বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সুনামগঞ্জে ২০ জুলাই থেকে আবারো বৃষ্টিপাতের পূর্বাবাস




সোহানুর রহমান সোহান:
১০জুলাই থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার বন্যার ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি সুনামগঞ্জে বন্যায় কবলিত মানুষ। তার উপর আবারো সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে আগামী ২০জুলাই থেকে আবারো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যদি আবারো অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হয় তাহলে বন্যার আশংকা থেকে যায়। এর আগে গত ১৫জুন প্রথম দফা বন্যার কবলে পড়ে সুনামগঞ্জের মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান  বলেন, ১৯জুলাই পর্যন্ত খুব একটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।

তবে আবহাওয়া বলছে ২০জুলাই থেকে আবারো বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতিমাত্রায় যদি বৃষ্টি হয় তাহলে আবারো পানি বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান দ্বিতীয় দফার বন্যায় হাওরাঞ্চলে এখনো অনেক জায়গা পানি রয়ে গেছে। নদ-নদীর পানি কমে গেলেও হাওরের পানি খুব ধীর গতিতে নামছে। মানুষের বাড়ি আশে পাশে পানি থাকায় দুর্ভোগ এখনো রয়ে গেছে।

এদিকে দ্বিতীয় দফার বন্যায় দুদিন পর জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই শাল্লা ও জগন্নাথপুরে বন্যা দেখা দেয়। নদ-নদীর পানি নেমে গেলেও হাওরে বেশী পানি থাকায় হাওর এলাকার বেশীর ভাগ গ্রামে এখনো পানি রয়ে গেছে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে এখনো ৮০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। এই উপজেলার হাজার থেকে ১৫’শ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। । যদিও এর থেকে আরো অনেক বেশী মানুষ এই উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা শরিয়তপুর গ্রামের মো. আহাদ মিয়া (৭০) জানান, দুই দফার বন্যায় বাড়ি ঘরে কোমর পানি হয়ে আছে। কোনমতে কলার ডিঙ্গি বানিয়ে বাড়িতেই পড়ে আছেন। কেউ এসে খবরও নেয় না। তিনি বলেন আজ সকালে দুই তিনজন ছেলে এসে কিছু চাল ডাল দিয়ে গেছে।
একই গ্রামের সুরতুন্নেছা (৬০) বলেন, আমরা সাওরো বাসাই গেলেও কেউ আয় না, একটু দেখে না। আমরা কই যামু কি খামু কেউ দেখে না। পানি আমরার ঘরো অখনো রইছে, আল্লায় জাননই কোন দিন এই পানি যাইবো।

সুনামগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী কর্মী মো. আম্মার বলেন ‘আজকে আমরা আমাদের নিজেদের এবং এক বড় ভাইয়ের দেয়া কিছু টাকা নিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে গেছিলাম ত্রাণ দিতে। গিয়ে দেখি গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখনো অনেক মানুষের ঘরে পানি, কারো আবার বাড়ির উঠানে পানি। মানুষ খেয়ে না খেয়ে পানি নিয়েই ঘরে পড়ে আছেন। এই দৃশ্য দেখে খুব খারাপ লেগেছে। আমরা সবাইকে দিকে পারিনি। তারপরও বেশী ক্ষতিগ্রস্ত দেখে আমরা দিয়েছি। যদিও সবারই সাহায্য লাগবে। আমি সবাই কে বলবো যে যার জায়গা থেকে সহায়তার হাত বাড়াবেন।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী জানান, জেলায় বন্যা হওয়ার কিছু দিন পরে এই উপজেলায় আঘাত হানে। তবে বন্যা দু’দফা হলেও আমরা সামাল দিয়েছি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও খাবার আছে আমরা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ ও শুকè খাবার দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত ৮০০ পরিবার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তৈরী করা খাবার ও শুকè খাবার দিচ্ছি। জেলা প্রমাসনের পক্ষ থেকে ২ মেট্রিক টন চাল আমাদের উপজেলায় আগে থেকেই আরো মেট্রিকটন চাল ছিল আমরা সেই গুলি দিচ্ছ। আর নগদ ৭৫হাজার টাকাও আমরা প্রয়োজন

একই ভাবে দিরাই, শাল্লা ও জগন্নাথপুর উপজেলায় দুই দিন পর বন্যায় আঘাত হানে। এই তিন উপজেলাও বন্যার পানি এখনো থাকায় বন্যার পানির সাথে লড়াই করে মানুষ টিকে আছেন। তবে দূর্গতি পোহাচ্ছেন কয়েক রাখ মানুষ।

তবে সীমান্ত এলাকা তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারে নদী তীরবর্তি এলাকা থেকে পানি কিছুটা নেমে গেছে তবে হাওর এলাকায় পানি একই অবস্থায় আছে।

এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন বন্যায় দুর্গতদের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে একযোগে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, এপর্যন্ত সুনামগঞ্জে মোট ৩৫২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রত্যেক আশ্রয় কেন্দ্রে সরকার থেকে প্রাপ্ত জিআর চাল, নগদ টাকা এবং করোনা সচতেনতায় মাস্ক, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে ত্রাণ সহায়তা করেছেন। এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সুনামগঞ্জের জন্য আরো বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় বন্যায় জেলায় প্রায় ১লাখ ৭হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮৬৫ মেট্রিকটন চাল, ৪৭ লক্ষ ৭০ হাজার নগদ টাকা এবং ১হাজার ৯০০ প্যাকেট খাবার, ২লাখ টাকার শিশু খাদ্য এবং ২লাখ গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা যত দিন থাকবে তত দিন মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথাও জানানো হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

গত ১৯দিন ধরে বন্যার পানি সড়কের উপরে থাকায় জেলার সুনামগঞ্জ সদর, সাথে তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও জামালগঞ্জ এবং ছাতক উপজেলার সড়ক যোগাযোগ এখনো বিছিন্ন রয়েছে।