সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলে মিলেছে ৩৮ প্রজাতির পাখি



 baikka4
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বাইক্কাবিলে এ বছর ৩৮ প্রজাতির পরিযায়ী ও দেশীয় জলচর পাখির দেখা মেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি, ২২ প্রজাতির দেশীয় জলচর পাখি। ২০০৪ সালে বাইক্কাবিল অভয়াশ্রম হিসাবে ঘোষণার পর ওই বছরের জুলাই মাস থেকে পাখিশুমারির আওতায় নিয়ে আসা হয়। ওই বছরে মোট ২৯৬টি জলচর পাখি বাইক্কাবিলে আসে। জলাভূমির সূচক অনুযায়ী শুধুমাত্র জলচর পাখিকেই এ গণনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দুইদিনব্যাপী পাখিশুমারিতে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
baikka1
ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস এন্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল) রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর মাজহারুল ইসলাম ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, ক্রেল এর সিনিয়র কো-ম্যানেজমেন্ট এ্যাডভাইজার পল থম্পসন ২২-২৩ জানুয়ারী দুইদিনব্যাপী শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের বাইক্কাবিলে পাখি গণনা করেন। এ বছর বাইক্কাবিল অভয়াশ্রমে পরিযায়ী ও দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৮ হাজার ৮৩২টি জলচর পাখি গণনা করা হয়েছে। আগের বছর ৬ হাজার ৯৯১টি জলচর পাখি বাইক্কা বিলে অবস্থান করেছিল। বাইক্কা বিলে পাখিশুমারির তথ্যে জানা যায়, ২০০৫ সালে ১ হাজার ১৭৪টি জলচর পাখি আসে, ২০০৬ সালে আসে ৬ হাজার ৯৪৯টি, ২০০৭ সালে ৭ হাজার ২০৪টি, ২০০৮ সালে ৬ হাজার ৪২৯টি, ২০০৯ সালে ৯ হাজার ৪০৫টি, ২০১০ সালে ১২ হাজার ২৫০টি, ২০১১ সালে ৫ হাজার ৯৮৯টি, ২০১২ সালে ৩ হাজার ৯৬৪টি, ২০১৩ সালে ৭ হাজার ৪৯৯টি, ২০১৪ সালে ১০ হাজার ৪৭৯টি পরিযায়ী ও দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির জলচরপাখি বাইক্কাবিলে আসে।
baikka3
বছরে বছরে পাখির সংখ্যার তারতম্য সম্পর্কে পল থম্পসন বলেন, বাইক্কাবিল অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পর সেখানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করা হয়। এর মধ্যে যেমন হিজল করচের বাগান, গাছ লাগানো,খনন কাজ করা হয়। এ কাজগুলো সাধারণত শুকনো মৌসুমে করা হয়। সেসময়েই বিলে পাখি আসা শুরু হয়। তখনই কাজ শুরুর কারণে পাখি কম আসে। কাজ শেষ হওয়ার পর পাখিরা আসে। পরিযায়ী পাখিরা আসার আগে আবাসস্থলটি নিরাপদ কিনা সেটি বিবেচনায় রাখে।
তিনি আরও বলেন, পাখি যখন আসে তখন জলাভূমিতে মাছ ধরার মৌসুম। মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাই শিকার হয়ে যাওয়ার ভয়ে পাখিরা আসে না। পল থম্পসন জানান, এ বছর বাইক্কাবিলে বালিহাঁসের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দেশীয় পাখিদের মধ্যে এ বছর ২০০ বালিহাঁসের দেখা মিলেছে। আর খয়রা কাস্তে চরা নামের পরিযায়ী জলচর পাখিটি ৪/৫ বছর আগে বাংলাদেশে দেখা না গেলেও এবছর ৮৬টি পাখির দেখা মিলেছে। তিলা লালসা পাখির দেখা মিলেছে ৬৬৪টি। বাইক্কাবিলে এ পাখিটির সংখ্যা এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশী এসেছে। আর গওয়ালা বাটান পাখি ১ হাজার ৮৮টি পাওয়া গেছে।
baikka2