সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম জন্মশতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা



Shah-Abdul-karim

সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটনেট::

শাহ আবদুল করিম, যাকে বলা হয় বাংলার বাউলসম্রাট। বাংলা লোকগানের ধারায় যে সব পদকর্তারা বাঙালির চিন্তা-চেতনা-দর্শনে অনন্য সমন্বয়ের যোগ ঘটিয়েছেন তাদের মধ্যে  অগ্রগণ্য সাধকদের একজন তিনি। করিম রচিত গনমুখী গান কৃষক-শ্রমিক-জেলে-মজুর থেকে শুরু করে সুধীজনের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে অতি সহজেই। অসম্ভব জনপ্রিয় ও তত্ত্ববহুল বাউলগানের পাশাপাশি তিনি রচনা করেছেন অজস্র গণসংগীত, যা সর্বহারার দুঃখজয়ের মন্ত্র’ বলে সমাজ কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে বারবার।

আজ তার জন্ম শতবার্ষিকীতে সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটনেট এর পক্ষ থেকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

হাওড়ের জেলা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালনীর তীরে বেড়ে ওঠা একজন সঙ্গীত সাধক শাহ আব্দুল করিম, যিনি ছিলেন বাংলাদেশ, বাঙালি এবং বাউল গানের প্রবাদ পুরুষ । সারাজীবনই একতারা, দোতরার সারিন্দা নিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলেছেন সুরে সুরে ।

ভাটি অঞ্চলরে মানুয়ের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবচিার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়কিতার বিরুদ্ধে। তিনি তার গানের অনুপ্ররেনা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহ এর দর্শণ থেকে।দরিদ্র তাকে বাধ্য করে কৃষিকাজে তার শ্রম ব্যয় করতে কিন্তু কোন কিছু তাকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি আধ্যাত্নিক ও বাউল গানের দীক্ষা লাভ করেছেনে কামাল উদ্দীন, সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকশ এর কাছ থেকে।তিনি শরীয়তী, মারফতি নবুয়ত, বেলায়া সহ সবধরনের বাউল গান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চাও করছেন।

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম, যার সৃষ্টিশীলতার প্রধান হাতিয়ার ছিল গান ।  যার চরিত্রে ফুঠে উঠেছিল চিরায়ত বাংলার ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনাচার। তাঁর গানের মধ্যে জীবন-জগৎ, প্রকৃতি-প্রেম সহ মানব জীবনের বাস্তবচেতনার সুধা এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন বলেই তিনি  গণবাউল হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত ।

শাহ আবদুল করমি ১৯১৬ সালরে ১৫ ফব্রেুয়ারি সুনামগঞ্জরে দিরাই থানার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলো থেকেইে। বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা; যাকে তিনি আদর করে ‘সরলা’ নামে ডাকতেন। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর বৈচিত্র্যপূর্ন জীবনের অবসান ঘটে।

শাহ আব্দুল করিমের জীবদ্দশায় প্রকাশিত  ছয়টি গানের বইয়ে প্রায় সাড়ে পাচঁশত গান রচনা করে গেছেন । লোকসংগীতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক প্রদান করে ২০০১ সালে। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা সহ পেয়েছেন বহু পদক, সম্মাননা ও সংবর্ধনা।

বাংলার লোকগান আজ প্রতিটি বাঙালির মুখে মুখে। কেননা চরম দারিদ্রের মধ্যে জন্ম নিয়েও তিনি সকল লোভ লালসার উর্দ্ধে উঠে বলেছেন দুঃখী মানুষের কথা, আগাগোড়ায় গেয়েছেন দুঃখ জয়ের গান। আর প্রকৃতি  এবং সমাজের পরিপার্শ থেকে জ্ঞান আরোহন করে তিনি হয়েছিলেন জ্ঞানী । যার জন্য অন্য বাউল থেকে করিম সম্পুর্ন ভিন্ন।

লালন হাছনের পরে চিরায়ত বাংলার লোকগীতির জগতে যার নাম সর্বাধিক উচ্চারিত তিনি হলেন ভাটি বাংলার প্রবাদ পুরুষ বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম । লোকালয় থেকে শহর – এমন কোন যায়গা নেই যেখানে আব্দুল করিমের গান শুনা যায় না । কিন্তু করিম জগতের যে ভাবধারায় সৃষ্টি হয়েছে তারঁ গান বা তাঁর সুর, দিনে দিনে তার বিকৃতিও বেড়েছে বহুগুন । যার কারনে আক্ষেপেরও শেষ নেই করিম ভক্তদের । তাদের চাওয়া-বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমকে বাচিঁয়ে রাখতে হলে ঠিকিয়ে রাখতে হবে তাঁর গানের মুল কথা সুর বা ভাবকেই ।

হাজার বছর ধরে বাংলার লোকগানের অপরিশীলিত বাচন সোঁদা মাটির বুকে নামিয়ে এনেছেন শাহ আব্দুল করিম। আর তাই আপন মনে সুরের কথা বসিয়ে আর কথাকে বিহব্বল ভাবের অনুগামী করে বাংলার গানপ্রিয় মানুষের কাছে চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন তিনি। এমনটাই আশা করিম প্রেমীদের।