সেতু, কালভার্ট এবং প্রতিরক্ষা দেওয়াল করে সড়ক করা যেতে পারে’।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন বলেন, ‘এই সড়কটি হাওরাঞ্চলের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ সড়ক, সড়কটি এলজিইডি একদিকে করছে, আমরা করছি আরেকদিকে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের সুরমা সেতু থেকে সাচনাবাজার পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করেছে। সাচনাবাজার থেকে গোলকপুর পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার অংশে সড়ক করার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
তিনি আরও বলেন,‘এলজিইডি সেলিমগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা পর্যন্ত সড়ক করলে, আমাদের করা সড়ক এই সড়কে গিয়েই যুক্ত হবে এবং তখন এই অংশে (সুনামগঞ্জ অংশে) দুটি সড়ক থাকবে’।
এলজিইডি’র গুরত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক খুরশেদ হাসান বলেন,‘সুনামগঞ্জ- নেত্রকোনা সড়ক নির্মাণের জন্য আমরা সরেজমিনে সেলিমগঞ্জ-ধর্মপাশা অংশ ঘুরে দেখেছি, আমার সময় ঐ অংশে ডুবন্ত সড়ক নির্মাণের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, কিন্তু সকল মৌসুমের উপযোগী সড়ক এই টাকা দিয়ে হবে না, এছাড়া পরিবেশ-প্রতিবেশও যাচাই-বাছাই করা ছিল না, এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্পের প্রথম ধাপে এটি করা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় ধাপে এটি গুরত্ব দেওয়া হবে’।
এই প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক বিপুল বণিক বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এই প্রকল্প অবশ্যই আলোর মুখ দেখবে, আগামী ৩ মাসের মধ্যে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে সরেজমিনে সেলিমগঞ্জ-ধর্মপাশা অংশ দেখে আসবো আমরা, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও কথা বলবো, পরে বিশেষজ্ঞ মতামত ও স্থানীয়দের মতামত কাজে লাগিয়ে এই সড়কটি মানুষের ব্যবহার উপযোগী করেই নির্মাণ করে দুই জেলার সংযোগ এবং হাওরবাসীর স্বপ্নপূরণ করা হবে’।