সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

ইউনিয়ন নির্বাচন: বিএনপির প্রার্থীতা নিয়ে তৃণমূলে গ্রুপিং



bnp-6002প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ইউনিয়নগুলোতে প্রার্থীতা নিয়ে বিএনপির তৃণমুলে গ্রুপিং শুরু হয়েছে। দুই উপজেলায়ই বিএনপির বিবদমান দুই গ্রুপ নিজ নিজ বলয়ের প্রার্থীকে মাঠে নামিয়েছে। দুই পক্ষই দাবি করছে তাঁদের সমর্থক প্রার্থী জনপ্রিয়। কেউ কেউ বলছেন,‘প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে গত পৌর নির্বাচনে সুনামগঞ্জে দলের যে ভরাডুবি হয়েছে, ইউনিয়নেও তাই হবে’।

জগন্নাথপুরে উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনের পর থেকেই দুটি বলয় সৃষ্টি হয়। একাংশের নেতা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লে. কর্নেল অব. আলী আহমদ, অন্য অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি মালেক খান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন।
বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে তৃণমূলে নেতা কর্মীদের কাজে থাকার আহ্বান জানানোর পর নির্বাচন করতে আগ্রহী এই উপজেলার প্রবাসী ও স্থানীয় নেতারা উপজেলার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন দলীয় প্রার্থী হবার জন্য। দলের বিবদমান দুই অংশের উপজেলা নেতারা নিজ নিজ গ্রুপের আলাদা তালিকাও তৈরি করেছেন।

দুই পক্ষের নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া তালিকা অনুযায়ি উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নে- ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহীরা হলেন- দলীয় নেতা জাবেদ কুরেশী, লন্ডন প্রবাসী রফিক মিয়া ও  শমশের উদ্দিন আহমদ। পাটলী ইউনিয়নে- হারুন মিয়া, রফি মিয়া ও মো. জামিল হোসেন গেদন। মিরপুর ইউনিয়নে- আব্দুন নূর, লন্ডন প্রবাসী হেভেন খাঁন ও মো. খুর্শেদ আলম। হলদিপুর ইউনিয়নে- ময়না মিয়া, হাবিবুর রহমান ও লন্ডন প্রবাসী মুজিবুর রহমান। রানীগঞ্জ ইউনিয়নে- শামছুল ইসলাম, লেছু মিয়া, আনহার মিয়া ও মাস্টার কয়েছ উদ্দিন। সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নে- সৈয়দ সালেহ্ আহমদ, সৈয়দ মুছাব্বির আহমদ ও আব্দুল কাইয়ুম কামালী লুলু। আশারকান্দি ইউনিয়নে- আনিছ আলী, ফজলু কাবেরী ও হিরা মিয়া ইজাজুল। পাইলগাঁও ইউনিয়নে- লন্ডন প্রবাসী জালাল উদ্দিন, মাওলানা দবির উদ্দিন ও শাহ্ মো. ইয়াওর মিয়া।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নে- বর্তমান চেয়ারম্যান ছুফি মিয়া, রওশন খান সাগর ও সোহেল মিয়া। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে- আউয়াল উদ্দিন। জয়কলস ইউনিয়নে- ইলিয়াছ আহমদ, আবুল খায়ের, মহিব উদ্দিন ও শামছুন নূর। শিমুলবাঁক ইউনিয়নে- ছয়দুর রহমান, মোশাহিদ আলী, জসিম উদ্দিন, আজমত শাহ্ ও আহমদ আলী। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে- ছালিদ নূর বাচ্চু, তোফায়েল আহমদ ও তৈয়মুল হক। পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে- লুৎফুর রহমান জায়গীরদার খোকন, নূর মিয়া, সুনা মিয়া ও রুস্তাব খাঁ। পূর্বপাগলা ইউনিয়নে- আবু তাহের, আক্তার হোসেন ও এবাদুর রহমান। পাথারিয়া ইউনিয়নে- বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন ও শামছুদ্দিন।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ বলেন,‘দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ ইউনিয়নে জনগণের পাশেই আছেন, আমরা যাচাই করছি কে জনপ্রিয়, কাকে প্রার্থী করলে বিজয় নিশ্চিত হবে, এরপর দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানালে এবং প্রার্থীর তালিকা পাঠাতে বললে তৃণমুলের মতামতের ভিত্তিতে জেলা কমিটির কাছে আমরা প্রার্থী তালিকা পাঠাব’।
দলের অপরাংশের নেতা, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনছার উদ্দিন বলেন,‘আমরা পরীক্ষিত, ত্যাগি ও জনপ্রিয়দের তালিকা করেছি, দলীয় দায়িত্বশীলরা প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল করলে সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ৪ পৌরসভায় দলের প্রার্থীদের যে পরিণতি হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও একই অবস্থা হতে পারে’।

জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতা মালেক খান বলেন,‘জগন্নাথপুরের ৮ ইউপিতে আমরা যে তালিকা করেছি, এরাই ধানের শীষ পাওয়ার যোগ্য, এরা ত্যাগি, জনপ্রিয় এবং পরীক্ষিত’।
জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লে.কর্নেল অব. আলী আহমদ বলেন,‘জগন্নাথপুরের প্রত্যেক ইউনিয়নে ওয়ার্ড কমিটি গঠন শেষে সম্মেলন করে কমিটি হয়েছে, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি যাদের ব্যাপারে সুপারিশ করবে তাদেরকেই প্রার্থী করা হবে, আমি বা মালেক খান বললেই প্রার্থী করা হবে না’।