বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

লুইস ঝড়ে লন্ডভন্ড ঢাকা



liws1448986393বরিশাল বুলসের চমক ছিলেন তিনি। খেলোয়াড়দের লটারির আগে তাকে সই করিয়েছিল বরিশাল। কেউ জানে না, কেউ চেনে না ইভিন লুইসকে! কিন্তু ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ২৩ বছরের ব্যাটসম্যানই এবারের বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান! নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নেমেই লুইস হাঁকিয়ে দিলেন সেঞ্চুরি। তার অপরাজিত ১০১ রানে ঢাকা ডিনামাইটসকে বেশ সহজেই ৯ উইকেটে হারালো বরিশাল।

কুমার সাঙ্গাকারার ৬০ ও রায়ান টেন ডেসকাটের অপরাজিত ৪৫ রানে লড়ার মতো একটা সংগ্রহ পেয়েছিল ঢাকা। ৫ উইকেটে ১৫৮ রান করেছিল তারা। কিন্তু চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ব্যাটিং পিচে অন্তত ২০ রান কম করার কষ্টটা থেকে গেল ঢাকার। লুইসের তাণ্ডবে ৮ বল হাতে রেখেই জিতেছে বরিশাল। ৫ ম্যাচে ৪ জয়ে বরিশালের পয়েন্ট এখন রংপুর রাইডার্সের সমান ৮।

তবে রান রেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে বরিশাল। ৫ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট থেকে গেলো ঢাকার। ছক্কা দিয়ে ইনিংস শুরু করেছিলেন লুইস। ছক্কা দিয়ে করেছেন ফিফটি। তবে সেঞ্চুরির সময় একটু নার্ভাস হয়ে থাকবেন। মুস্তাফিজুর রহমানের লাফিয়ে ওঠা বলকে কোনো মতে খেলে পড়ি মরি করে ছুট দিলেন।

তারপর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির উৎসবে মাতলেন লুইস। বিপিএলের ইতিহাসের অষ্টম সেঞ্চুরি এটি। ৬৫ বলে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কায় হার না মানা ১০১ রান লুইসের। লুইসের সবচেয়ে বড় তাণ্ডবের শিকার এদিন হয়েছেন টেন ডেসকাট। ১২তম ওভার। ডেসকাটের এই ওভার থেকে এলো ২৭ রান। লুইস মারলেন তিনটি ছক্কা ও দুটি বাউন্ডারি। সেঞ্চুরি ৬৪ বলে। ম্যাচের সেরা তো তিনিই। টার্গেটটাকে কখনোই কঠিন হতে দেননি লুইস। ওপেনিংয়ে তার সঙ্গী ছিলেন রনি তালুকদার। দুজন মিলে বিপিএলের ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছেন।

১২৭ রানের জুটি হয়েছে। এটা এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ রানের জুটিও। রনি ৩৪ বলে ৩৮ রান করে ফিরে যাবার পর অপেক্ষা ছিল লুইসের সেঞ্চুরির। মেহেদি মারুফ (১৫*) লুইসকে সহায়তা করেছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে। টস হেরে এদিনে ব্যাট করতে নামে ঢাকা। বরিশারের সমান পয়েন্ট ছিলো তাদের। অভিজ্ঞ সাঙ্গাকারা ইনিংস ওপেন করলেন তরুণ সৈকত আলীর সাথে।

পঞ্চম ওভারে কেভন কুপার তুলে নেন সৈকতকে (১৫)। ক্যাচ নিয়েছেন রনি। রনিকে এরপর বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। মাহমুদ উল্লাকে খেলতে একটু নেমে গেলেন লাহিরু থিরিমান্নে (৫)। তাকে স্টাম্পিং করলেন রনি। নাসির হোসেন ৫ রান করেই সেকুজে প্রসন্নর বলে মাহমুদ উল্লাকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। একটি ছক্কা মেরেছিলেন আবুল হাসান (৮)। প্রসন্নর বলে তিনিও রনির হাতে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়েছেন। একাদশ ওভারে ৭৩ রানে ৪ উইকেট। রানও বেশি না। চাপে ঢাকা। কিন্তু ছিলেন সাঙ্গাকারা। তিনি একপ্রান্ত আগলে খেলে যাচ্ছিলেন। ডেসকাট তার সাথে যোগ দিলেন। এরপর রানের গতি বাড়লো। পরের ৭ ওভারে ওভার প্রতি প্রায় ৯ রান তুললো ঢাকা। পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসলো ৫৯ রান। ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের জুটি। ডেসকাট শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। যেন এই ইনিংসের ওপর তার জীবনের অনেক কিছু নির্ভর করছে! ব্যাপারটা কাজে লেগেছে ঢাকার।

আর সাঙ্গাকারা কুপারকে দুটি বাউন্ডারি মারার পর তৃতীয়টি মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে এলেন। ৪৭ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৬০ রান সাঙ্গাকারার। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন তিনি। দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে ডেসকাটের অপরাজিত ইনিংস। এসেই তাইজুল ইসলামকে ছক্কা মেরেছেন। পরের দুটি ঝক্কা হাঁকিয়েছেন আল আমিনের বলে। ৩২ বলে ১টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৫ রান করেছেন ডেসকাট। ১০ রানে অপরাজিত ম্যালকম ওয়ালার। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন কুপার ও প্রসন্ন। ম্যাচের নায়ক অবশ্য লুইস।