সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

জগন্নাথপুরে ডাকাত-আতঙ্ক রাত জেগে গ্রাম পাহারা



ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত-আতঙ্কে আছে মানুষ। প্রতি সপ্তাহেই কোথাও না কোথাও ডাকাকির ঘটনা ঘটছে। এ জন্য একটি ইউনিয়নের দুইটি গ্রামে স্থানীয় লোকজন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে এলাকার মানুষের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ, কলকলিয়া ও চিলউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ডাকাত-আতঙ্কে আছেন মানুষজন। চলতি মাসে রানীগঞ্জ ইউনিয়নে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। চুরির ঘটনা ঘটছে একর পর এক। এতে মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি গভীর রাতে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘময়না গ্রামে প্রবাসী মনর উদ্দিনের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতেরা পরিবারের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা দুই লাখ টাকা ও ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এর দুইদিন আগে এই ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামের আরেক প্রবাসী কানু মিয়ার বাড়িতে একইভাবে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই দুই ঘটনার পর পুলিশ ওই ইউনিয়নের মানুষদের নিয়ে এলাকায় বৈঠক করে গ্রামে গ্রামে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছে।
পুলিশ সম্প্রতি কলকলি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে রাতে একটি মামলার আসামি ধরতে গেলে গ্রামবাসী ডাকাত মনে করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে ঘর
থেকে বের হয়ে আসতে বলে। রাতের অন্ধকারে মানুষজন পুলিশকে ডাকাত মনে করে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছুড়ে। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা করে পুলিশ।

গত ৮জানুয়ারি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সভায় ডাকাতির বিষয়টি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজলুল হক। তিনি বলেন, জগন্নাথপুর প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকা। প্রবাসীদের বাড়িতেই চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেশি ঘটে। মানুষ ডাকাত-আতঙ্কে আছে। পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো দরকার।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুক্তার মিয়া জানান, চুরি-ডাকাতির ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসীকে নিয়ে তাঁর ওয়ার্ডে একাধিক বৈঠক করেছেন। এখন নিজ উদ্যোগেই বাঘময়না ও গন্ধর্বপুর গ্রামে রাতে মানুষ বাড়িঘর পাহার দিচ্ছেন। পঞ্চায়েতিভাবে দল গঠন করে পাহারার জন্য শিগগিরই পুরো ইউনিয়নের মানুষদের নিয়ে বৈঠক করবেন তাঁরা। তিনি বলেন,‘চুরি-ডাকাতির সঙ্গে এলাকার কিছু লোক জড়িত। কিন্তু মানুষ ভয়ে তাদের নাম বলে না। এদের ধরলেই এসব কমে আসবে।’

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ বলেছেন,‘উপজেলাজুড়েই চুরি-ডাকাতি বেড়েছে। একের পর এক ঘটনায় মানুষজন চরমভাবে আতঙ্কিত। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন কমিটির সভায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তিনি বলেন, ইদানিং পুলিশের তৎপরতা বাড়লেও চুরি-ডাকাতি বন্ধ হচ্ছে না।
জগন্নাথপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মুরছালিন জানান, উপজেলা চুরি-ডাকাতি বন্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। বিশেষ অভিযানের জন্য জগন্নাথপুরে অতিরিক্ত ২০জন পুলিশ সদস্য যোগ দিয়েছেন। ইদিমধ্যে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানভুক্ত ১৩জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি বলেন,‘আমরা প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছি। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। চুরি-ডাকাতি কমছে।’