সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সিলেটে ছোট ভুমিকম্পে বড় প্রাণহানীর আশংকা



1শাকির হোসাইন :

সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সিলেট নগরীর উন্নয়নে নেয়া হয়নি কোনো মহাপরিকল্পনা। ফলে অপরিকল্পিতভাবেই গড়ে উঠছে নতুন নতুন ভবন। স্থপতিবিদরা বলছেন, সিলেটের মতো ভূমিকম্পের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা এলাকার জন ̈  দধুত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি করে বিল্ডিংক কোড মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে। না হলে ছোট ভুমিকম্পেও ব্যাপক প্রাণহানির আশংকা রয়েছে। এদিকে, সারা দেশের জন ̈ বিল্ডিং রে ̧লেটরি অথরিটি গঠনের জন ̈ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা ও স্থপতি ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সিলেট মহানগরীর বাণিজি ̈ক ও আবাসিক এলাকার ভবন মালিকরা এক বা দোতলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে তাদের ইচ্ছেমতো বহুতল ভবন গড়ে তোলছেন। একতলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে তিনতলা ভবন, আবার দোতলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে গড়ে উঠছে তিন-চারতলা ভবন। এভাবেই নগরীতে অ ̄^াভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে অনুমোদনহীন বহুতলা ভবনের। নগরীর উপশহর, শিবগঞ্জ, মীরাবাজার, জেল রোড, সোবহানীঘাট, নয়াসড়ক, হাওয়াপাড়া, শাহী ঈদগাহ, আম্বরখানা, চৌকিদেখি, হাউজিং এস্টেট, মীরের ময়দান, সুবিদ বাজার, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া, শেখঘাট, লামাবাজার, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, কাজিরবাজার, কালীঘাট বাণিজ্যিক এলাকায় শতাধিক ভবন রয়েছে অনুমোদনের অতিরি৩ তলাবিশিষ্ট। একইভাবে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা বহুতল ভবনের সংখ ̈া হবে প্রায় দ্বিগুণ।

এছাড়াও মহানগরীর বাইরে শহরতলিতেও গড়ে উঠছে আরও কয়েকশ ভবন, যার অধিকাংশই যথাযথ কর্ত…পক্ষের অনুমোদনμমে নির্মিত হয়নি। যত্রতত্র গড়ে ওঠা অ ̈াপার্টমেন্ট আর বহুতল বিপণিবিতানে ইট-কাঠের নগরীতে পরিণত হয়েছে সিলেট। অনেক ক্ষেত্রে জলাশয় ও খেলার মাঠ ভরাট করে, টিলা ও বনভূমি কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে ভবন। ফলে বিপর্য ̄’  হচ্ছে পরিবেশ। এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের জন ̈ একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি এখন খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের স১ে⁄২ পরামর্শμমে তা চূড়ান্ত করা হবে।

সিলেট ফায়ার বিধগেড এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক এরফান আলী বলেন, সিলেট নগরীতে ভবন নির্মাণে কোনো নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছেনা। যত্রতত্র গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। ফলে নগরীতে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণে মারাত্মক বেগ পেতে হয়। আর ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের প্রাক…তিক দুর্যোগ হলে তো রক্ষা নেই।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন ̈ নাগরিক (সুজন) সিলেট এর সম্পাদক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে যেসব ভবন নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হয়নি সে ̧লোকে চিহ্নিত করে অতি দধুত ব ̈ব ̄’া নিতে হবে। ঘটনা ঘটার আগে ব ̈ব ̄’া না নিলে পরে প ̄Íাতে হবে বলেও মন্তব ̈ তাঁর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা ও  ̄’পতি ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, সিলেট অঞ্চলে সবচে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ১৮৯৭ সালের ১২ ই জুন। সেসময়ে আজকের মতো এত ভবন না থাকায় প্রানহানীও  ছিল কম। শত বছর পর এখন মেগা সিটিতে পরিনত হয়েছে সিলেট। প্রায় ৫০ হাজার ভবন গড়ে তোলা হয়েছে এই নগরীতে। এর মধে ̈ পাঁচশরও অধিক রয়েছে বহুতল ভবন। তিনি বলেন, বিল্ডিং কোড মেনে ভবন তৈরি না হওয়ায় ভুমিকম্পে এখানে ব ̈াপক প্রাণহানীর আশংকা রয়েছে। যেসব ভবন ইতিমধে ̈ ভুমিকম্প সহনীয় করে বানানো হয়নি সেসব ভবনকে পুননির্মাণের আওতায় এনে ভুমিকম্প সহনীয় করার কথাও বললেন দেশের খ ̈াতিমান এই প্রকৌশলী। সারা দেশের জন ̈ বিল্ডিং রে ̧লেটরি অথরিটি গঠনের জন ̈ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কাজ চলছে বলেও জানান প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী।

এ বিষয়ে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ঠেকাতে এবং বিল্ডিং কোড দেখভাল করতে দক্ষ প্রকৌশলীদের নিয়ে শীঘধই একটি কমিটি গঠন করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব ̈ব ̄’া নেয়া হবে। তিনি ড.জামিলুর রেজা চৌধুরীর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তাঁর সহযোগিতা চেয়েছেন বলেন জানান।