শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সুনামগঞ্জ জেলা আ. লীগ: নেতারা ঢাকায় ছুটছেন!



al_logo1-thumbnailসম্মেলনের আগেই সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠন করা হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বরাত দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমানের বক্তব্যে এই তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর নেতাকর্মীরা নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পদবী পেতে অনেকেই কেন্দ্রে তদবির-লবিং শুরু করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

কে জেলা কমিটির সভাপতি হবেন, কে হবেন সাধারণ সম্পাদক, আবার কারা হবেন সাংগঠনিক সম্পাদক অথবা অন্য পদের অধিকারী এই নিয়ে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান জেলা কমিটিসহ অনেক সিনিয়র নেতা ঢাকায় ছুটছেন বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যে বর্তমান জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখত জগলুল, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শামিম, জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন, আওয়ামী লীগ নেতা পিপি অ্যাড. খায়রুল কবীর রুমেনসহ আরো কয়েকজন নেতা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

যদিও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট অধিকাংশ সময়েই রাজধানী শহরে থাকেন বলে সবাই জানেন।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল জানিয়েছেন, তিনি দলীয় কাজে নয় ব্যক্তিগত কাজে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করার জন্য ঢাকায় গেছেন। আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি বা দলীয় কোন কাজে ঢাকায় যাননি। জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন জানিয়েছেন তিনি পারিবারিক কাজে ঢাকা গেছেন।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন জেলা কমিটির পদ পদবী পাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যার যার মত করে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে জেলার ৪ জন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে কাজ না করলেও তারা নিরবে কাজ করছেন। একাধিক এমপি জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে আগ্রহী বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুটের সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে জেলার দলীয় ৪ এমপি, জেলা যুবলীগের আহবায়ক জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন ও জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়রের সঙ্গে নানা বিষয়ে মতভিন্নতায় জেলা আ.লীগের সম্মেলনের তারিখ ৩ দফা পিছিয়েও শেষ পর্যন্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ঢাকায় বসে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি ভাল একটি উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী।

জেলা শহরে সম্মেলন করা এবং নতুন কমিটি গঠন নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে বিভেদ আরো বাড়তে পারে। ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ঢাকায় সবাইকে নিয়ে বসে একটি কমিটি গঠন করা সম্ভব হলে এসব কিছু হয়ত এড়ানো সম্ভব হবে মনে করেন তারা। আবার অনেকেই জানিয়েছেন জেলা শহরে সম্মেলন করে সবাইকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হলে ভাল হয়। সঠিক নেতৃত্ব বেরিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আওয়ামী লীগ নেতা পিপি অ্যাড. খায়রুল কবীর রুমেন বলেন,‘ আমরা চাই জেলার সকল থানা কমিটি গঠন শেষে সবাইকে নিয়ে জেলা সদরে একটি সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠন করা হোক। আমাদের দাবি যারা জেলায় বসবাস করেন তাদেরকে যেন জেলা কমিটির দায়িত্ব প্রদান করা হয়।’ নতুন কমিটি কিংবা ঢাকায় যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হয়েছে। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও দেখা করে এবিষয়ে কথা বলব। শুক্রবার সম্ভব না হলে পরবর্তীতে আবার ঢাকায় যাব।’

জেলা আওয়ামী প্রচার সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন বলেন,‘জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি বা পদ পদবী পাওয়ার জন্য আমি ঢাকা আসিনি। আমার এক নিকট আত্মীয় মারা গেছেন। এ জন্যই ঢাকায় এসেছি।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল বলেন,‘জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠন ও দলীয় কোন কাজে আমি ঢাকা আসিনি। দলীয় প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর দোয়া নিতে এসেছি, আজ (শনিবার) প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমি দেখা করব।’

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট জানিয়েছেন, সম্মেলনের আগে কোন কমিটি গঠন হবে না। জেলা শহরে সম্মেলন করেই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। এনিয়ে আগামীকাল রবিবার দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাথে জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকেই সম্মেলনের বিষয়ে আলোচনা হবে।
জেলা কমিটির অনেকেরই ঢাকায় যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলে পদ-পদবী চাওয়ার বিষয়ে কেউ ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে যেতেই পারেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত কোন কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। কাল-পরশু সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাথে আমাদের তিনজনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর পর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বললেন। যা কিছুই হবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেই হবে।

নতুন পদ পাওয়ার বিষয়ে জেলা কমিটির অনেক নেতৃবৃন্দের কেন্দ্রে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন,‘ সংগঠনে প্রতিযোগিতা থাকা ভাল। এতে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের চর্চা হয়। নেতাকর্মীদের ঢাকা আসা ও পদ-পদবী পাওয়ার জন্য চেষ্টা করা দোষের কিছু নয়। ’

প্রসঙ্গত. জেলা আ. লীগের ১৮ বছরের আগের ৫১ সদস্যের জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুজ জহুর,গোলাম রব্বানী, জিল্লুর রহমান, বৌদ্ধ দাস, পিলু চৌধুরী, মনোয়ার বখ্ত নেক, হারুন অর রশিদ, নুরুল ইসলাম সর্দার, নুরুল হুদা ও আপ্তির মিয়াসহ ১০ নেতা ইতি পূর্বে মারা যান। দল ছেড়েছেন দিরাই উপজেলার কদ্দুস মিয়া। প্রবাসে আছেন সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ওমকার নাথ রায়, সদস্য তোফায়েল আহমদ চৌধুরী ও জসিম উদ্দিন ফারুক। বাকী ৩৬ সদস্যের বেশির ভাগেই নিস্ক্রিয়।