সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে এমপি পদে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১১ প্রার্থী



ballot-box-uk-election copyযুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল থেকে এমপি পদে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১১ প্রার্থী। এঁদের মধ্যে লেবার পার্টি থেকে সাতজন, লিবারেল ডেমোক্র্যাট থেকে তিনজন এবং কনজারভেটিভ পার্টি থেকে একজন মনোনয়ন পেয়েছেন। এসব প্রার্থীর পাঁচজন নারী ও ছয়জন পুরুষ। আগামী ৭ মে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২০১০ সালে রুশনারা আলী এমপি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে বাঙালির অভিষেক হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে রুশনারাসহ মোট চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী মূলধারার দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবার বাঙালিরা শুধু বাঙালিপাড়ায় সীমাবদ্ধ নেই। লন্ডনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের পাশাপাশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডেও প্রধান দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছেন। যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন পেতে দলের স্থানীয় সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার রীতি মেনেই এসব বাংলাদেশি দলের চূড়ান্ত টিকিট পেয়েছেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রুশনারা আলী বলেন, ‘ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আমি একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী ছিলাম। এবার লেবার, কনজারভেটিভ, লিবারেল ডেমোক্র্যাট থেকে অনেকেই মনোনয়ন পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মেধাবী, সম্ভাবনাময় প্রার্থী রয়েছেন, যাঁরা নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে আমি আশা করছি।’
রুশনারা মনে করেন, কেউ কেউ হয়তো নির্বাচিত হবেন না, তাতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ, তাঁরা এবারের নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিয়ে অনেক কিছু শেখার ও নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবেন। পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন রুশনারা।
লেবার দলের সাত প্রার্থী: গত নির্বাচনে প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়া রুশনারা আলী এবারও পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে লেবার দলের প্রার্থী হয়েছেন। ১৯৭৫ সালে সিলেটের বিশ্বনাথে জন্ম নেওয়া রুশনারা প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও শিক্ষা-বিষয়ক ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি পার্লামেন্টারি ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির সদস্য হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করেন।
লন্ডনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আরেকটি আসন হ্যাম্পট্যাড অ্যান্ড কিলবার্ন। এই আসনে লেবার দলের প্রার্থী হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক। লন্ডনে জন্ম নেওয়া টিউলিপ কিংস কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ ২০১০ সালে স্থানীয় ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। লেবার দলীয় এমপি গ্লেন্ডা জ্যাকসন বার্ধক্যজনিত কারণে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিলে স্থানীয় লেবার সদস্যদের ভোটে টিউলিপ সেখানে প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে গত নির্বাচনে মাত্র ৪২ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন গ্লেন্ডা।
লেবার দলের হয়ে লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে লড়ছেন কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক রূপা হক। গত নির্বাচনের কনজারভেটিভের দখলে যাওয়া আসনটি এবার লেবারের অন্যতম ‘টার্গেট সিট’। ১৯৭২ সালে লন্ডনের ইলিংয়ে জন্ম নেওয়া রূপার পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের পাবনায়।
লন্ডনের অদূরে বেকেনহাম আসনে প্রার্থী হয়েছেন মেরিনা আহমদ। নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেওয়া মেরিনা মাত্র ছয় মাস বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মেরিনা মন্ত্রীদের সঙ্গে কেবিনেট অফিসে কাজ করার পাশাপাশি ক্রাউন প্রসিকিউশন টিমে দায়িত্ব পালন করছেন।
লন্ডনের খুব কাছের আরেক আসন ওয়েলউইন অ্যান্ড হার্টফিল্ডে লেবার দলের হয়ে লড়বেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনোয়ার বাবুল মিয়া। এ আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপ। আইন পেশায় নিয়োজিত ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুলের জন্ম ১৯৭২ সালে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে।
স্কটল্যান্ডের অ্যাবার্ডিনশায়ারের ব্যান্স অ্যান্ড বুখান আসনে লেবার দলের মনোনয়ন পেয়েছেন সুমন হক। অ্যাবার্ডিন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সুমন হক প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী, যিনি স্কটল্যান্ডের কোনো আসন থেকে মনোনয়ন পেলেন। স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া সুমন হকের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। তিনি ১০ বছর ধরে স্কটিশ লেবার দলের সদস্য।
লুটনের রিগেইট অ্যান্ড বেনস্ট্যাড আসনে চারজন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে লেবার দলের টিকিট পেয়েছেন আলী আকলাকুল। লুটনে জন্ম নেওয়া আকলাকুলের আদি বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে। তিনি ব্রিটিশ রেডক্রস ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটের তিন প্রার্থী: নর্থহ্যাম্পটন সাউথ আসনে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হয়েছেন প্রিন্স সাদিক চৌধুরী। তিনি ২০০৭ সালে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার কাউন্সিল নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। পেশায় ব্যবসায়ী সাদিক ১৯৭৩ সালে সিলেট শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
১১ বছর বয়সে ১৯৭৬ সালে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়া আশুক আহমদ লুটনে বসবাস করেন। লুটন সাউথ আসনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে কাজ করা আশুক আহমদ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর জন্ম সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায়।
ওয়েলসের আর্ফন আসনে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ সুলতান। সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জন্ম নেওয়া সুলতান তরুণ বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সফল রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী সুলতান স্থানীয় বেনগোর সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর।
কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী একজন: লন্ডনের বার্কিং আসনে কনজারভেটিভ দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মিনা রহমান। তিনি গত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটির একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। সুনামগঞ্জের ছাতকে জন্ম নেওয়া মিনা রহমান একটি হাউসিং সোসাইটির ব্যবস্থাপক পদে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।