সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

ইউপি নির্বাচন দিরাই: কে হচ্ছেন নৌকা ধানের কান্ডারী মনোনয়ন দৌড়ে শতাধিক প্রার্থী



1454176060দিরাইয়ে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস পাড়ায় একই আলাপ আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ৯টি ইউনিয়নে কেকে হচ্ছেন নৌকা ও ধানের শীষের কান্ডারী। উভয় দল্রেই শতাধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যে যারমতকরে স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমর্থন আদায়ে ধারে ধারে গোড়ে বেড়াচ্ছেন। এই প্রথমবারের মত জাতীয় প্রতিকে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার কারনে মনোয়নয়ন লাভই প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

এবারের নির্বাচনে দলের মনোয়ন লাভই প্রথম জয় হিসেবে দেখছেন তারা। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চুড়ান্ত করনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এখানকার রাজনীতি দলীয়ভাবে আওয়ামীলীগ বা বিএনপিতে নয় দুই মেরুর দুই নেতা একজন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও আরেকজন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক সাংসদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী এই দুই ধারায় বিভক্ত।

আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলছেন, এবারের ই্উপি নির্বাচনে প্রার্থী মনোয়নের ক্ষেত্রে ভুল করলে জয়লাভ করা কঠিন হবে। বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, মনোনয়ন বাণিজ্যের আশায় প্রার্থী মনোনয়ন করলে শুধু নির্বাচনে পরাজয় নয় দলের বিপর্যয় টেকানো যাবে না। ইতিমধ্যে নয়টি ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে। ১৫এ্প্রিলের মধ্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের উপস্তিতিতে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চড়ান্ত করা হবে বলে জানাগেছে। বিএনপি দলীয় সুত্রে জানা গেছে, দলীয় প্রার্থীতা চুড়ান্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম প্রদান করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষনার আগেই প্রার্থী চুড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতারা। এরই মধ্যে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচনী আলোচনা সরগরম হয়ে উঠছে। হাওর পারের গ্রাম গুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরা চায়ের আড্ডা জমিয়ে তুলছেন । দিরাই পৌরনির্বাচনের পর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃনমুলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নড়েচড়ে বসছেন। ১নং রফিনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট অভিরাম তালুকদার, শাহিদ মিয়া, মহসিন রেজা, রেজোয়ান খান ও মামুনুর রশিদের নাম আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত একমাত্র প্রার্থী বদরুল আলমের নামই আলোচনায় আসছে। তবে মনোনয়ন লাভে এগিয়ে রয়েছেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী।
২নং ভাটিপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীগের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, সোহাদ চৌধুরী, শহিদুর রহমান চৌধুরী, পাখি চৌধুরী, রুহুল আমিন, শাহাজাহান কাজী, সুমন্ত চন্দ্র দাস ও মাহবুব চৌধুরী। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তালিকায় বেলাল আহমদ, আফজাল হোসেন সেজু মিয়া, ফখরুর ইসলাম ও নবাব তালুকদার। তবে সোহাদ চৌধুরী ও আফজাল হোসেনের সম্ভাবনা বেশী রয়েছে। ৩নং রাজানগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, সৌম্য চৌধুরী ও শফিকুল হক ও জুয়েল তালুকদারের মধ্যে সৌম্য চৌধুরীর এগিয়ে রয়েছেন । এ ইউনিয়নে প্রার্থী সংকটে রয়েছে বিএনপি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তালিকায়,ছাত্রদল নেতা জুনায়েদ আহমদ. হুমায়ুন কবির, নওশেরান চৌধুরীর নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত জুনায়েদ আহমদকে প্রার্থী করা হলে নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হওয়া যাবে বলে মনে করছেন দলীয় সমর্থকরা। ৪নং চরনারচর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালিকায়, এগিয়ে রয়েছেন পরিতোষ রায়। এ ছাড়াও জগদীশ সামন্ত, জয়কুমার বৈষ্ঞব ও প্রশান্ত রায় আলোচনায় আছেন। বিএনপি সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান রতি কান্ত দাস, জলিল মিয়া, সামছুল হক তালুকদার ও রতন তালুকদারের নাম থাকলেও রতন তালুকদার মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। ৫নং সরমঙ্গল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী তালিকায় মনোনয়ন লাভে হ্যাভিয়েট প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন মহানন্দ দাস। এছাড়া রঞ্জিত কুমার রায়, বাবুল চৌধুরী, আবু বকর ও ধন মিয়া নাম রয়েছে। বিএনপি সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় বর্তমান চেয়ারম্যান এহচান চৌধুরী ও মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েলের নাম শুনা যাচ্ছে। তবে বর্তমান চেয়ারম্যানের দ্বিমুখী আচরণের কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। ৬নং করিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালিকায় বর্তমান চেয়ারম্যান আছাব উদ্দিন সরদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহজাহান সরদার। আছাব উদ্দিন সরদার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকার কারণে দলীয় মনোয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন আবদুর রহিম,সেলিম সরদার ও সুজাত আহমদ, তবে বিগত নির্বাচনের প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী সেলিম সরদারের সম্ভাবনা বেশী।

৭নং জগদল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী তালিকায় মনোনয়ন লাভে এগিয়ে রয়েছেন মহানগর যুবলীগ নেতা বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী হেভিয়েট প্রার্থী হুমায়ুন রশিদ লাভলু, আবু এহিয়া, ইফতিয়াখ হোসেন মঞ্জু, বাদশা মিয়া, আবদুল মন্নান, ছুবা মিয়া, জিল্লুল মিয়া ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুস সালাম। বিএনপি সমর্থিত সাবেক চেয়ারম্যান মুখলেছুর রহমান লাল মিয়া, আলী রব ও কামরুল ইসলামের মধ্যে কামরুল ইসলাম তালিকায় এগিয়ে রয়েছে।

৮নং তাড়ল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাবেক চেয়ারম্যান আকিকুর রেজা পুলিশ, নুপুর চৌধুরী, আহমদ চৌধুরী, সামছুল হক, রুহুল আমীনের নাম তালিকায় রয়েছে। বিএনপি মনোনিত প্রার্থী তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন বায়েছ মিয়া। এছাড়াও বর্তমান চেয়ার নুরুল হক, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আলী আহমদ ও আবদুল কদ্দুসের নাম আলোচনায় রয়েছেন। তবে সাবেক চেয়ারম্যান আকিকুর রেজা পুলিশ ও যুবদল নেতা আলী আহমদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

৯ নং কুলঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ছুফি মিয়া, সদ্য বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদানকারী বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল আহাদ মিয়া, মিলন মিয়া, উপজেলা যুবলীগ নেতা আবজল হোসেন, সিলেট মহানগর যুবলীগ নেতা এনামুল হক লিলু, একরার হোসেন, পবিত্র কুমার তালুকদার, ইসহাক মিয়া,মাসুক মিয়া মতিন মিয়া, নজরুল ইসলাম শিশু মিয়া, শফিকুল ইসলাম টিটু, ফজলে রাহি রাব্বি নাম থাকলেও স্বজ্বন ও পরিচ্ছন্ন যুবনেতা হিসেবে আবজল হোসেনের ভোটের রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব থাকায় সাধারণ ভোটাররা থাকেই চাচ্ছেন। বিএনপি সমর্থিত প্রবাসী মিছবাহুর রহমান, আলাউর রহমান আলা মিয়া, প্রবাসী মুজিবুর রহমান ও আবদুর রহিম মিয়ার মধ্যে প্রবাসী নেতা মিছবাহুর রহমান ও মুজিবুর রহমানের মধ্যে যে কেউ মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে