শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

অনন্ত হত্যার এক বছর: এখনো চার্জশীর্ট দিতে পারেনি পুলিশ



ononto-hotta-mamlaবিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ৩ জনই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরীর সুবিদ বাজারে নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা  অনন্ত বিজয় দাশকে। দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকান্ডের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। একবছরেও মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দিতে পারেনি পুলিশ। কবে নাগাদ চার্জশীট দেওয়া হবে এ ব্যাপারেও নিশ্চিত নন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

এ অবস্থায় অনন্ত হত্যার বিচার নিয়ে সন্দিহান নিহতের মা পীযুষ রানি দাশ। তিনি বলেন,- “আরও বড় বড় মানুষের ছেলেদেরও মারল, কিছুই হল না। আমি তো নিতান্ত সাধারণ একজন। আমার ছেলে হত্যার বিচার হবে এমনটা আর আশাও করিনা।”

অনন্ত হত্যার একদিন পর তাঁর বড় ভাই রত্নেশ্বর বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চার দুর্বৃত্তকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

এরপর গত বছরের ৭ জুন স্থানীয় একটি পত্রিকার ফটোসাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৮ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান ইদ্রিস।

একই বছরের ২৯ আগস্ট সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব পালজুর গ্রাম থেকে মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহী (২৪) ও মোহাইমিন নোমান ওরফে নোমান নামে দুই ভাইকে গ্রেফতার করে সিআইডি পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে আবুল খায়ের ওরফে রশীদ আহমদ (২৪) নামের তাঁদের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ৫ মে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্তি লাভ করেন নোমান ও রশীদ। যদিও ওইদিনই একটি নাশকতা মামলায় তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

সিআইডি সূত্র জানায়, এ মামলায় বর্তমানে কেবল মান্নান রাহী জেলে রয়েছেন। রাহি আদালতে অনন্ত হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এছাড়া অভিজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মো. তৌহিদুর রহমান, আমিনুল মল্লিক, আরিফুল ইসলাম, জাকিরুল প্রকাশ, সাদেক আলী মিঠু ও জাফরান হাসানকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আরমান আলী বলেন, শীঘ্রই অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলার চার্জশীট প্রদান করা হবে।

অনন্ত বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তার লেখা ও সম্পাদিত একাধিক বই প্রকাশিত রয়েছে। সিলেটে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক অনন্ত ‘যুক্তি’ নামের বিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিনেরও সম্পাদক ছিলেন। তিনি সিলেট গণজাগরণ মঞ্চেরও সক্রিয় কর্মী ছিলেন।