সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ এখন ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’



photo-1461656632ইন্টারনেটে এখন ছড়িয়ে রয়েছে নিউইয়র্কের রাস্তায় অদ্ভুত পোশাক পরিহিত বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচের ছবি। এর কয়েকদিন পরই মার্ভেলের ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ সিনেমার প্রথম টিজার ট্রেইলার—দুয়ে মিলিয়ে মার্ভেল আর কাম্বারব্যাচ ভক্তদের উৎসাহ আর আগ্রহ এখন আকাশচুম্বী। এখন পর্যন্ত মার্ভেলের যত সিনেমা মুক্তি পেয়েছে বা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে, সব ঘিরেই মার্ভেল ভক্তদের জল্পনা-কল্পনা অনেক। তবে সবকটিকেই যেন ছাড়িয়ে গেছে মার্ভেলের নতুন সিনেমা ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’, আর এই চরিত্রে অভিনয় করা বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচের স্বভাবসুলভ রহস্যময়তা। কস্টিউম থেকে শুরু করে সিনেমাটির ভিলেন, সবকিছুতেই একটু করে রহস্যময় করে রেখেছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। ‘জিমি কিমেল লাইভ’ নামের জনপ্রিয় একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানেকিছুদিন আগে এসেছেন বেনেডিক্ট, বিস্তর আলাপও করেছেন ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ নিয়ে। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকায় এই ছবি নিয়ে অনেক ধরনের তথ্যও জানানো হয়েছে।

কে এই ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’?

মার্ভেলের অরিজিনাল কমিক বুক অনুসারে, ডক্টর স্টিফেন স্ট্রেঞ্জ (যে চরিত্রে অভিনয় করছেন বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ) একজন মেধাবী কিন্তু অহংকারী নিউরোসার্জন, যিনি মুখোমুখি হন এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার এবং আবিষ্কার করেন যে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হাত দিয়ে তারপক্ষে আর সার্জারি করা সম্ভব নয়। ঘটনাক্রমে তাঁর সাক্ষাৎ হয় এক নির্জনবাসী সন্ন্যাসীর সাথে যিনি পরিচিত ‘অ্যানশিয়েন্ট ওয়ান’ নামে।

অ্যানশিয়েন্ট ওয়ান

মার্ভেলের কমিকে ‘দ্য আনশেন্ট ওয়ান’ একজন রহস্যময় জাদুকর এবং পৃথিবীর আধ্যাত্মিক অভিভাবক। লম্বা দাড়ির এই বয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করবেন অভিনেত্রী টিল্ডা সুইন্টন। লম্বা দাড়ির সাথে অভিনেত্রী? খটকা লাগারই কথা। সম্প্রতি মার্ভেলের প্রেসিডেন্ট কেভিন ফেইজ জানিয়েছেন যে এই চরিত্রটির লিঙ্গকে দেখানো হবে ‘রহস্যময়তা’র সাথে। আর এমন চরিত্রকে সুইন্টন ছাড়া আর কেই বা পারবে তুলে ধরতে?

প্রথম দিকে ডক্টর স্ট্রেঞ্জের ব্যাপারে একটু দ্বিধায় ভুগেন ‘দ্য অ্যানশিয়েন্ট ওয়ান’ এবং ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেন পৃথিবীর কল্যাণের জন্য তাঁর সম্ভাবনা। এর পরই তিনি ডক্টর স্ট্রেঞ্জকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রুপান্তর করেন এক মহান জাদুকর, যিনি পৃথিবীকে রক্ষা করবেন যাবতীয় অতি-প্রাকৃত হুমকি থেকে।

কোথায় হচ্ছে শুটিং?

কমিক-ওয়ার্ল্ডের স্ট্রেঞ্জ বাস করেন জাদু দিয়ে রক্ষিত এক বিল্ডিং এ যার নাম ‘স্যাঙ্কটাম স্যাঙ্কটোরাম’, এর অবস্থান নিউইয়র্কের গ্রিনউইচ ভিলেজে। আধুনিক স্যাঙ্কটামের রাস্তায় ডক্টর স্ট্রেঞ্জ হবেন সবচেয়ে অদ্ভুতদর্শন হেটে যাওয়া কেউ একজন, যার কিছুটা এরই মধ্যে টেরও পেয়েছে নিউইয়র্কের এই এলাকার বাসিন্দারা।

কেমন দেখতে এই ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’?

গত ডিসেম্বরে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এর কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যাতে দেখা যায় স্বভাবসুলভ পরিপাটি কাম্বারব্যাচকে। মার্ভেলের অন্যান্য কমিক হিরোদের মতোই ভিন্নধর্মী বেশভুষা আর ‘শার্লক হোমস’-এর কাম্বারব্যাচের মতো উঁচু কলারের জামা ।

আর কে কে অভিনয় করছেন?

ড্যানিশ অভিনেতা ম্যাডস মিকেলসেন (এনবিসি’র ‘হ্যানিবাল’ এর হ্যানিবাল লেক্টার) অভিনয় করছেন একজন ভিলেনের চরিত্রে, তবে তিনিই যে সিনেমার মূল ভিলেন নন, তা জানানো হয়েছে মার্ভেলের পক্ষ থেকে। ‘বোর্ডওয়ার্ক এম্পায়ার’ তারকা স্টুলবার্গ অভিনয় করবেন বিজ্ঞানী নিকোডেমাস ওয়েস্টের চরিত্রে, যিনি হবেন ডক্টর স্ট্রেঞ্জের পেশাদার প্রতিপক্ষ। র‍্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামস থাকছেন সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে, যেখানে তিনি হবেন ডক্টর স্ট্রেঞ্জের সার্জারি জীবনের বন্ধু।

কে হচ্ছেন ভিলেন?

এই উত্তরটি এখনো যথাযথভাবেই গোপন রেখেছেন এই সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। ভিলেন চরিত্রের রহস্যময়তা প্রসঙ্গে  সিনেমাটির এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার স্টিফেন ব্রাউসার্ড জানান, এই চরিত্রে এমন একজন অভিনয় করবেন যিনি সবার কাছে কিছুটা অকল্পনীয় এবং একটি চমক ও বটে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মার্ভেলের অতীতের কোনো ভিলেনই থাকছেন এই ভূমিকায়, যাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে রুপায়ণ করা হবে ডক্টর স্ট্রেঞ্জের জন্য।

পরিচালনায় থাকছেন কে?

‘দ্য এক্সরসিজম অব এমিলি রোজ’ আর ‘সিনিস্টার’ সিনেমার পরিচালক স্কট ডেরিকসন পরিচালনা করবেন ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’-এর। সিনেমাটিতে পরিচালকের বিষয়টিও যোগ করছে নতুন আমেজ। কারণ, স্কট তো সচরাচর দর্শকদের ভয় দেখিয়েই আসছেন! তবে কি ডক্টর স্ট্রেঞ্জ এ থাকছে কিছুটা হররও? দর্শকদের জন্য আরো একটু রহস্যই না হয় থাকল।

কবে মুক্তি পাবে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’?

মার্ভেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুসারে আগামী নভেম্বরের চার তারিখেই মুক্তি পাবে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’। সিনেমাটির টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি বার্তাই যেন প্রকাশ করে পুরো সিনেমাটিকে। যেখানে লিখা হয়, “তুমি বিস্মিত হচ্ছ, তোমার ভবিষ্যতে আমি কী দেখছি? সম্ভাবনা।”