শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

‘গোলাম আজমরা’ কি নির্দোষ হিসাবেই মারা গেল?



13292820_1137061599671454_137109777_nরিচার্ড দত্ত::

১৯৭১ সালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, মানবতা বিরোধী অপরাধ, জেনোসাইড, ইত্যাদি অপরাধের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

১৫ জুলাই, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদন্ড দেন। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৫ ধরনের ৬১টি অভিযোগ আনা হয়। যার সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ৬১টি অভিযোগের মধ্যে- মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মোট ৬টি, মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনার অভিযোগ ৩টি, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ ২৮টি, মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ২৩টি এবং হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে একটি। প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে ১০ বছর করে ২০ বছর, তৃতীয় অভিযোগে ২০ বছর, চতুর্থ অভিযোগে ২০ বছর, পঞ্চম অভিযোগে ৩০ বছর কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “তিনি (গোলাম আযম) যে অপরাধ করেছেন, তা মৃত্যুদণ্ডতুল্য। কিন্তু তাঁর বয়স বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই বছরের ৫ আগস্ট গোলাম আযাম তার দণ্ড ও সাজা বাতিলের জন্য সর্বোচ্চ আদালত, আপীল বিভাগে আপীল করেন। রাষ্ট্রপক্ষও সাজা বৃদ্ধির (মৃত্যুদণ্ড) উদ্দ্যেশে ১২ আগস্ট আপীল করেন।

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর আদালত আপীল শুনানির দিন ধার্য করেন। কিন্তু শুনানি শুরুর পূর্বেই গোলাম আযম ২৩ অক্টোবর, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যবরণ করেন।

আইনে Presumption of Innocence বলতে একটা কথা আছে যার অর্থ দাড়ায় কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমান না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসাবে গণ্য করতে হবে।

যেহেতু গোলাম আযাম আপীল নিষ্পত্তির পূর্বেই মারা গেছেন, নৈতিক দিক থেকে না হলেও আইনগত দিক থেকে তিনি দোষ প্রমানের পূর্বেই মারা গেছেন। সেই ক্ষেত্রে তিনি নির্দোষ হিসাবেই মারা গেছেন। একই কথা বি.এন.পি. পন্থী সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আমি মনে করি আমাদের দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অনেক ভাল করছে এবং বেশ দ্রুতই ন্যায়বিচার করছে। কিন্তু কয়েকটি বিষয় একটু সংশোধন করলে বিচারকার্য আরও ত্বরান্বিত হবে। যেমন আপীল কে কন্ডিশনাল করতে হবে। ইচ্ছামতো রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না। শুধুমাত্র ঘটনাগত ও (কিংবা) আইনগত ত্রুটি থাকলেই আপীল করা যাবে। সাক্ষীর সংখ্যা ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া দরকার। কারণ ছাড়া হাজার- হাজার সাক্ষী উপস্থাপন মামলাকে বিলম্বিত করার জন্যই করা হয়। সেইদিকে আদালতকে আরও সতর্ক হবেন এই আশা করি।

বিচার চলাকালীন অভিযুক্তের মৃত্যু হলে আইনগত কারনে তাকে নির্দোষ হিসাবেই ধরা হয়। যখন গোলাম আযাম, আব্দুল আলীমের মত যুদ্ধাপরাধীরা বিচার চলা অবস্থায় মারা যায়, ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২.৫ লক্ষ বীরঙ্গনার আত্মা তখন কিভাবে শান্তি পায়? তাই আপীল গ্রহণের ক্ষেত্রে আপীল বিভাগ আরও অনমনীয় হবেন যেন শুধুমাত্র বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার জন্যই আপীল করা না হয়। আপীল শুনানির ক্ষেত্রেও আপীল বিভাগ আরও কঠোর হতে পারেন যেন আর কোন যুদ্ধাপরাধী বিচার চলাকালীণ নির্দোষ হিসাবে মারা না যায়।