সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

দিরাই পৌর নির্বাচন: ‘আসল লড়াই নৌকা-ধানের শীষের’



pora1

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

‘আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীদের চেয়ে শিক্ষায়, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় আমি অনেক এগিয়ে। এই দুই দলের অ্যান্টি ভোটেই আমি এবার জয়ী হব।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে চার সমর্থকের সঙ্গে এ কথা বলছিলেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সরদার। দিরাই পৌর শহরের থানা পয়েন্টের পশ্চিম দিকে এই নির্বাচনী কার্যালয়ের অবস্থান। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সমর্থকেরা তাঁর কথায় সায় দেন।
রফিকুল ইসলাম সরদারের দুঃখ হলো, তিনি দিরাই পৌরসভা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। কিন্তু এর মূল্যায়ন পাননি। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
রফিক সরদারের সেই চার সমর্থকের একজন বলেন, নির্বাচনের আসল খবর নেউকা (নিন)। সেন বাবু আর নাছির ছদরির নাম হুনছইন? ইকানো (এখানে) ফাইট অইব (হবে) তাঁরা দুইজনের। আড্ডাআড্ডি (হাড্ডাহাড্ডি) লড়াই অইব নৌকা আর ধানের শীষে। আর কেউ বেইল পাইতা না।’
থানা পয়েন্টের উত্তর-পূর্ব কোণের চা বিক্রেতার কথাও এই ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেল। তাঁর পেছনেই বেঞ্চে বসা দুই ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করে ওই চা বিক্রেতা বললেন, ‘এরা দুইজন বিএনপির। তাঁরা তো মনে মনে পাস। বোঝাইতাম পারতাম না, আড্ডাআড্ডি ফাইট অইলেও সরকার যেটা চায় ইটাই অইব। এর লাগি মানুষের মাঝে একটা ডর আছে।’
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভায় মেয়র পদে এবার প্রার্থী চারজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন সংগঠনের উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ মিয়া। তিনি স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘনিষ্ঠজন। বিএনপির প্রার্থী হলেন সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ছোট ভাই উপজেলা যুবদলের সভাপতি মঈন উদ্দিন চৌধুরী। অন্য দুই মেয়র প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির রফিকুল ইসলাম সরদার ও জাসদের মোজাম্মিল হক।
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জন্মস্থান সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভা গঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। সাড়ে ছয় বর্গকিলোমিটারের ‘খ’ শ্রেণির এই পৌরসভায় এটি তৃতীয় নির্বাচন। বর্তমান ভোটার ১৮ হাজার ৬৭৪ জন। প্রথম নির্বাচনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী-সমর্থিত প্রার্থী আহমদ মিয়া পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় নির্বাচনে জয়ী হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত-সমর্থিত প্রার্থী আজিজুর রহমান।
পৌরসভার উপজেলা রোডের দোকানি শশাঙ্ক নন্দী বললেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁদের প্রার্থীদের পক্ষে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন। তাঁদের নির্দেশনা দিচ্ছেন বড় দুই নেতা। দিরাই বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বললেন ভিন্ন কথা। তাঁর মতে, ‘এবার দলীয় প্রতীকে প্রথম পৌর নির্বাচন হচ্ছে। মনে হয় ক্ষমতায় যাঁরা আছেন, তাঁরাই একুট বেশি সুবিধায়। বিএনপি তো এমনিতেই সব জায়গায় কোণঠাসা।’ উল্টো কথা বললেন বাসস্ট্যান্ড এলাকার লেগুনাচালক আবদাল মিয়া। তিনি বলেন, ‘দিরাই পৌরসভায় বিএনপির ভোট বেশি। বিএনপির ভোট এক জায়গায় পড়লে পাস।’
পৌর শহরের চণ্ডীপুর গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের প্রিয় নদী কালনি। নদীর ঘাটে যাওয়ার সময় গ্রামের ফুলেছা বিবির (৫০) সঙ্গে কথা। বললেন, ‘যাঁরা দাঁড়াইছইন, হখলই আইরা-যাইরা (আসছেন-যাচ্ছেন)। ভোটটা যেন ভালায় ভালায় অয় অউ দোয়াই করি।’
বেলা আড়াইটার দিকে পৌরসভার চণ্ডীপুর এলাকায় দেখা যায়, মোশারফ মিয়া বর্তমান মেয়র আজিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করছেন। এ সময় মোশারফ মিয়া বলেন, ‘দিরাইয়ে সব সময় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়। এটা এলাকার ঐতিহ্য। ক্ষমতার প্রভাব বা অন্য কোনো কারণে ভোটারদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। নৌকার প্রার্থী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভোটে ও ভালোবাসায় আমিই নির্বাচিত হব।’
মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, ‘দলের সব নেতা-কর্মী আমার জন্য কাজ করছেন। আমি দলমত-নির্বিশেষে সবার ভোট পাব। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে দিরাই পৌরসভায় এবার আমিই মেয়র পদে নির্বাচিত হব।’
মোজাম্মিল হকও মাঠে আছেন। তবে তাঁর কর্মী বা সমর্থকদের তৎপরতা খুব বেশি নেই। কথা বলার জন্য কয়েকবার তাঁকে ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।