সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

রমজানের আগেই বেড়েছে কিছু পণ্যের দাম



ramzan-food-52300মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো থাকায় আসন্ন রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের সংকট কিংবা দাম বাড়ার শঙ্কা নেই বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাবি করলেও ইতিমধ্যে কিছু পণ্যের দাম বাড়া শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের বাজার মূল্য পরিবীক্ষণ সেলের তথ্যমতে, গত বছরের উদ্বৃত্ত ছাড়াও চলতি বছরের নয় মাসে চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে।

এদিকে ভোগ্য পণ্য ব্যবসায়ীরা বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় রোজায় ছোলা ও মসুর ডালের দাম বাড়তি, তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে রমজানে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকার প্রত্যাশা তাদেরও।

রমজানে ছোলা, পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্য তেলের মতো বেশি ব্যবহৃত পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এই বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বেড়ে যায় পণ্যের দাম। তবে রমজানের আগেই বিপুল পরিমাণ ভোগ্য পণ্য আমদানি এবং চাহিদার চেয়ে মজুদ ভালো থাকায় এসব পণ্যের ঘাটতি কিংবা দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রমজানের সময় যতো ধরণের পণ্য আছে সেগুলোর চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি মজুদ আছে। আমরা প্রতিটি এলসি এবং সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোটা পরিবীক্ষণ করেই আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারি যে রমজানে সরবরাহ পরিস্থিতিতে কোনরকম ঘাটতি হবে না। প্রাথমিক চাহিদা সৃষ্টির কারণে হয়তো মূল্যের উপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি হতে পারে কিন্তু সেটি কখনোই স্থায়ী হবে না।

’সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করলেন ব্যবসায়ীরাও।পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ পণ্য মজুদ আছে তাতে দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। ভোগ্যপণ্য যেগুলো এখন আটক আছে সেগুলো দ্রুত ছাড় হয়ে গেলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’তবে আন্তর্জাতিক বাজার চড়া হওয়ায় ছোলা ও মসুর ডালের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মাওলা বলেন, ‘ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন এগুলোর দাম বাড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আমাদানিকারকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে শুধু ছোলা এবং মসুর ডালের দাম গতবারের তুলনায় কিছু বেশি হতে পারে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ লাখ ৬৯ হাজার টন ভোজ্য তেল, ১৩ লাখ ৭ হাজার টন চিনি, ১ লাখ ৩০ হাজার টন মসুর ডাল, ৪ লাখ ২৭ হাজার টন পেঁয়াজ ও ২ লাখ ৪৭ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে।এ অবস্থায় রমজানে বাজারের উপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে সেজন্য একসাথে সারা মাসের বাজার না করে ভাগে ভাগে কেনার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।