শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সুনামগঞ্জ শহরের ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একাধিকবার চুরি



index-30সুনামগঞ্জ শহরের তিনটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বছরে ২/৩ বার চুরি সংঘটিত হচ্ছে। শহরবালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হয়েছে একাধিকবার। এতে শিক্ষকেরা মানসিকভাবে বিপর্যস্থসহ বিদ্যালয়ের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এই বিদ্যালয়গুলোতে নৈশপ্রহরী না থাকার ফলে অহরহ চুরি সংঘটিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যালয় ম্যানিজিং কমিটির সদস্যরা।
শহরের রাজগোবিন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবার দিবাগত রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদর মডেল থানার পুলিশ।
জানা যায়,সোমবার বিকালে পাঠদান শেষে বিদ্যালয়ে প্রবেশের কলাপসিবল গেইটে তালাবদ্ধ করে যান শিক্ষকেরা। পরদিন মঙ্গলবার সকালে এসে তাঁরা দেখতে পান বাগানের স্টিলের বেড়া কেটে নেয়া, ওয়াস ব্লকের তালা ভাংগার চিহ্ন এবং বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের কলাপসিবল গেইটের তালা ভাংগার চেষ্টায় হাতুরির বাড়াবাড়িতে গেইট বাঁকা করে ফেলাসহ নানা আলামত। এই ঘটনার বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে সদর মডেল থানায় জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় চুরির ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। এ বছর জানুয়ারিতে জানালায় স্থাপিত কাঁচ ভাঙচুর, গত বছর নভেম্বর মাসে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের কলাপসিবল গেইটের তালা ভাঙার চেষ্টা, ২০১৪ সালেও বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে চুরি সংঘটিত হয়। সোমবার দিবাগত রাতে আবারও চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, শহর বালিকা সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার খানম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে পিয়ন (এমএলএসএস) পদ আছে কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ নেই। কিন্তু দপ্তরী কাম নাইগার্ড পদ নেই। তাই নিয়োগও নেই। ফলে প্রতি বছর বিদ্যালয়ে দুই তিন বার চুরি সংঘটিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের বেশ ক্ষতি হয়।’ এমন বক্তব্যে একমত পোষণ করেন রাজগোবিন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাছমিনা বেগম চৌধুরী।
কেবি মিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা খাতুন বলেন, ‘নৈশ প্রহরী না থাকায় বছরে দুই তিন বার চুরি সংঘটিত হয়। গত বছরও চুরি হয়েছে আমার বিদ্যালয়ে। এতে বিদ্যালয়ের অনেক ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যেক ঘটনায় আমাদের জিডি করতে হয় থানায়।’
রাজগোবিন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আকরাম উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যালয়ে একাধিকবার চুরির ঘটনায় আমরা শংকিত। বার বার ক্ষতি হচ্ছে বিদ্যালয়ের। চুরি বন্ধ করতে বিদ্যালয়ে বাতির ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু এই বাতিগুলোও ঢিল ছুঁড়ে নষ্ট করে দেয়। এখন রাতে বাসায় ফেরার পথে একবার হলেও নজর রাখি। আশপাশের লোকজনকে বলে রাখি দেখাশোনা করার জন্য। এই বিদ্যালয়ে কোনো নৈশ প্রহরী নিয়োগ নেই, পদও নেই। ফলে প্রতি বছর এমন দুই তিনটি চুরির ঘটনা ঘটে থাকে।’