সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

হায়রে আমেরিকা !!! হায়রে আইনজীবী !!! হায়রে এম,বি,বি,এস !!!



saikul 1
মোহাম্মদ সাইকুল ইসলাম, নিউইর্য়ক থেকে :
বাংলাদেশের মানুষ আমেরিকা আসার জন্য কি না করে? কিন্তু এখানে এসে সবাই চোখের পানি ফেলে। আজ ৩ মাসের মত হতে চলল একটি সুখী দম্পতির দেখা পেলাম না।
যেদিকে যাই সেদিকেই বাঙ্গালীদের উপর চোখ রাখি। সুযোগ পেলে ভাব জমিয়ে একটু খুঁড়াখুঁড়ি শুরু করলেই সবার অন্তর থেকে হাহুতাশ বেরিয়ে আসে-আমি সুখে নেই। প্রায় সবাই একই কথা বলেন-দু/চারটা বছর কষ্ট করে কিছু টাকা পয়সা জমা হলেই দেশে চলে যাব। এই দু/চারটা বছর আর কারও জন্যই শেষ হয় না।
এম,এ এবং এল,এল,বি পাস এক ভদ্রলোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুটপাতের মানুষদের ভিজিটিং কার্ড দিচ্ছিলেন।
জিজ্ঞাসা করলাম, দেশে ভাল আইনজীবী ছিলেন। আমেরিকা এসে এই ভিজিটিং কার্ড ভেটে কি মনে তৃপ্তি মিলে?
ভদ্রলোক হাসলেন। বললেন, কি করব? বাচ্চা-কাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে এ দেশে পড়ে রয়েছি। ওদের জীবনটা প্রতিষটিত হলে বাঁচি।
জিজ্ঞাসা করলাম, এই ভিজিটিং কার্ড ভেটে কত পান?
ভদ্রলোক আবার হাসলেন, কত পাই দিয়ে কি হবে? একটা কিছু করে সময় পার করতে হয়। তাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে এই কাজটি করতে হচ্ছে।
আমি আর উনাকে ৩য় প্রশ্ন করিনি।
আরেকজনকে পেলাম একদিন। বয়সে আমার মতই যুবক। দেশের বাড়ি নরসিংদী। এয়ারপোর্ট যাবার জন্য M-60 বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ দেখা হয়ে গেল। আসলে আমার বকা খাওয়ার জন্যই ওর আমার সাথে দেখা হয়েছিল।
গুলগাল চেহারা দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম বাঙ্গালী ধনী পরিবারের ছেলে। বাসস্ট্যান্ডে ওঁ আমার পাশে এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, ভাই আপনি বাংলাদেশী?
বললাম হ্যাঁ। কিন্তু আপনি?
ওঁ বলল, আমি বাঙ্গালী।
আমি বললাম, সেতো দেখতেই পাচ্ছি। বাড়ি কোথায়?
বলল, নরসিংদী।
আমি বললাম, আমি সিলেটী।
যুবক কাচুমাচু করে বলল, আমি সিলেটে ছিলাম অনেকদিন।
আমার চোখকান সচল হল, সিলেটে কেন ছিলেন?
যুবক বলল, আমি সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে ৯৭ সালে S.Sc & ৯৯ সালে H.Sc পাশ করেছি।
আমি বললাম, এরপর?
ওঁ বলল, এরপর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এম,বি,বি,এস পাশ করে ২০০৮ সালে আমেরিকা এসেছি।
জিজ্ঞাসা করলাম, এখন কি করছেন?
ওঁ বলল, ডানকিন রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করি।
আমি শান্ত কণ্ঠে বললাম, এ কাজ না করে বাংলাদেশে যে কোন একটি হস্পিটেলে কম্পাউনডারের কাজ করলেও জীবনে বহু পুণ্যকাজ হত ভাই। আমার কথা শুনে ওঁ পালিয়েছিল। এ হল বাঙ্গালীদের হালচাল এখানে। অনেকে দেশের বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে দেশ থেকে এদেশে এসে নানা কারনে নিতান্ত অবহেলার কাজ করেই জীবন অতিবাহিত করছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি হরতাল আর মারামারি না থাকত ! পুলিশ আর মন্ত্রী এমপিদের কাছে যদি কেউ আপন আর কেউ পর না হত ! ঘোষ দুর্নীতিটা যদি দেশ থেকে উচ্ছেদ হয়ে যেত ! তবে অনেকেই আমেরিকা ছেড়ে দেশে আসার প্রস্তুতি নিতেন। সবাই এখানে সুখে থেকেও সুখে নেই এটা সত্য। অনেকেই চান দেশে গিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে। কিন্তু দেশের অস্তিতিশিল রাজনয়তিক পরিস্তিতির জন্য কেউই আর বাংলাদেশ্মুখি হতে চান না। এমনকি এরা দেশ নিয়ে ভাবতেও চান না। এর ফলে মেধাবী মানুষরা দূরে সরে যাচ্ছেন আর দেশ দিন দিন সাগরের তলায় তলিয়ে যাচ্ছে।

>> নিউইর্য়ক থেকে আজ সোমবার (11.08.14) ফেসবুকে এই স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন লেখক, ঐপন্যাসিক ও প্রকাশক সাইকুল)